বিশ্ব ব্যাঙ্কের হিসাব অনুযায়ী, ওই সংঘর্ষে লেবাননের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার। পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১ বিলিয়ন ডলার, যা লেবাননের দেউলিয়া অর্থনীতি ও ইরানের নিষেধাজ্ঞা-পীড়িত আর্থিক অবস্থার পক্ষে কার্যত অসম্ভব।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 20 June 2025 20:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের উপর ইজরায়েল (Israel Iran news) যখন ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তখন উল্লেখযোগ্যভাবে এক গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তি কার্যত নীরব! দক্ষিণ লেবাননের হিজবুল্লাহ(Hezbollah) — যারা বহুদিন ধরে ইরানের (Iran) সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ এবং শক্তিশালী মিত্র বলে পরিচিত — এখন পর্যন্ত এই সংঘাতে কোনও সক্রিয় সামরিক ভূমিকা নেয়নি। অথচ আগে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লেই ইজরায়েলের বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠত এই গোষ্ঠী।
তাহলে এবার চুপ কেন হিজবুল্লাহ (Hezbollah)?
বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে হিজবুল্লাহর যুদ্ধক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ২০২৪ সালে ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষে তাদের বহু কমান্ডার মারা গেছেন, ধ্বংস হয়েছে একাধিক সামরিক ঘাঁটি ও অস্ত্রাগার। দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা ও বৈরুতের কিছু অংশে ইজরায়েলি ড্রোন ও বিমান হামলায় কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল।
বিশ্ব ব্যাঙ্কের হিসাব অনুযায়ী, ওই সংঘর্ষে লেবাননের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার। পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১ বিলিয়ন ডলার, যা লেবাননের দেউলিয়া অর্থনীতি ও ইরানের নিষেধাজ্ঞা-পীড়িত আর্থিক অবস্থার পক্ষে কার্যত অসম্ভব।
সরকারের চাপে পাল্টে যাওয়া কৌশল
লেবাননের নতুন টেকনোক্র্যাট সরকার, যার নেতৃত্বে আছেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম ও প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন, প্রকাশ্যে জানিয়েছেন— দেশকে যেকোনওভাবে আঞ্চলিক যুদ্ধ থেকে দূরে রাখতে হবে। একাধিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, হিজবুল্লাহও লেবানিজ সেনার কাছে বার্তা পাঠিয়েছে, তারা আপাতত সংঘাতে নামছে না।
আন্তর্জাতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা
হিজবুল্লাহর নীরবতার পিছনে রয়েছে আমেরিকার কড়া হুঁশিয়ারি। ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ দূত থমাস ব্যারাক সম্প্রতি বৈরুত সফরে এসে হিজবুল্লাহ ঘনিষ্ঠ স্পিকার নাবিহ বেরির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানান— যদি হিজবুল্লাহ সংঘাতে নামে, তা হবে ‘খুবই ভুল সিদ্ধান্ত’। একইসঙ্গে ইজরায়েলি ড্রোন ও বিমান হামলার আশঙ্কায় হিজবুল্লাহর যুদ্ধ-প্রস্তুতি ও মোতায়েন সীমিত হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, গত বছরের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের স্মৃতি এখনও টাটকা লেবানিজ নাগরিকদের মনে। তাই জনগণের বড় অংশও চায় না দেশ আবার যুদ্ধে জড়াক।
মুখে তীব্র বার্তা, মাঠে নীরবতা
তবে সামরিকভাবে নিষ্ক্রিয় হলেও, কথার মারপ্যাঁচে হিজবুল্লাহ এখনও ইরানের পাশে। সম্প্রতি একটি ভাষণে হিজবুল্লাহ নেতা শেখ নাইম কাসেম বলেন, “ইরান আত্মরক্ষার অধিকার রাখে। যারা সত্যের পক্ষে, তারা ইরানের সঙ্গে থাকবে।” একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আমেরিকা শুধু ইরানের পরমাণু শক্তিকে নয়, তাদের আদর্শগত অবস্থানকেই ভয় পায়। তিনি ইজরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়াতেও হুঁশিয়ারি দেন, “এই আগ্রাসনের ফল হবে মারাত্মক। প্রতিশোধ আসবেই।”
সাময়িক নাকি কৌশলগত?
বিশ্লেষক কাসিম কাসিরের মতে, হিজবুল্লাহর এই নিস্ক্রিয়তা আপাতত কৌশলগত। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তারা নিজেদের অবস্থান বদলাতেও পারে।
এই মুহূর্তে যুদ্ধ না করলেও হিজবুল্লাহর অস্তিত্ব ঠিকই টের পাচ্ছে ইজরায়েল ও আমেরিকা। কারণ, পশ্চিম এশিয়ার যেকোনও আগুনে যদি ইরান দগ্ধ হয়, হিজবুল্লাহকে সেই আগুনে নামতেই হবে— অন্তত তেহরানের হিসেব এমনটাই বলে। এখন দেখার, এই অপেক্ষাকৃত শান্ত গোষ্ঠী কতদিন নীরব থাকে।