দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়েদের জন্য সব চেয়ে বেশি বিপজ্জনক জায়গা কোনটা? তার নিজের ঘর।
এ কথা জানাচ্ছে খোদ রাষ্ট্রপুঞ্জের সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট। ওই রিপোর্ট বলছে, সারা পৃথিবীতে যত মহিলার মৃত্যু হয়, তার একটি বড় কারণই হল গার্হস্থ্য হিংসা।
দু'দিন আগেই প্রকাশিত হয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের ‘অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম’-এর রিপোর্ট। তাতে প্রকাশিত হয়েছে, শেষ কয়েক বছরে সারা পৃথিবীতে যত সংখ্যক মহিলাকে হত্যা করা হয়েছে, তার অর্ধেকেরও বেশি ঘটেছে ঘরের লোকের দ্বারা। আর বিশ্ব জুড়ে পরিবারের সদস্যের হাতে অথবা নিজের সঙ্গীর হাতে প্রতি দিন খুন হওয়া মহিলার গড় সংখ্যা ১৩৭।
যেখানে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের যৌন হেনস্থার প্রতিবাদে সারা বিশ্ব সরব হয়েছে, পথেঘাটে নারীসুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রস্তাব উঠছে দুনিয়ে জুড়ে, মহিলাদের সমান অধিকারের দাবি প্রকট হচ্ছে রোজ, সেখানে সব চেয়ে বেশি অন্ধকার জমে আছে ঘরেই। সব চেয়ে বেশি ঘুণ ধরে আছে পরিবারব্যবস্থাতেই। অন্তত তেমনটাই বলছে রাষ্ট্রপুঞ্জ।
ওই রিপোর্টে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে, ২০১৭ তে যত মহিলা হত্যার ঘটনা ঘটেছে, তার প্রায় ৫৮ শতাংশ ক্ষেত্রেই নিহতরা নিজের কাছের লোকের হাতেই খুন হয়েছেন। গত বছর নথিভুক্ত হওয়া মহিলা হত্যার সংখ্যা ৮৭ হাজার। এর মধ্যে ৫০ হাজার ঘটনাতেই হত মহিলার সঙ্গী অথবা পরিবারের অন্যান্য সদস্যই খুনি হিসেবে চিহ্নিত। এই ৫০ হাজারের মধ্যে আবার ৩০ হাজার মহিলাকে মরতে হয়েছে প্রেমিক বা স্বামীর হাতে। আর পরিবারের লোকের হাতে প্রাণ গিয়েছে ২০ হাজার মহিলাকে। যার অর্থ, সারা বিশ্বে, প্রতি ঘণ্টায় অত্যন্ত পরিচিত কারও হাতে খুন হতে হচ্ছে অন্তত ছ’জন মহিলাকে। সরকারি সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপুঞ্জ এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনেছে।
সমীক্ষা বলছে, সারা পৃথিবীতে যত হত্যার ঘটনা ঘটে, তার মধ্যে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই নিহত হন পুরুষ। কিন্তু মহিলা হত্যার ক্ষেত্রে যে ভয়াবহ সত্যিটা প্রকাশ পেয়েছে, পুরুষের ক্ষেত্রে তেমনটা হয় না। মহিলাদের ক্ষেত্রে তার নিজের ঘর, নিজের পরিবারই সব চেয়ে বেশি বিপজ্জনক-- জানালের সমীক্ষার দায়িত্বে থাকা এক কর্তা। তিনি আরও বলেছেন, “এই ঘটনা প্রমাণ করে, ঘরোয়া ক্ষেত্রে চূড়ান্ত লিঙ্গবৈষম্য থেকে গিয়েছে।” সমীক্ষায় এ-ও ধরা পড়েছে, আফ্রিকা এবং আমেরিকার মহিলাদের ক্ষেত্রে কাছের মানুষের থেকে বিপদ ঘটার আশঙ্কা সব চেয়ে বেশি।
তবে ২০১৭ সালে পরিবার বা ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর হাতে মহিলাদের এভাবে খুন হওয়ার ঘটনা সব চেয়ে বেশি ঘটেছে এশিয়ায়। রাষ্ট্রপুঞ্জের মতে, সংখ্যাটা মোট ২০ হাজার। এই সূত্রে ব্রিটেনের একটি সাইট জানিয়েছে, নেহা চৌধুরি নামে বছর আঠেরোর একটি ভারতীয় মেয়ের কথা। যাকে ১৮ তম জন্মদিনেই পরিবারের 'সম্মান রক্ষার্থে' খুন হতে হয় বলে সন্দেহ। পরিবার সে অভিযোগ মানতে নারাজ। দায়ের হয়নি খুনের অভিযোগও। ওই সাইটে দাবি, এই ধরনের হত্যার ঘটনা সব সময় নজরে আসে না, কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা নথিভুক্ত হয় না।
রাষ্ট্রপুঞ্জের ‘অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম’ রিপোর্ট প্রকাশের পরে বলেছে, এ সমস্যার সমাধানে পুরুষদেরও সামিল করতে হবে, শৈশব থেকে এ বিষয়ে সচেতন করা দরকার। মহিলাদের বিরুদ্ধে হিংসার ঘটনা কমানোর জন্য বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নিয়েও অবস্থার তেমন কোনও উন্নতি হয়নি। এ কথা জানানো হয়েছে সমীক্ষার আয়োজকদের তরফ থেকেই। দেশের পুলিশ, প্রশাসন, আইন, স্বাস্থ্য-- এই সমস্ত পরিষেবা সহযোগিতার বাড়ালে এই অপরাধ কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ।