টানা দুটো বিশ্বকাপ মিস করেছে ইতালি। এবার হাতছাড়া হলে ইতিহাসের কালো তালিকায় নাম উঠবে। এর আগে কোনও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দেশ পরপর তিনবার বিশ্বকাপে যেতে ব্যর্থ হয়নি।

গাত্তুসো
শেষ আপডেট: 25 March 2026 16:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৬০ হাজার দর্শকের বিশাল সান সিরো স্টেডিয়াম নয়, ইতালির বিশ্বকাপের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখার লড়াই আয়োজিত হবে মাত্র ২৫ হাজার আসনের ছোট মাঠে—বার্গামোর নিউ ব্যালেন্স অ্যারেনায় (New Balance Arena)। সিদ্ধান্তটা স্বয়ং কোচ জেনারো গাত্তুসোর (Gennaro Gattuso)। কারণটা অদ্ভুত শোনালেও একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো নয়।
ভয় নয়, বুদ্ধির খেলা
সান সিরোতে (San Siro) খেলতে না চাওয়ার কারণ হিসেবে গাত্তুসো বলেন, ‘ওই স্টেডিয়ামে ইন্টার ও মিলানের সমর্থকরা থাকে। দুটো ভুল পাস হলেই শুরু হয়ে যায় বিদ্রূপাত্মক হুইসেল!’ নিজের অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেন তিনি। ইতালির কোচ হিসেবে প্রথম ম্যাচ হয়েছিল সেপ্টেম্বরে, এস্তোনিয়ার (Estonia) বিরুদ্ধে। হাফটাইমে স্কোর ০-০। সেই রাতে সান সিরোতে দর্শকরা খেলোয়াড়দের দুয়ো দিয়েছিল।
তাই পরিবর্তে বার্গামো। বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ, এই মাঠও গাত্তুসোর চেনা। এস্তোনিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম খেলা এখানেই হয়েছিল। বোল-আকৃতির স্টেডিয়াম, চারদিক ঢাকা, উত্তরে খাড়া গ্যালারি। যে কারণে শব্দ আটকে থাকে, আওয়াজ হয় দ্বিগুণ। গাত্তুসো চাইছেন টেনশনে থমথমে নয়, উন্মাদনায় গনগনে পরিবেশ!
‘চাপের কথা রোজ বললে দম বন্ধ হয়ে যায়’
উত্তর আয়ারল্যান্ডের (Northern Ireland) বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে ইতালির কোচ খেলোয়াড়দের ঘাড়ে চাপ জমতে দিতে নারাজ। বললেন, ‘যারা এখানে রয়েছে, তারা সবাই জানে, এই ম্যাচ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। রোজ সেটা মনে করিয়ে দিলে দম বন্ধ হয়ে যায়। ওদের শান্তিতে খেলতে দাও!’ পাশাপাশি সংযোজন, ‘টিমে এমন খেলোয়াড় আছে, যারা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল খেলেছে, ইউরো জিতেছে। এরা চাপের ম্যাচ কীভাবে খেলতে হয় জানে। দরকার শুধু সঠিক মানসিকতা!’ পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে সম্মানও জানিয়েছেন তিনি। গাত্তুসোর কথায়, ‘ওরা প্রচুর দৌড়য়, সাহস নিয়ে খেলে। সেট পিসেও বিপজ্জনক। সাবধান থাকতে হবে!’
বিশ্বকাপের শেষ সুযোগ
টানা দুটো বিশ্বকাপ মিস করেছে ইতালি (Italy)। এবার হাতছাড়া হলে ইতিহাসের কালো তালিকায় নাম উঠবে। এর আগে কোনও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দেশ পরপর তিনবার বিশ্বকাপে যেতে ব্যর্থ হয়নি।
২৬ মার্চ নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে হারাতে পারলে পরের বাধা ওয়েলস বা বসনিয়া। সেটা পেরোলে ফিফা বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) টিকিট পাকা। গাত্তুসো আশাবাদী। বলছেন, ‘বৃহস্পতিবারের ম্যাচই এখন একমাত্র লক্ষ্য। বাকি সব অতীত!’ ছোট মাঠে বড় স্বপ্ন বুনতে আগ্রহী আজুরিদের কোচ। যা বুঝিয়ে দিচ্ছে, ইতালি এবার যে কোনও মূল্যে বিশ্বকাপে যেতে চায়।