Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'মমতা চান না গোর্খারা শান্তিতে থাকুন, অধিকার ফিরে পান', দার্জিলিংয়ে ভিডিওবার্তা অমিত শাহেরগ্রাহকের পকেট বাঁচাতে ভারি খেসারত দিচ্ছে তেল কোম্পানিগুলি! প্রতিদিন লোকসান ১,৬০০ কোটিরইচ্ছেশক্তির বারুদে আগুন ধরাল ধোনির পেপ টক! নাইটদের বিঁধে দুরন্ত কামব্যাক নুর আহমেদেরময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসকে হত্যার প্রধান আসামিকে ১ বছরের অন্তর্বর্তী জামিন, কাঠগড়ায় বিচারপতিশয়তান বা কালু বলে আর ডাকা যাবে না! স্কুলের খাতায় পড়ুয়াদের নতুন পরিচয় দিচ্ছে রাজস্থান সরকার‘পাশে মোল্লা আছে, সাবধান!’ এবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ তৃণমূলেরWest Bengal Election 2026: বাম অফিসে গেরুয়া পতাকা! মানিকচকে চরম উত্তেজনা, থানায় বিক্ষোভ বামেদেরপয়লা বৈশাখে শুটিং শুরু, যিশুর কামব্যাক—‘বহুরূপী ২’ কি ভাঙবে সব রেকর্ড?‘কেকেআরের পাওয়ার কোচ রাসেল ২৫ কোটির গ্রিনের থেকে ভাল!’ আক্রমণে টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন তারকাবিহারে আজ থেকে বিজেপি শাসন, রাজনীতির যে‌ অঙ্কে পদ্মের মুখ্যমন্ত্রী আসলে নীতীশেরই প্রথম পছন্দ

চার রকমের টিকায় কাবু হবে করোনার নতুন স্ট্রেন, সংক্রমণের লক্ষণ কী কী, বিস্তারিত বললেন বিশেষজ্ঞ

সঞ্জীব আচার্য কর্ণধার সিরাম অ্যানালিসিস করোনার ভ্যাকসিন বন্টন শুরু হয়ে গেছে দেশে। শনিবার থেকে প্রথম দফায় টিকাকরণ শুরু হয়ে যাবে। ভ্যাকসিনের ডোজ পড়লেই সংক্রমণের হার আরও কমে যাবে বলেই আশা দেশবাসীর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) যদিও বলেছে, টি

চার রকমের টিকায় কাবু হবে করোনার নতুন স্ট্রেন, সংক্রমণের লক্ষণ কী কী, বিস্তারিত বললেন বিশেষজ্ঞ

শেষ আপডেট: 15 January 2021 09:59

সঞ্জীব আচার্য

কর্ণধার সিরাম অ্যানালিসিস

করোনার ভ্যাকসিন বন্টন শুরু হয়ে গেছে দেশে। শনিবার থেকে প্রথম দফায় টিকাকরণ শুরু হয়ে যাবে। ভ্যাকসিনের ডোজ পড়লেই সংক্রমণের হার আরও কমে যাবে বলেই আশা দেশবাসীর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) যদিও বলেছে, টিকা নিলেই যে এ বছর হার্ড-ইমিউনিটি তৈরি হবে, তেমনটা নয়। তবে সংক্রমণজনিত জটিল রোগের প্রাদুর্ভাব অনেকটাই কমবে। এবারে যে প্রশ্নটা মাথা চাড়া দিয়েছে, তা হল করোনার নতুন স্ট্রেন কি ভ্যাকসিনে কাবু হবে? ফাইজার, মোডার্না, অক্সফোর্ড সহ বিভিন্ন ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা ও রিসার্চ ইউনিটগুলির দাবি, ভ্যাকসিন এমনভাবে বানানো হয়েছে যা করোনার সুপার-স্প্রেডার জিনও নষ্ট করতে পারে। বিশেষত, ডিএনএ ভ্যাকসিন, আরএনএ প্রযুক্তিতে তৈরি ভ্যাকসিন, অ্যাডেনোভাইরাসকে ভেক্টর হিসেবে ব্যবহার করে তৈরি ভ্যাকসিন, ইনঅ্যাকটিভ ভ্যাকসিন ইত্যাদিন ছোঁয়াচে স্ট্রেন নির্মূল করার ক্ষমতা রাখে। ফাইজার তো বলেই দিয়েছে, এই টিকায় কাজ না হলে করোনার নতুন স্ট্রেন নষ্ট করার মতো এমআরএনএ (মেসেঞ্জার আরএনএ)টিকা তারা কম দিনেই বানিয়ে ফেলতে পারবে। এখন দেখে নেওয়া যাক, এই নতুন স্ট্রেন আসলে কী, কতটা সংক্রামক, কীভাবে ভ্যাকসিনে নষ্ট হতে পারে।

১৭ রকম মিউটেশন হয়েছে করোনার নতুন স্ট্রেনে

মিউটেশন মানে হল জিনের গঠনের রাসায়নিক বদল। জেনেটিক মিউটেশন হয়েছে মানে জিনের গঠন বিন্যাস বদলে গেছে। করোনার নতুন স্ট্রেনেও জিনের গঠন বিন্যাস বদলে গেছে। ব্রিটেন থেকে এই নতুন স্ট্রেন ছড়িয়েছে। প্রথম দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে এই মিউট্যান্ট স্ট্রেনের খোঁজ মিলেছিল। পরে গোটা ব্রিটেনেই ছড়িয়ে পড়ে। এখন পৃথিবীর আরও কয়েকটা দেশে ছড়িয়েছে এই নতুন স্ট্রেন। ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা, নতুন স্ট্রেনের জিনোম সিকুয়েন্স (জিনের বিন্যাস) করে বলেছেন, এর নাম বি.১.১.৭ ( B.1.1.7) । বৈজ্ঞানিক নাম VUI–202012/01। এই ভাইরাল স্ট্রেনের নাকি ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা খুব বেশি। কারণ মানুষের শরীরে ঢুকলে খুব দ্রুত এসিই-২ (ACE-2) রিসেপটর প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। Coronavirus mutated, new strain more aggressive: Research দুই ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। প্রথম মিউটেশনকে বলা হচ্ছে N501Y। এটি এক ধরনের মিউটেশন যেখানে দেহকোষের রিসেপটর প্রোটিনের ACE-2 সঙ্গে ভাইরাসের স্পাইক (S) প্রোটিনের জোট বাঁধার ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। দ্বিতীয়ত, ৬৯-৭০Del মিউটেশন। মানে হল স্পাইক প্রোটিনের ভেতরেই সবচেয়ে বেশি বদল ঘটিয়েছে ভাইরাস। স্পাইক প্রোটিন অসংখ্য অ্যামাইনো অ্যাসিড দিয়ে তৈরি। যার মধ্যে ৬৯ ও ৭০ নম্বর অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোড একেবারে মুছে দিয়েছে ভাইরাস। সহজ করে বলতে হলে, স্পাইক প্রোটিনের ভেতরে দুটি অ্যামাইনো অ্যাসিডের অস্তিত্বই মিটিয়ে দিয়েছে। এর কারণ একটাই, মানুষের দেহকোষের রিসেপটর প্রোটিনকে ফাঁকি দিয়ে ঝপ করে কোষের ভেতরে ঢুকে পড়া। গবেষকরা এমনও বলছেন যে, ১৭ রকমের বদল হয়ে ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের চেহারাই নাকি বদলে গেছে।

শরীরে নতুন স্ট্রেন ঢুকেছে? কী কী লক্ষণ দেখে বুঝবেন?

ব্রিটেন ফেরত বিমানে ভারতে আসা যাত্রীদের শরীরেও করোনার মিউট্যান্ট স্ট্রেন খুঁজে পাওয়া গেছে। এখনও অবধি ১০২ জনের শরীরে নতুন স্ট্রেন পাওয়া গেছে। কলকাতা চারজন সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। কী কী লক্ষণ দেখে সতর্ক হতে হবে— Coronavirus Symptoms: Fever, muscle pain, cough and more; new study reveals order of COVID symptoms | Read here করোনা সংক্রমণের সব উপসর্গই থাকতে পারে। আবার রোগী অ্যাসিম্পটোমেটিক বা উপসর্গহীনও হতে পারে। তবে সাতটি মূল লক্ষণ দেখে সতর্ক হতে হবে, যেমন—অবসাদ, খিদে কমে যাওয়া, তীব্র মাথা যন্ত্রণা, পেট খারাপ, মানসিক বিভ্রান্তি, পেশির ব্যথা, ত্বকে জ্বালাপোড়া ব্যথা বা র‍্যাশ। লন্ডনের কিংস কলেজের গবেষকরাও বলেছেন, এই উপসর্গগুলি দেখা গেলেই বুঝতে হবে ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। আর যদি বিদেশ ভ্রমণ করে থাকেন, তাহলে লালারসের নমুনার জিনোম সিকুয়েন্স করিয়ে নিতে হবে। কারণ, নতুন স্ট্রেন অনেক সময়েই রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্টে ধরা পড়ে না। Covid new strain symptom: Gut microbiome could directly effect symptoms of COVID-19 | Express.co.uk

চার রকম ভ্যাকসিনেই নির্মূল হবে নতুন করোনা

এখনও অবধি যে সমস্ত ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হয়েছে বা বাজারে এসেছে তাদের মধ্যে চার রকমই নতুন স্ট্রেনের প্রতিষেধক হতে পারে। এই চার ধরন হল—গোটা ভাইরাস নিয়ে তৈরি ভ্যাকসিন, শুধুমাত্র ভাইরাসের কিছু অংশ (মূলত স্পাইক প্রোটিন) নিয়ে তৈরি ভ্যাকসিন, ভাইরাল ভেক্টর (নিষ্ক্রিয় অ্যাডেনোভাইরাস) ও নিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ ও আরএনএ) থেকে তৈরি ভ্যাকসিন। Towards effective COVID‑19 vaccines: Updates, perspectives and challenges (Review) সম্পূর্ণ ভাইরাস (Whole Virus) নিয়ে তৈরি ভ্যাকসিন দু’রকম হয়। প্রথমত, আস্ত ভাইরাসকে দুর্বল করে তার থেকে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করা হয়। এই ভ্যাকসিন শরীরে ঢুকলে ভাইরাল স্ট্রেন প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে, কিন্তু কোনও সংক্রামক রোগ ছড়াতে পারে না। দ্বিতীয়ত, ভাইরাসের জিনের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে ভ্যাকসিন তৈরি হয় যা শরীরে ঢুকলে প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে না। তবে ইমিউন সিস্টেমকে চাঙ্গা করে তোলে। দুরকম ভ্যাকসিনেরই কাজ হল শরীরের বি-কোষ ও টি-কোষকে সক্রিয় করে ইমিউন রেসপন্স বা রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলা। ভাইরাসের প্রোটিন (Protein Subunit) (করোনার ক্ষেত্রে স্পাইক প্রোটিন) আলাদা করে ল্যাবরেটরিতে বিশেষ উপায় বিশুদ্ধ করে ভ্যাকসিন তৈরি হয়। যেহেতু সংক্রামক প্রোটিন দিয়ে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট তৈরি হয় তাই এর সঙ্গে অ্যাডজুভ্যান্ট বা ইমিউনো মডুলেটর যোগ করা হয়। অ্যাডজুভ্যান্ট প্রোটিনের খারাপ গুণগুলো ঢেকে দেয়। ভ্যাকসিনের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে দেয় না। The Top 5 COVID-19 Vaccine Candidates Explained নিউক্লিক অ্যাসিড (Nucleic Acid) থেকে তৈরি ভ্যাকসিন দুরকম—ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড) ভ্যাকসিন ও আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড)ভ্যাকসিন। আরএনএ বা মেসেঞ্জার আরএনএ নিয়ে ভ্যাকসিন তৈরি করেছে আমেরিকা মোডার্না ও ফাইজার। ফাইজার জানিয়েছে আরএনএ-র বিন্যাসকে কাজে লাগিয়েই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট  BNT162 তৈরি হয়েছে, যে কোনও সংক্রামক প্যাথোজেনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করতে পারবে। এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট তৈরির জন্য সার্স-কভ-২ ভাইরাসের সংক্রামক আরএনএ স্ট্রেন স্ক্রিনিং করে আলাদা করে প্রথমে ল্যাবরেটরিতে বিশেষ উপায় পিউরিফাই করা হয়েছে। এই পর্যায়ে ভাইরাল স্ট্রেনকে এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয় যাতে শরীরে ঢুকলে তার সংক্রামক ক্ষমতা কমে যায়। এই নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল আরএনএ স্ট্রেন তখন কোষে ঢুকে প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে না। অথচ এই জাতীয় ভাইরাল স্ট্রেনের খোঁজ পেলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে বি লিম্ফোসাইট কোষ বা বি-কোষ। নিজেদের অজস্র ক্লোন তৈরি করে রক্তরসে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে শুরু করে।  অ্যান্টিবডি বেসড ইমিউন রেসপন্স বা অ্যাডাপটিভ ইমিউন রেসপন্স  (Adaptive Immune Response)  তৈরি হয় শরীরে। Nigeria Starts Vaccines Production 2017 - Market Digest Nigeria মোডার্নার টিকাও ঠিক একইভাবে কাজ করবে বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। এমআরএনএ সিকুয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে তৈরি এই ভ্যাকসিনের নাম এমআরএনএ-১২৭৩ (mRNA-1273)।  এই ভ্যাকসিন মানুষের দেহকোষে ঢুকে করোনাভাইরাসের মতো প্রোটিন তৈরি করার নির্দেশ দেবে। সেই প্রোটিনের বাইরে খোলসটা হবে ঠিক সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনের মতোই। অথচ করোনার মতো অতটা সংক্রামক নয়। দেহকোষ তখন এমন ধরনের প্রোটিন দেখে তার প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি করবে। ভাইরাল ভেক্টর (Viral Vector) নিয়ে ভ্যাকসিন তৈরি করেছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি-অ্যাস্ট্রজেনেকা। ভারতে সেই ফর্মুলাতেই কোভিশিল্ড টিকা তৈরি করেছে পুণের সেরাম ইনস্টিটিউট। ভেক্টর মানে হল আলাদা কোনও ভাইরাসকে আধার হিসেবে ব্যবহার করে ভ্যাকসিন তৈরি করা। অক্সফোর্ড শিম্পাঞ্জীর শরীর থেকে সর্দি-কাশির ভাইরাস অ্যাডেনভাইরাসের স্ট্রেন নিয়ে তাকেই ভেক্টর হিসেবে ব্যবহার করেছে। এর ভেতরে করোনার স্ট্রেন পুরে চ্যাডক্স টিকা তৈরি হয়েছে। যেহেতু অন্য ভাইরাসের আড়াল আছে তাই করোনার স্ট্রেন সরাসরি কোষে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারবে না। অথচ ইমিউন সিস্টেমকে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে বাধ্য করবে। কাজেই আমাদের দেশে যে কোভিশিল্ড টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়া হবে আর দুদিন পরেই, তা শরীরে যথেষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারবে বলেই আশা গবেষকদের।

```