
একাধিক বিমান বাতিল
শেষ আপডেট: 21 August 2024 10:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাপানের হোক্কাইডোর নিউ চিতোসে বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক বিমান যাত্রীদের অনেকের কাছেই অত্যন্ত পরিচিত। বছরে দু কোটি যাত্রী চলাচল করে এই বিমানবন্দর দিয়ে। যাত্রী পরিবহণের মাপকাঠিতে এই বিমানবন্দর বিশ্বের দ্বিতীয়তম স্থানে আছে।
সেই ব্যস্ততম বিমানবন্দর প্রায় অর্ধেক দিন বন্ধ থাকল। বাতিল করতে হল ৩৬টি বিমানের যাত্রা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ছাড়ে ২০১টি বিমান। একটা সময় বিমানবন্দরে রানওয়ে ফাঁকা না থাকায় বহু বিমান অন্য বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দিতে হয়। যাত্রী ও গাড়ির ভিড় জমে যায় বিমানবন্দরের বাইরে।
ঘটনার মূলে দুটি কাঁচি। বিমানবন্দরের বোর্ডিং গেটের পাশের একটি স্টেশনারি দোকানের লোকেরা নিরাপত্তা রক্ষীদের জানান, তাদের দোকানে থাকা দুটি কাঁচি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যেগুলি তারা নিজেদের কাজে ব্যবহার করে থাকেন।
খবর পাওয়া মাত্র প্রথমেই সিকিউরিটি চেকের লাইনে দাঁড়ানো যাত্রীদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। নিরাপত্তার তল্লাশি হওয়া যাত্রীদের বলা হয় সিকিউরিটি জোন থেকে বেরিয়ে আসতে। উড়ানের অপেক্ষায় থাকা বিমানের যাত্রীদেরও নামিয়ে আনা হয়। তাদের নতুন করে সিকিউরিটি চেক করা হয়। একবারের জায়গায় দু-তিনবার করে চেক করা হয়। পরের বিমানের যাত্রীদের বার্তা পাঠিয়ে বলা হয় বিমানবন্দরে না আসতে।
নিরাপত্তা বাহিনীর লোকেদের সন্দেহ হয় কোনও জঙ্গি গোষ্ঠীর লোকেরা কাঁচি দুটি হাতিয়েছে নাশকতার উদ্দেশে। তারা বিমানবন্দরে কিংবা বিমানের মধ্যে কোনও অঘটন ঘটানোর ছক কষেছে। ফলে একটা সময় সিদ্ধান্ত হয়, যে নিরাপত্তা কর্মী যারা যাত্রীদের দেহ তল্লাশি করছেন তাদেরও সিকিউরিটি চেক করা হবে। কারণ, বিমানবন্দরের কর্মীরা অনেকেই বোর্ডিং গেট লাগোয়া দোকানটিতে যান।
প্রায় গোটা দিন কাঁচির খোঁজ করার পর সেগুলি পাওয়া যায় সেই দোকানটিতেই। বিমানবন্দর সূত্রে জানানো হয়, দোকানের এক কর্মচারী নিরাপত্তার কারণেই দোকান সাময়িক বন্ধ রাখার সময় কাঁচি দুটি নিরাপদ জায়গায় রেখে বাড়ি চলে যান। পরে যিনি দোকান খোলেন তিনি কাঁচি দুটি নির্দিষ্ট জায়গায় দেখতে না পেয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের বিষয়টি জানান। আর তারপরই যাত্রী সুরক্ষার কারণে তল্লাশি শুরু হয়। চলে যাত্রী দুর্ভোগ।
তবে যাত্রীরা তাতে বিরক্ত নন। বরং যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে দুটি কাঁচির সন্ধানে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যে কঠোর পদক্ষেপ করে তাতে তারা খুশি। বিশ্ব জুড়ে বিমানবন্দরের সুনাম বেড়ে গিয়েছে। কারণ, বিমানযাত্রায় নিরাপত্তার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। তারমধ্যে অন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জাপানের ব্যস্ততম বিমানবন্দরটি।