পুরনো চ্যাট শো ‘ফুল খিলে হ্যাঁ গুলশন গুলশন’-এ সঞ্চালিকা তবস্সুমের সঙ্গে আলাপচারিতায় আবেগে ভেসে গিয়েছিলেন সুনীল। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “প্রিয়জন চলে গেলে মনে হয় বাঁচা যাবে না। কিন্তু তাও বাঁচতে হয়। আমি নিজেও জানি না, কীভাবে এখনও বেঁচে আছি।”
.png.webp)
এত ভালবাসা, তবু কষ্ট
শেষ আপডেট: 22 June 2025 18:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুধু অভিনেতা নয়, আদর্শ স্বামী হিসেবেও বলিউডে উদাহরণ সুনীল দত্ত। স্ত্রী নার্গিস দত্তের ক্যানসার ধরা পড়ার পর ১৯৮০ সালে তাঁর চিকিৎসার জন্য কোনও চেষ্টাই বাদ রাখেননি তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে আমেরিকায় ছিলেন দীর্ঘ চিকিৎসার সময়ে। কিন্তু সব চেষ্টার পরেও ১৯৮১-র মে মাসে মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নার্গিস।
পুরনো চ্যাট শো ‘ফুল খিলে হ্যাঁ গুলশন গুলশন’-এ সঞ্চালিকা তবস্সুমের সঙ্গে আলাপচারিতায় আবেগে ভেসে গিয়েছিলেন সুনীল। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “প্রিয়জন চলে গেলে মনে হয় বাঁচা যাবে না। কিন্তু তাও বাঁচতে হয়। আমি নিজেও জানি না, কীভাবে এখনও বেঁচে আছি।”
সেই শো'তেই সুনীল জানিয়েছিলেন, একজন পুরুষের সাফল্যের পেছনে যেমন একজন নারীর হাত থাকে, তেমনই পতনের পেছনেও থাকতে পারে। “ক্লিওপেট্রা বা হেলেন অব ট্রয়ের মতো অনেক উদাহরণ আছে। তবে আমি ভাগ্যবান ছিলাম, আমার জীবনে নারীরা ছিলেন আশীর্বাদ হয়ে,” বলেন তিনি। মা ও স্ত্রী, দুইজনের ভূমিকাই আলাদা করে উল্লেখ করেন তিনি। নর্গিসকে বলেন, “তিনিও ছিলেন দুর্দান্ত অভিনেত্রী ও খুব ভাল মানুষ।”
স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি নিজেকে ব্যস্ত রাখেন নার্গিসের তৈরি করা স্প্যাস্টিক বাচ্চাদের স্কুল ও ক্যানসার হাসপাতালে।
মেয়ে নম্রতা দত্ত একসময় বলেছিলেন, “মা’র মৃত্যুর পর বাবা যেন ভেঙে গিয়েছিলেন একেবারে। চুপচাপ থাকতেন, ঘুমোতে পারতেন না, কারও সঙ্গে কথা বলতেন না। মনে করতেন, তিনি ব্যর্থ—মাকে বাঁচাতে পারেননি।” বিচ্ছেদ-প্রেমভাঙার দুনিয়ায় নার্গিস-সুনীল যেন অনন্য উদাহরণ। তাঁদের প্রেমকাহিনী আজও চর্চিত।