এদিকে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে। সোমবার সংসদে হামলার পরই আন্দোলন আরও রক্তক্ষয়ী হয়। মঙ্গলবার কাঠমান্ডু-সহ একাধিক শহরে কার্ফু জারি হয়েছে। বন্ধ হয়েছে স্কুল।

টানা দ্বিতীয় দিনে রাস্তায় নেমে আসা জনতার ক্ষোভ রূপ নিয়েছে হিংসায়।
শেষ আপডেট: 9 September 2025 16:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা (Social Media Banned) ও দুর্নীতির (Scam) অভিযোগ ঘিরে শুরু হওয়া বিক্ষোভে তীব্র রক্তপাতের পরে পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী ওলি (Nepal PM Resigns)। টানা দ্বিতীয় দিনে রাস্তায় নেমে আসা জনতার ক্ষোভ রূপ নিয়েছে হিংসায়। আন্দোলনের কেন্দ্রে থাকা জেন-জি (Gen Z) প্রজন্মের কণ্ঠরোধে পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন, কয়েকশো মানুষ জখম।
অভিযোগ আরও ভয়ঙ্কর। নেপালের প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা (Nepal Social Media Influencer) জানাচ্ছেন, নিহতদের মধ্যে বহু স্কুল পড়ুয়া রয়েছে, যাদের ইউনিফর্ম গলানো গা গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছে।
মিস নেপাল আর্থ ২০২২ সারিশা শ্রেষ্ঠার দাবি, ‘‘স্কুল ইউনিফর্ম পরা পড়ুয়াদেরও গুলি করা হয়েছে, হাসপাতালেও হামলা চালিয়েছে পুলিশ,’’ তাঁর বক্তব্য, ‘‘যা একসময় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ছিল, তা পরিণত হল জাতির জন্য হৃদয়বিদারক বিপর্যয়ে।’’
অন্য আরেক ইনফ্লুয়েন্সার রুথ খড়কা সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ‘‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের, বেশিরভাগই স্কুল পড়ুয়া, গুলি করে মারা হয়েছে। বাড়িতে ঢুকে ধর্ষণ করা হচ্ছে মেয়েদের, কারণ তাঁরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছে। রাবার বুলেটের নামে চালানো হয়েছে আসল গুলি। যারা রক্ষা করার কথা, তারাই মৃত্যু বিলোচ্ছে।’’
টিকটক নির্মাতা দৃৃষ্টি অধিকারী বলেছেন, বেশিরভাগ বিক্ষোভকারী নিরস্ত্র ছিলেন। কিন্তু তাঁদের ওপর চালানো হয়েছে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট, তারপর সরাসরি গুলি। তিনি লেখেন, ‘‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটেছে। শিশুরা যেখানে উপস্থিত, সেখানে কখনওই প্রাণঘাতী গুলি চালানো যায় না।’’
এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে এক ভিডিও, যেখানে নিজেকে চিকিৎসক দাবি করা এক মহিলা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ নাকি হাসপাতালে ঢুকে রোগীদের গুলি করেছে। তাঁর ক্ষোভ, ‘‘হাসপাতাল শান্তির জায়গা, নিরাপদ জায়গা। সেখানে কেমন করে গুলি চালানো হল?’’
এদিকে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে। সোমবার সংসদে হামলার পরই আন্দোলন আরও রক্তক্ষয়ী হয়। মঙ্গলবার কাঠমান্ডু-সহ একাধিক শহরে কার্ফু জারি হয়েছে। বন্ধ হয়েছে স্কুল। আন্দোলনকারীরা আগুন ধরিয়ে দেন নেপালের নেতা মন্ত্রীদের বাড়িতে।
প্রথমে ফেসবুক-টিকটক নিষিদ্ধকরণের প্রতিবাদে পথে নেমেছিল মানুষ। কিন্তু সেই আগুনে ঘি ঢালে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অসন্তোষ, দুর্নীতি আর শাসকদলের প্রতি আস্থা হারানো জনতার ক্ষোভ। আর সেই আন্দোলনই এখন নেপালের রাজনীতিকে ঠেলে দিয়েছে অস্থিরতার গভীর খাদে।