টলিউডের অন্দরে ঘটে যায় কত শত টুকরো ঘটনা। সে সব গল্প যতটা স্মৃতিমেদুর ততটাই জীবন্ত তাঁর কাছে যে এই গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে। তেমনই এক গল্প শোনালেন অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়।

‘ব্যোমকেশ’ আবির।
শেষ আপডেট: 12 June 2025 15:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টলিউডের অন্দরে ঘটে যায় কত শত টুকরো ঘটনা। সে সব গল্প যতটা স্মৃতিমেদুর ততটাই জীবন্ত তাঁর কাছে যে এই গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে। তেমনই এক গল্প শোনালেন অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়। ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর নতুন ছবি ‘গৃহপ্রবেশ’-এর ট্রেলরের দিন আবির চট্টোপাধ্যায় শেয়ার করেন তেমনই এক গল্প। ৩০ মে ২০১৩ সালে চলে গিয়েছিলে ঋতুপর্ণ। আর এই তারিখেই এই বছর ইন্দ্রদীেপর ‘গৃহপ্রবেশ’-এর ট্রেলার মুক্তি পেল। গোটা ছবিতে কোনও না কোনও ভাবে জুড়ে গিয়েছেন ঋতুপর্ণ ঘোষ।
ইন্দ্রদীপ নিজেও বারবার বলেছেন, ‘এই ছবি ঋতুপর্ণ ঘোষকে উৎসর্গ করা হয়েছে, তাই উনি আমাদের ছবির সঙ্গে মিশে গিয়েছে। আবিরের সঙ্গে ঋতুপর্ণর সামসামনি মোলাকাতের গল্প শেয়ার করেন তিনি। আবির চট্টোপাধ্যায় তখন ‘ব্যোমকেশ’ হচ্ছেন। অঞ্জন দত্তর ‘ব্যোমকেশ’। এমন এক দিনে হঠাৎ করেই ‘ঋতুদা’র আগমন সেই সেটে। গোটা দিন ‘ঋতুদা‘ সাজিয়েছিলেন আবিরকে। ব্যোমকেশ’-এর চাদরের স্টাইলাইজেশন নিজের হাতে শিখিয়ে দিয়েছিলেন ঋতুপর্ণ ঘোষ। এমন এক ‘ব্রেকিং’ খবর দিয়েছিলেন আবির স্বয়ং।
অঞ্জন দত্তর ‘ব্যোমকেশ বক্সী’ আবিরের কেরিয়ারের একেবারে মোড় ঘোরানো ছবি। ‘ব্যোমকেশ’ আবিরকে দিয়েছিল নাম, যশ, খ্যাতি সব। কিন্তু ঠিক কীভাবে এই চরিত্রের প্রস্তাব তাঁর কাছে এল? তা কি জানেন? এমনই এক গল্প শোনালেন আবির স্বয়ং। এক জনপ্রিয় বাংলা টেলিভিশন শো-তে হাজির ছিলেন, আবির এবং পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সঞ্চালক শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। আর তখনই প্রসঙ্গ ওঠে আবিরের ‘ব্যোমকেশ’-এর ছবির অফার নিয়ে, কীভাবে এল সেই প্রস্তাব?’
আবির বললেন, ‘তখন ‘ক্রস কানেকশন’ শেষ হয়ে গিয়েছে। ছবির ডাবিং চলছে। একদিন ডাবিং করতে যাচ্ছি, দেখি অঞ্জন দত্ত কলিং। তখন ভাবছি, অঞ্জনদা ফোন করছেন, কী ব্যাপার! তুললাম, বলল, হ্যালে, আমি অঞ্জনদা বলছি। অঞ্জন দত্ত। বললান, হ্যাঁ, হ্যাঁ বলো। বললেন, ব্যস্ত? আমি তখন ভাবছি, এটার কী মানে, অঞ্জনদা ফোন করেছে, ব্যস্ত থাকলেও বলব ব্যস্ত আছি! আমি বলব না সেটা! খুব সংক্ষেপে যা বললেন, তা হল, একটা ছবির প্ল্যান করছেন, কী ছবি, সেটা উনি বলতে পারবেন না। পরের দিন দেখা করতে যেতে হবে।’
আবির বলতে থাকেন, ‘পরদিন সল্টলেকে অর্ঘ্যদার (অর্ঘ্যকমল মিত্র-এডিটর, ব্যোমকেশ) বাড়িতে গিয়েছি। আমাকে অঞ্জনদা বললেন, ‘তোমাকে একটি ডিজটার্ব করব, প্লিজ, প্লিজ’ তারপর আমায় একটা বাবু গেঞ্জি দেখিয়ে বলল, এটা একটু পরবে? তারপর বলল, অর্ঘ্য একটু চশমাটা দাও। একটা পুরনো ফ্রেমের চশমা। যখন আমি ওগুলো পরছি, তখন আমার ছবি মোবাইলে তোলা হচ্ছে। মাথায় এল, ক’দিন আগে খবরকাগজে পড়েছি, অঞ্জনদা ‘ব্যোমকেশ’ বানানোর প্ল্যান করেছে। আর কিচ্ছু না। অন্যদিকে ঋতুদাও (ঋতুপর্ণ ঘোষ) সে সময়ে প্ল্যান করছিল বুম্বাদাকে (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়) নিয়ে ব্যোমকেশ করছেন। তার একটা ফটোশুটও হয়েছিল। তারপর শুট হল, আমি আবার জামাকাপড় চেঞ্জ করে এলাম। তারপর অঞ্জনদা চোখে চোখে কথা বলছেন, অর্ঘ্যদার সঙ্গে। তারপর বললেন, ভালই লাগছে বলো, তারপর বললেন, আমার ভাবছি আবির, মে-জুনে যদি শুটিং করি...তখনও নাম বলছেন না, কোন ছবির শুটিং! তারপর দুম করে আমার সামনে ঝুঁকে এসে বলল, ‘ব্যোমকেশ, তুমি করবে?’ কোন আহাম্মক এটায় না বলবে? তারপর বললেন একটু কেক খাও! এটা ছিল প্রথম অফার!