Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
গীতা ও চণ্ডীতে যেভাবে নিজের স্বরূপ প্রকাশ করেছেন ভগবান৭ শতাংশ ফ্যাট, ৫০ শতাংশ পেশি! যে ডায়েট মেনে চলার কারণে রোনাল্ডো এখনও যন্ত্রের মতো সচলগুগল এখন অতীত, AI দেখে ওষুধ খাচ্ছেন মানুষ! বেশিরভাগ রোগ চিনতে না পেরে জটিলতা বাড়াচ্ছে চ্যাটবট 'ডাহা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে রাজ্য', সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছতেই ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষBasic Life Support: চলন্ত ট্রেনে ত্রাতা সহযাত্রীই! সিপিআরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন মহিলামহিলা বিল পেশ হলে রাজ্য অচলের ডাক স্ট্যালিনের, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কেন ষড়যন্ত্র বলছে ডিএমকে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ! উদ্দীপ্ত এমিরেটসের কতটা ফায়দা নিতে পারবে আর্সেনাল? দ্রুত রোগা হওয়ার ইনজেকশন শেষ করে দিচ্ছে লিভার-কিডনি? ভুয়ো ওষুধ নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসকরাপ্রথম দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামছে ৪০ হাজার রাজ্য পুলিশ, কোন জেলায় কত‘ভয় নেই, আমিও কারও বাবা...’ সব পুরুষ সমান নয় - বার্তা নিয়ে মুম্বইয়ের রাস্তায় ছুটে চলেছে এই অটো

বাংলা ছবির অভিভাবক ছবি বিশ্বাস, জন্মদিনে ফিরে দেখা কিংবদন্তির সফর

পড়াশোনা ও চাকরির পাট চুকিয়ে, নাট্যাচার্য শিশিরকুমার ভাদুড়ীর স্নেহস্পর্শ পাওয়ার পরে ছবি চলে আসেন পেশাদার নাট্যমঞ্চে।

বাংলা ছবির অভিভাবক ছবি বিশ্বাস, জন্মদিনে ফিরে দেখা কিংবদন্তির সফর

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস

শেষ আপডেট: 13 July 2025 16:47

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

ছবির মতো সুন্দর দেখতে ছিলেন বলে মা তাঁকে ডাকতেন 'ছবি' বলে। সেই নামেই পরিচিত হন পরে।
তিনি কিংবদন্তি অভিনেতা ছবি বিশ্বাস। আজ যাঁর জন্মদিন।

১৯০০ সালের ১৩ জুলাই উত্তর কলকাতার বাড়িতে ছবি বিশ্বাসের জন্ম হয়। 
পড়াশোনা ও চাকরির পাট চুকিয়ে, নাট্যাচার্য শিশিরকুমার ভাদুড়ীর স্নেহস্পর্শ পাওয়ার পরে ছবি চলে আসেন পেশাদার নাট্যমঞ্চে। স্টার থিয়েটারে তখন একের পর এক হিট তাঁর সব নাটক। 'ধাত্রীপান্না', 'মীরকাশিম', 'সিরাজউদ্দৌল্লা', 'কেদার রায়' থেকে শুরু করে 'দেবদাস', 'শাহজাহান', 'কাশীনাথ'-- সমস্ত নাটকে প্রধান ভূমিকায় উঠে এলেন ছবি বিশ্বাস।

ছবি বিশ্বাস এবং তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে প্রায় 250টি চলচ্চিত্র রয়েছে -  GetBengal গল্প

১৯৩৬ সালে 'অন্নপূর্ণার মন্দির' সিনেমায়, তিনকড়ি চক্রবর্তীর পরিচালনায় তাঁর প্রথম অভিনয়। এর পরে আর তাঁকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘অন্নপূর্ণার মন্দির’ বেশ হিট করে। ছবি বিশ্বাসও দর্শকদের নজর কাড়েন। এই ছবিটিই নরেশ মিত্র পরে রিমেক করলে ছবি বিশ্বাসের করা বিশু চরিত্রে অভিনয় করেন উত্তমকুমার। সঙ্গে সুচিত্রা সেন, সাবিত্রী, অনুপ কুমার, শোভা সেন।

নায়ক থেকে ক্রমেই ছবি বিশ্বাস হয়ে উঠলেন সিনেমার আইকনিক জাঁদরেল পিতা থেকে স্নেহময় শ্বশুর পর্যন্ত। যখন উত্তমকুমার নায়ক তখনও ছবি বিশ্বাস পর্দায় থাকা মানে সে সিনেমার আভিজাত্যই বেড়ে যেত। এমনকি তখনও তাঁকে মুখ্য ভূমিকায় রেখে নায়ক চরিত্রে ছবি বিশ্বাসকে নিয়ে 'শশীবাবুর সংসার', 'দাদাঠাকুর'-এর মতো কালজয়ী ছবি হয়েছে। ছবি বিশ্বাসের পূর্বপুরুষরা ছিলেন বারাসতের জাগুলিয়ার জমিদার। জমিদারি ঘুচে গেলেও রক্তে থেকে গিয়েছিল আভিজাত্যের সেই অহংকার। সেটাই প্রতিফলিত হত চরিত্রে।

ছবি বিশ্বাস ব্যারিস্টারির অভিনয় শিখেছিলেন ঋত্বিক ঘটকের কাছে

সত্যজিৎ রায় তাঁকে নিয়ে করেছিলেন 'জলসাঘর'। বিশ্বম্ভর রায় ছবি বিশ্বাসের নিজের জীবনেরই কথা যেন। এভাবেই একের পর এক ছবিতে মঞ্চ মাতাচ্ছিলেন ছবি। তার পরেই এল ১৯৬২ সালের এই তারিখটা, ১১ জুন। ছবি বিশ্বাস তখনও খ্যাতির মধ্যগগনে। সেদিন সপরিবারে নিজের গাড়ি করে রওনা দেন জাগুলিয়ার উদ্দেশে। সঙ্গে ছিল নাতি। এই প্রথম নয়, কলকাতা থেকে মাঝেমাঝেই গাড়ি নিয়ে নিজের সেই আদি বাড়িতে যেতেন ছবি বিশ্বাস।

১৯৬২-র ১১ জুন অ্যাম্বাসাডরে চেপে জাগুলিয়ার বাড়ি যাচ্ছিলেন ছবি। গাড়ি চালাচ্ছিল ড্রাইভার। কিন্তু কী হল ওঁর, হঠাৎই গাড়ি ড্রাইভ করার শখ হল নিজে। ড্রাইভ করতে ভালই জানতেন। কিন্তু ড্রাইভারই চালাত বেশিরভাগ। সেদিনের সেই ইচ্ছেই যেন ওঁর কাল হল।

ছবি বিশ্বাস : বাংলা চলচ্চিত্রের এক মহীরুহ : মনোজিৎকুমার দাস

দমদমের কাছে এসে উনি ড্রাইভারকে সরিয়ে নিজে অ্যাম্বাসাডর  চালাতে লাগলেন। ভালই চলছিল গাড়ি। হঠাৎ বিকেল তিনটে নাগাদ, বারাসত পার হয়ে মধ্যমগ্রামের কাছে ওল্ড যশোর রোডে পৌঁছতেই, উল্টো দিক থেকে আসা ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি ধাক্কা। পরে জানা গেছিল, ভ্যানগাড়িটির চাকা আচমকা খুলে যাওয়ায় সেটি ছিটকে এসে গাড়িতে ধাক্কা মারে। গাড়ির সকলে অলৌকিক ভাবে অক্ষত থেকে গেছিলেন, কেবল চালকের আসনের অংশটি তুবড়ে যায়। চালকের আসনে বসা ছবি বাবু স্পট ডেড।

আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল ছবি বিশ্বাসের নিথর দেহ। রক্তাক্ত, দুমড়ে গেছে। জনতার ঢল নেমে পড়ল আরজি কর হাসপাতালে। মোটে ৬২ বছর বয়সে চলে গেলেন অভিনেতা। ওঁর নাতি-সহ বাকি পরিবার বেঁচে গিয়েছিলেন সেদিনের দুর্ঘটনায়।

অভিনয়-আভিজাত্যের জলসাঘরে এক অনন্য 'ছবি' - জিয়ো বাংলা


ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মৃত্যুর পর মন্তব্য করেছিলেন,"ছবিদা চলে গেলেন। এ বার থেকে ব্যারিস্টারের চরিত্রগুলো কেটে মোক্তারের চরিত্র করতে হবে।" উত্তমকুমার বলেছিলেন, "ছবিদা নেই আমার আর ব্যারিস্টারের ছেলের অভিনয় করা হবে না।"

তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় তখন জানিয়েছিলেন, 'দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলেও কোনও ময়না তদন্ত বা কাটাছেঁড়া হবে না ছবি বিশ্বাসের। তাঁকে সসম্মানে বিদায় দেওয়া হবে। কারন তিনি ছবি বিশ্বাস। বাংলা সিনেমার রাজা। রাজার মতোই যাবেন তিনি।'


```