ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দিল আমেরিকা। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের হুঁশিয়ারি—আজ রাতেই ইরানের উপর হতে পারে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 10 March 2026 22:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের (Iran war) বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দিল আমেরিকা (Us attack))। যুদ্ধের ছায়া ক্রমশ দীর্ঘতর হওয়ায় বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি সংকট বাড়ছে এবং ঘরোয়া রাজনীতিতে প্রবল চাপের মুখে পড়ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসন, তখন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন, ইরানের উপর এদিনই হতে পারে মার্কিন বাহিনীর সবচেয়ে বড় ও তীব্র হামলা হবে। তাঁর কথায়, “আজ ইরানের ভিতরে সবচেয়ে বেশি যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান এবং আক্রমণ চালানো হবে।”
ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হেগসেথ দাবি করেন, এই যুদ্ধে আমেরিকা ইতিমধ্যেই বড় সাফল্য পেয়েছে এবং ইরানের সামরিক শক্তি দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবে যুদ্ধ কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা তিনি জানাননি। তাঁর বক্তব্য, যুদ্ধের গতি ও সমাপ্তির সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা কঠোর বার্তা দিয়েছে। দেশের শীর্ষ নেতা আলি লারিজানি এক বার্তায় বলেন, শক্তিশালী বহু শক্তি অতীতে ইরানকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। যারা সেই চেষ্টা করেছে, তারাই শেষ পর্যন্ত ইতিহাস থেকে মুছে গেছে।
ইরান বরাবরই দাবি করে এসেছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। তবে গত বছর মার্কিন হামলায় ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পারমাণু ঘাঁটি ধ্বংস হয়ে যায় বলে দাবি করেছিলেন ট্রাম্প।
এই যুদ্ধের জেরে পশ্চিম এশিয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি তেল রিজার্ভারে হামলা চালিয়েছে এবং স্ট্রেট অব হরমুজ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহণ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।
ট্রাম্প ইতিমধ্যেই সতর্ক করে বলেছেন, যদি ইরান তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে “আগুন ও ধ্বংসের” মুখে পড়তে হবে।
যুদ্ধ নিয়ে ইজরায়েলেরও নিজস্ব কৌশল রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন হেগসেথ। তাঁর কথায়, ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালালেও সেটি সবসময় আমেরিকার মূল লক্ষ্য নয়। তবে এই সংঘাতে ইজরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী মিত্র হিসেবেই কাজ করছে।
এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম এশিয়ায় ১৭০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনি-র মৃত্যুর খবরও ইতিমধ্যে সামনে এসেছে।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে।