'জামা কার্ডিওলজি' (JAMA Cardiology) জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় ১০,০০০ মহিলার ওপর কয়েক দশক ধরে নজর রাখা হয়েছিল। গবেষক দলের প্রধান ডাঃ প্রিয়া ফ্রেনি জানিয়েছেন, ৪০-এর আগে মেনোপজ হওয়া মানে সেই মহিলার আয়ুর অর্ধেকের বেশি সময় তখনও বাকি। এই দীর্ঘ সময়ে ধমনীতে চর্বি জমে ব্লকেজ তৈরি হওয়ার (Coronary Heart Disease) সম্ভাবনা প্রবল থাকে। ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বাড়ে পাল্লা দিয়ে।

৪০-এর আগেই মেনোপজ হলে সাবধান হতে হবে
শেষ আপডেট: 21 March 2026 16:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়েদের জীবনে ঋতুনিবৃত্তি বা মেনোপজ একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু এই পরিবর্তন যদি সময়ের অনেক আগে চলে আসে? সাম্প্রতিক একটি গবেষণা দিচ্ছে ভয়ঙ্কর সংকেত। আমেরিকার নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিনের গবেষকরা জানাচ্ছেন, যে সমস্ত মহিলাদের ৪০ বছর বয়সের আগে 'প্রাকৃতিক মেনোপজ' (Natural Menopause) হয়ে যাচ্ছে, তাদের সারা জীবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মহিলাদের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
গবেষণায় কী ধরা পড়েছে?
'জামা কার্ডিওলজি' (JAMA Cardiology) জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় ১০,০০০ মহিলার ওপর কয়েক দশক ধরে নজর রাখা হয়েছিল। গবেষক দলের প্রধান ডাঃ প্রিয়া ফ্রেনি জানিয়েছেন, ৪০-এর আগে মেনোপজ হওয়া মানে সেই মহিলার আয়ুর অর্ধেকের বেশি সময় তখনও বাকি। এই দীর্ঘ সময়ে ধমনীতে চর্বি জমে ব্লকেজ তৈরি হওয়ার (Coronary Heart Disease) সম্ভাবনা প্রবল থাকে। ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বাড়ে পাল্লা দিয়ে।
কেন বিপদ ডেকে আনে অকাল মেনোপজ?
শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়াই হল এর মূল কারণ। ডাঃ ফ্রেনির মতে, ইস্ট্রোজেন কমে গেলে শরীরে বেশ কিছু ক্ষতিকর পরিবর্তন দেখা দেয়:
এই সবকটি কারণ মিলে খুব কম বয়সের মধ্যে হার্টের অসুখের ঝুঁকি বাড়ে।
আমাদের বিপদ কোথায়?
আমেরিকার এই গবেষণায় দেখা গেছে কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাদের মধ্যে অকাল মেনোপজের হার বেশি। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে চিত্রটা আরও উদ্বেগের।
উন্নত বিশ্বে মেনোপজের গড় বয়স ৫১ বছর হলেও, ভারতে এনএফএইচএস (NFHS)-এর তথ্য অনুযায়ী অনেক মহিলারই ৪৬-৪৭ বছরের মধ্যে ঋতুনিবৃত্তি ঘটে। একটি বড় অংশের মহিলার ক্ষেত্রে তা ৪০-এর আগেই হয়ে যায়। অত্যধিক মানসিক চাপ, অপুষ্টি এবং পরিবেশ দূষণের কারণে ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে 'প্রি-ম্যাচিউর ওভারিয়ান ফেইলিওর' বাড়ছে। এ দেশে মেনোপজকে কেবল স্ত্রী-রোগ সংক্রান্ত বিষয় হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এর সঙ্গে যে হার্টের গভীর সম্পর্ক আছে, সে বিষয়ে সচেতনতা নেই বললেই চলে।
কীভাবে রুখবেন এই ঝুঁকি?
ডাঃ ফ্রেনির পরামর্শ হল, অকাল মেনোপজকে শরীরের একটি 'আর্লি সিগন্যাল' বা আগাম সতর্কতা হিসেবে দেখা উচিত।
১. আপনার যদি ৪০-এর আগে মেনোপজ হয়ে থাকে, তবে হার্টের ডাক্তার বা কার্ডিওলজিস্টকে সেটি অবশ্যই জানান।
২. নিয়মিত রক্তচাপ, সুগার এবং লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করান।
৩. সাধারণ মানুষের তুলনায় আপনাকে হার্টের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে অনেক বেশি যত্নবান হতে হবে। নিয়মিত শরীরচর্চা ও সুষম খাবার অপরিহার্য
মেনোপজ কেবল গাইনিকোলজিক্যাল ইস্যু নয়, এটি পুরো শরীরের সিস্টেমকে প্রভাবিত করে। চিকিৎসকদের মতে, হার্টের অসুখ প্রতিরোধযোগ্য, কিন্তু তার জন্য চাই সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ। অকাল মেনোপজ হওয়া মহিলারা যদি শুরু থেকেই সচেতন হন, তবে এই বাড়তি ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.