দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময়টা
২০১৩ সালের জুন মাস। শোকের ছায়া নেমে আসে বি-টাউনে। শেষ হয়ে যায় একটি তাজা প্রাণ, যাঁর নাম জিয়া খান। ৩ জুন জুহুতে নিজের ফ্ল্যাটেই আত্মহত্যা করেছিলেন বলিউডের অভিনেত্রী জিয়া খান।
সবে কেরিয়ারের গ্রাফ উপরের দিক উঠতে শুরু করেছিল জিয়ার। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে 'নিঃশব্দ' এবং আমির খানের 'গজনি' ছবিতে অভিনয়ের পর 'হাউজফুল-৩' ছবিতেও দেখা গিয়েছিল জিয়াকে। কিন্তু আচমকাই নিজেকে শেষ করে দেন এই অভিনেত্রী। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে বলিউড অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চোলির ছেলে সূরজ পাঞ্চোলির। জানা যায়, সূরজের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল জিয়ার। আর সেই সম্পর্কের টানপোড়েনের জেরেই নিজেকে শেষ করে দিয়েছেন জিয়া। শুরু হয় তদন্ত।
সেই তদন্ত এখনও চলছে। মাঝে পেরিয়ে গিয়েছে দীর্ঘ সময়। একবারের জন্যেও মুখ খোলেননি অভিযুক্ত সূরজ। অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন তিনি। নিজের ২৮তম জন্মদিনে ইনস্টাগ্রামে লিখলেন একটি ইমোশনাল পোস্ট।
জন্মদিনে হাতে দু'টো মোমবাতি নিয়ে একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন সূরজ। জিয়া খানের মৃত্যু এবং তারপর তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনা প্রসঙ্গে নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন তিনি। নিজের পোস্টে লিখেছেন, "ভেবেছিলাম কেস শেষ হলেই সব বলবো। কিন্তু যে সময় লাগবে ভেবেছিলাম তার থেকে অনেকটাই বেশি সময় লাগছে। তাই অবশেষে মুখ খুললাম। জানি না কোথা থেকে শুরু করা উচিত। অনেকের ইমোশন জড়িয়ে থাকলে ঠিক বোঝা যায় না কীভাবে নিজের মনোভাব প্রকাশ করবো।" সূরয বলেন, "লোকেরা আমায় খুনি বলত। ক্রিমিনাল বলত। খুবই কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি আমি এবং আমার পরিবার। ধন্যবাদ তাঁদের যাঁরা প্রথম থেকে ধৈর্য ধরে আমার পাশে ছিলেন।"
https://www.instagram.com/p/Bp9FzMPgM0T/
সূরজ জানিয়েছেন, "গত ছ'বছর ধরে আদালতের যাচ্ছি। রোজ নিজের সঙ্গে নিজেই লড়ছি। তাও ধৈর্য আর সম্মান বজায় রেখে। এর মাঝেই শুনেছি আমি খুনি, আমি ক্রিমিনাল। নিজেকে বোঝাতাম, এসব উপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু আমার পরিবারের সদস্যরা সেটা পারতেন না। ভেঙে পড়তেন বারবার।" তবে তিনি জানিয়েছেন এসবের জন্য জনতাকে দোষ দেন না। বলেন, "আমায় যে ভাবে লোকের সামনে দেখানো হয়েছে লোকে আমায় সেভাবেই বুঝেছেন। কেউ জানতেই পারেননি আসলে আমি কী? কেউ বুঝতেও চাননি যে আমি দৈত্য নই, এত খারাপ মানুষ নই।"

খানিকটা ক্ষোভের সঙ্গেই এ দিন লিখেছেন, "আমি জানি কাউকে দোষী বলে দেওয়া খুব সহজ। আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। কোনও প্রমাণ ছাড়াই আমায় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার বক্তব্য কেউ শুনতেও চাননি। আমি যে নির্দোষ সেটা প্রমাণ করার সুযোগটুকুও আমায় দেওয়া হয়নি। শুধু ভিত্তিহীন কিছু অভিযোগ জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে আমার উপর।"
সবশেষে সূরজ বলেন, "মা-বাবা যেন আমার ব্যাপারে গর্ব অনুভব করেন। এটাই ছিল আমার স্বপ্ন। আজও আমি এই স্বপ্নই দেখি। নিজেকে বোঝাই। সবকিছু উপেক্ষা করে পিজিটিভ মনোভাব নিয়ে এগিয়ে চলার চেষ্টা করি। যখন সবে জীবনের মানে বুঝতে শুরু করেছিলাম তখনই আমার জীবনে নেমে এল এই কঠিন সময়। ধন্যবাদ তাঁদের সবাইকে যাঁরা আমার জীবনের এই কঠিন জার্নিতে আমার পাশে ছিলেন। আপনারা হয়তো জানেনও না, কিন্তু আপনাদের সবার প্রার্থনাই আমায় সাহায্য করেছে, শক্তি দিয়েছে।"