ফিফার সিদ্ধান্ত আপাত লাভজনক মনে হলেও বিতর্কের আগুন আরও অনেক দিন ছড়াবে বলেই মনে হচ্ছে।
.jpeg.webp)
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো
শেষ আপডেট: 26 November 2025 12:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বকাপের আগে বড় শাস্তি এড়ালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে কনুই চালানোর ঘটনায় লাল কার্ড দেখার পর যে তিন ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছিল, ফিফা (FIFA) সেখানে নিয়ম ভেঙে বিরল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তিন ম্যাচের মধ্যে দুটি ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য ‘স্থগিত’ রেখেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। ফলে যে কারণে বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে খেলতে আর কোনও বাধা রইল না রোনাল্ডোর।
ফিফার শাস্তি–বিধিতে ‘প্রবিশনারি স্যাংশনে’র বিধান থাকলেও এত বড় শাস্তিতে তা প্রযোজ্য হওয়া খুবই বিরল। অথচ তাজ্জবের ব্যাপার, রোনাল্ডোর ক্ষেত্রে ঠিক সেটাই হয়েছে। ইতিমধ্যেই বাধ্যতামূলক এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা কাটিয়েছেন পর্তুগিজ তারকা—আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে ৯–১ স্কোরলাইনে জয়লাভের দিন। বাকি দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা আপাতত ঝুলছে। এই এক বছরের ‘পরীক্ষাকালে’ রোনাল্ডো যদি একই ধরনের অপরাধ করেন, তবে স্থগিত থাকা দুটি ম্যাচই সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে ফিফা।
এই সিদ্ধান্ত যে বিতর্ক ডেকে আনবে, তা সহজেই অনুমেয়ই। কারণ নভেম্বর মাসেই আর্মেনিয়া ও বুরুন্ডির দুই ফুটবলার আগ্রাসী আচরণের জন্য সরাসরি তিন ম্যাচ করে নিষিদ্ধ হয়েছেন—কোনও ‘সতর্কতা’ ছাড়াই। সেখানে রোনাল্ডো এমন ছাড় পেলেন কেন, তা নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা মেলেনি!
ঘটনাটা ঘটেছিল ডাবলিনে। আয়ারল্যান্ড ডিফেন্ডার ডারা ও’শিয়ার (Dara O’Shea) মুখ লক্ষ করে কনুই চালান রোনাল্ডো। ম্যাচ অফিসিয়াল বিষয়টিকে ‘গুরুতর নিয়মভঙ্গ’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। সাধারণত এর শাস্তি সোজাসাপটা: তিন ম্যাচ বহিষ্কার। কিন্তু বিশ্বকাপের ঠিক আগে সিদ্ধান্ত নরম হল কেন, তা নিয়েই সওয়াল উঠছে।
বিতর্ক আরও বেড়েছে অন্য কারণে। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump), সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন (MBS) এবং ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনোর (Gianni Infantino) সঙ্গে রোনাল্ডোর ওয়াশিংটন সফরের ছবি ভাইরাল হয়েছিল। সৌদি আরব, যেখানে রোনাল্ডো তিন বছর ধরে পিআইএফ মালিকানাধীন ক্লাবে খেলছেন, তারাই ২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজক। ঠিক এমন সময়ে রোনাল্ডোর শাস্তি ‘হালকা’ হওয়ায় নানা ব্যাখ্যা ঘুরছে ফুটবল মহলে।
ফিফা জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা সম্ভব। তবে কার আইনত অধিকার আছে আপিল করার—আয়ারল্যান্ড? নাকি ভবিষ্যতের প্রতিপক্ষ দল?—তা পরিষ্কার নয়।
এখন পর্তুগাল মার্চে দুটি প্রীতি ম্যাচ, জুনে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। ১১ জুন থেকে শুরু বিশ্বকাপ। রোনাল্ডো, যাঁর কাছে এটি হতে চলেছে রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, আপাতত চিন্তামুক্ত। দুনিয়ার চোখ এখন ৫ ডিসেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে। যেখানে অনুষ্ঠিত হবে ড্র—জানা যাবে পর্তুগালের গ্রুপ প্রতিপক্ষ কারা। এই পরিস্থিতিতে ফিফার সিদ্ধান্ত আপাত লাভজনক মনে হলেও বিতর্কের আগুন আরও অনেক দিন ছড়াবে বলেই মনে হচ্ছে।