শাহরুখের বিপরীতে 'বাজিগর' করবেন কি না, দ্বিধায় ছিলেন কাজল। বাবার পরামর্শেই তৈরি হয় ইতিহাস।

'বাজিগর'
শেষ আপডেট: 3 August 2025 16:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন দশকের বলিউড যাত্রায় একের পর এক চেনা মুখে পরিণত হয়েছেন তিনি। কখনও 'সিমরন', কখনও 'মন্দিরা', কখনও বা 'অঞ্জলি' হয়ে জায়গা করে নিয়েছেন কোটি দর্শকের মনে। তবে এই পথটা একেবারেই সহজ ছিল না। বরং শুরুর দিকেই বাবার কাছ থেকে কড়া সাবধানবাণী পেয়েছিলেন কাজল। ‘মেকআপ একবার উঠলে, আর উঠবে না’—এটাই শুনেছিলেন বাবার মুখে।
এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে (Filmfare), ‘সরজমিন’-এর প্রচারে ব্যস্ত কাজল স্মৃতিচারণায় জানান, মাত্র ১৬ বছর বয়সে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু তাঁর বাবা, প্রযোজক-পরিচালক সোমু মুখার্জি তখন বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন। মেয়েকে সতর্ক করে বলেন, “তুমি আগে ভালো করে ভেবে নাও। একবার মেকআপ নিলে, সেটা কিন্তু আর সহজে উঠবে না।”
তখনকার কিশোরী কাজল নাকি রীতিমতো প্রতিবাদ করেছিলেন। বলেন, “আমি তো শিক্ষিত মেয়ে, আধুনিক চিন্তাভাবনার। যদি না করতে চাই, তো ছেড়ে দেব! কেউ আমায় বাধা দিতে পারবে না।”
![]()
তবে বাবার প্রভাব এখানেই শেষ নয়। পরবর্তী সময়ে শাহরুখ খানের সঙ্গে তাঁর অন্যতম ব্লকবাস্টার 'বাজিগর'-এর ব্যাপারেও প্রথমে অনিচ্ছুক ছিলেন কাজল। নিজেই বলেন, “আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না ছবিটা করব কি না। কী চরিত্র, কী গল্প—একটা ধোঁয়াশা ছিল। তখনই বাবা বললেন, করতেই হবে। জানতাম, বাবা আব্বাস-মাস্তানকে চিনতেন। ওঁরা ভাল পরিচালক। বাবা বলেছিলেন, এটা করলে ভবিষ্যতে অনেক কিছু হবে।”
কাজল বাবার কথা শুনেছিলেন। আর তাতেই বাজিমাত। ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বাজিগর’ শুধু সুপারহিট নয়, শাহরুখ-কাজলের জুটিকে দিয়েছিল বলিউডে স্থায়ী জায়গা। তৈরি হয়েছিল ইতিহাস। সোমু মুখার্জি প্রয়াত হন ২০০৮ সালের ১১ এপ্রিল, মুম্বইয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে।