
শেষ আপডেট: 9 January 2024 01:14
ভারতের অত টাকা নেই যে আর্থিক সাহায্য করবে, তাই চিনকে নিয়ে চলতেই হবে। ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বন্ধু সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও, তাঁদের চিন-নীতি স্পষ্ট করলেন বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রী ডঃ এ কে আব্দুল মোমেন।
রবিবার বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের নির্বাচন হয়েছে। তার পর সন্ধে থেকে গণনা শুরু হওয়ায় যে ফলাফল দেখা গিয়েছে, তাতে চতুর্থ বারের জন্য বাংলাদেশে জাতীয় সরকার গঠন করতে চলেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামি লিগ।
সোমবার ঢাকায় দ্য ওয়ালের প্রতিনিধির মুখোমুখি হয়েছিলেন বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রী (বাংলাদেশে বলা হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী)। চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধু-সম্পর্কের কোনও উদ্বেগজনক দিক রয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে ডঃ মোমেন বলেন, “এটা পুরোপুরি অমূলক আশঙ্কা। তাঁর কথায়, আমাদের দেশের সঙ্গে সব দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। উন্নয়নের পথে চিন আমাদের সঙ্গী। তাঁরা আমাদের প্রযুক্তিগত নানা সাহায্য করছে। কারণ আর কেউ টাকা পয়সা নিয়ে আসে না। পশ্চিমের দেশগুলো এখন শুধু উপদেশ দেয়, নয়তো সতর্ক করে। আর ভারতের অত টাকা নেই যে আমাদের সাহায্য করে।”
উপ মহাদেশের চিনের আধিপত্যবাদ নিয়ে নয়াদিল্লির মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বে এবং লাদাখে চিনা সেনার আগ্রাসন যে কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে তা সাম্প্রতিক ঘটনাতেও পরিষ্কার। এই অবস্থায় পড়শি বাংলাদেশে চিনা প্রভাব নয়াদিল্লির জন্য ইতিবাচক নয় বলে মনে করেন ভারতীয় কূটনীতিকরা।
তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এদিন বোঝাতে চান, চিনের থেকে আর্থিক সাহায্য নিলেও বাংলাদেশ তাদের খপ্পরে পড়ে যাচ্ছে এমনটা ভাবা ভুল হবে। তাঁর কথায়, “চিনের ঋণ নীতির ব্যাপারে আমরা খুবই সজাগ। এ পর্যন্ত আমরা চিনের থেকে জিডিপির মাত্র এক শতাংশ নিয়েছি। বাংলাদেশ এমন ভুখা নয় যে সাহায্য নিতে নিতে চিনের খপ্পরে পড়ে যাবে।”
ভারতের অনেক পরে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিদেশনীতি স্বাধীন ও সাবালক হবে সেটাই দস্তুর। অর্থাৎ তাঁদের বিদেশ নীতি তৃতীয় কারও উপর নির্ভরশীল হবে না। এদিন বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রী সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। সেই কারণেই সম্ভবত সবার সঙ্গে বন্ধুত্বের কথা বলেছেন।
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের নির্বাচনের ফলাফলে এটা নিশ্চিত হয়ে গেছে যে হাসিনাই আগামী পাঁচ বছর গণভবনে থাকছেন। নয়া মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশের উন্নয়নই যে হাসিনার পাখির চোখ তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মন্ত্রিসভায় তাঁর সহযোদ্ধা। এবং সে জন্য যে চিনের হাত যে ছাড়া যাবে না সে কথাই বুঝিয়ে দিলেন তিনি।