৩৩ বছরের মেয়র পদপ্রার্থী এই তরুণের সঙ্গে রয়েছে গভীর বলিউড যোগ।

শেষ আপডেট: 25 June 2025 21:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডের ধাঁচে, শাহরুখের মতো হাত ছড়িয়ে শহরের রাস্তায় ভোটের আর্জি, এ দৃশ্য বিরল। মুখে হিন্দি সিনেমার সংলাপ, বাংলায় কথাও বলছেন। সবমিলিয়ে পথচলতি মানুষদের কাছে এ বেশ মনোগ্রাহী ব্যাপারস্যাপার।
হবে না-ই কেন! ৩৩ বছরের মেয়র পদপ্রার্থী এই তরুণের সঙ্গে রয়েছে গভীর বলিউড যোগ। মা যে তাঁর বিখ্যাত পরিচালক মীরা নায়ার। জন্মসূত্রে তিনি গুজরাতি মুসলিম। উগান্ডায় জন্ম হলেও ৭ বছর বয়স থেকে নিউইয়র্কের পাকাপাকি বাস। পড়াশোনা থেকে রাজনীতি এই মাটিতেই।
Zohran Mamdani will probably become the new mayor of New York City
This was his campaign video especially made for the people from indian subcontinent. Look at the creativity and boldness 👌
pic.twitter.com/tmhAKuQ1gd— Dhruv Rathee (@dhruv_rathee) June 25, 2025
অনলাইনে ডেটিং অ্যাপে আলাপ সিরিয়ান শিল্পী রামা দোয়াজির সঙ্গে। জমিয়ে প্রেম, তারপর যথারীতি বিয়ে।
এ তো গেল তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়, রাজনীতির ময়দানে তাঁর যাত্রা কিন্তু বেশ অন্যরকম।
মাত্র কয়েক মাস আগেও ৩৩ বছর বয়সি জোহরান মামদানি তথা নিউ ইয়র্ক রাজ্য অ্যাসেম্বলির এই সদস্যের পরিচিতি সীমিত ছিল মূলত কিছু রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু আজ, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে পরাজিত করেছেন বহু পরিচিত, অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী প্রতিদ্বন্দ্বীকে।
নিউইয়র্কের আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া, চড়া শিশু পরিচর্যা খরচ এবং দিন দিন বেড়ে চলা জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েই তিনি তৈরি করেছেন এক শক্তিশালী ভোটার জোট—যার কেন্দ্রবিন্দুতে শ্রমজীবী মানুষ, অভিবাসী পরিবার এবং পরিবর্তনের আশায় বুক বাঁধা তরুণ প্রজন্ম।
জোহরানের বিপরীতে রাজনীতির দাবায় পোক্ত খেলোয়াড় অ্যান্ড্রুও কুওমো। নামকরা এই ব্যক্তিত্ব নিউইয়র্কের প্রাক্তন গভর্নরও। কিন্তু যৌন হেনস্তা বিতর্কে কলঙ্কিত অতীত এবং ভোটারদের সঙ্গে নতুন সংযোগ গড়ে তুলতে ব্যর্থতা তাঁকে পিছনে ফেলে দেয়। মামদানির সংগঠিত ও তরুণ প্রজন্ম-ভিত্তিক প্রচার অভিযানও এখানে বিশাল ভূমিকা পালন করেছে।
ভোট গণনার সময় ৯৩% ব্যালট গণনা শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, মামদানির ঝুলিতে ৪৩.৫% ভোট, যেখানে কুওমো পেয়েছেন ৩৬.৪%। যদিও ভোটের চূড়ান্ত গণনা এখনও বাকি, কিন্তু মামদানি নিজের জয় ঘোষণা করেছেন এবং কুওমোও ইতিমধ্যে তাঁকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
মামদানির জয় যদি নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত টিকে থাকে, তবে তিনি হবেন নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র। এ এক নজিরবিহীন ঘটনা হতে চলেছে। ট্রাম্পের আমেরিকায় মুসলমান বিদ্বেষের মাঝে জোহরানের এই উত্থান আশার জায়গা বলেই মনে করছেন অনেকে।
জোহরান মামদানি নিউ ইয়র্কের রাজনীতিতে বিরল এক স্বর। ফিলিস্তিনের প্রতি সহানুভূতিশীল, স্পষ্টভাষী এবং বিতর্কিত হলেও নিজ অবস্থানে অবিচল। তিনি “বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট, স্যাংশনস (BDS)” আন্দোলনের প্রকাশ্য সমর্থক, এবং বলেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত।
এই বক্তব্য ভোটারদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করলেও, মামদানি বারবার স্পষ্ট করেছেন—"জায়নবাদের সমালোচনা মানেই ইহুদিবিদ্বেষ নয়।" তিনি বলেছেন, নির্বাচিত হলে তিনি ঘৃণাজনিত অপরাধ দমনে বাজেট বৃদ্ধি করবেন এবং নিউইয়র্কে সব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
সব বিতর্ক ছাপিয়ে মামদানির প্রতি সমর্থন এসেছে মূলত কাজের মানুষ, অভিবাসী পরিবার এবং তরুণ ভোটারদের কাছ থেকে—যারা চান একটি সামাজিকভাবে ন্যায়সঙ্গত, বেশি সাম্যবাদী নিউ ইয়র্ক।
বহুত্ববাদ, রাজনৈতিক সততা এবং এক নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব—এই তিন শক্তিকে সামনে রেখে মামদানির উত্থান কেবল একটি রাজনৈতিক প্রার্থিতার গল্প নয়, বরং নিউইয়র্ক শহরের আগামী নেতৃত্বের দর্শনের ইঙ্গিত।