দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন এক অন্যতম কঠিন বছর। একের পর এক ইন্দ্রপতনের খবর আসছে বছর শুরুর পর থেকেই। অনেকেই আক্ষেপে বলছেন, এ বছর যেন দু'হাজার বিশ নয়, দু'হাজার বিষ! এমনিতেই করোনাভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কে ওলোটপালোট হয়ে গেছে গোটা বছর। তার উপর বলিউডেও যেন মৃত্যুমিছিল চলছে। রবিবার তরুণ অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুও এমনই এক হৃদয় বিদারক খবর। শোকে আচ্ছন্ন গোটা বলিউড।
তবে সুশান্ত একা নন। চলতি বছরে আমরা ইতিমধ্যেই হারিয়েছি ঋষি কাপুর, ইরফান খানকে। গত মাসে বলিউড হারিয়েছে তার প্রিয় সুরকার ওয়াজিদ খানকে। এখনও ৬ মাস পেরোয়নি এই বছরের। কিন্তু এটা বিশ্বাস করা কঠিন, যে এই ক'দিনেই মৃত্যুর সংখ্যা যেন আশ্চর্যজনক ভাবে বেশি। বাকি ৬ মাস কেমন কাটবে, সেই ভেবেই আতঙ্কিত সকলে।
এপ্রিল মাসের ২৯ তারিখে খবর আসে অভিনেতা ইরফান খানের মৃত্যুর। মারণ অসুখ করেছিল তাঁর, দীর্ঘদিন ধরে চলছিল চিকিৎসা। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে আচমকাই ঝড়ের মতো আছড়ে পড়েছিল ইরফানের অসুস্থতার খবর। অভিনেতা নিজেই জানিয়েছিলেন বিরল এবং জটিল রোগ নিউরোইন্ডক্রিন টিউমারে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। এরপর চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে পাড়ি দেন ইরফান। এর পরে দেশেও ফেরেন ইরফান। তার পরে ওই দিন আচমকাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় ইরফান খানের। তড়িঘড়ি অভিনেতাকে ভর্তি করা হয় মুম্বইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে। কোলনে সংক্রমণ নিয়ে আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন তিনি। সেখানেই মৃত্যু হয় অভিনেতার।
এত চেষ্টার পরেও মাত্র ৫২ বছর বয়সে মানুষটিকে হারিয়ে ফেলে শোকবিহ্বল হয়ে পড়েন সকলেই। সমস্ত মহলে উপচে পড়ে শোকবার্তা। চোখের জলে একসময়ের নায়ককে শেষ বিদায় জানায় বলিউড।
ঠিক একটা দিন পেরোতেই, ৩০ তারিখে চলে যান অভিনেতা ঋষি কাপুর। তাঁর ঠিক কী অসুখ হয়েছে, কতটা হয়েছে, কোন পথে চিকিৎসা চলেছে– এ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা ছিল সব মহলেই। কারণ যে কোনও কারণেই হোক, প্রথম থেকেই তাঁর পরিবারের তরফে চাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে তাঁর অসুস্থতার কথা। কিন্তু শেষ কয়েক মাসে পরিষ্কার হয়ে যায়, ক্যানসারেই ভুগছিলেন তিনি। একটি সূত্রের খবর, ব্লাড ক্যানসার অর্থাৎ লিউকোমিয়া হয়েছিল তাঁর। ৩০ এপ্রিল চলে গেলেন চিরঘুমে। ৬৭ বছরের অভিনেতার জীবন ফুরোল।
চলতি মাসের ১ তারিখে ফের খবর আসে, বলিউডের নামকরা সঙ্গীত পরিচালক জুটি সাজিদ-ওয়াজিদ ভেঙে গেল। প্রয়াত হলেন ওয়াজিদ খান। মাত্র ৪২ বছর বয়সে মৃত্যু হল তাঁর। সোমবার মুম্বইয়ের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওয়াজিদ খানের। কয়েক মাস আগে ওয়াজিদের কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট হয়। কিন্তু সম্প্রতি আবার কিডনিতে সংক্রমণ হয় তাঁর। চারদিন ধরে ভেন্টিলেশনে ছিলেন তিনি। শেষমেশ মারা যান।
তার ঠিক দু'সপ্তাহের মাথায় আরও এক বিনা মেঘে বজ্রপাত। এ মৃত্যুসংবাদ যেন সমস্ত শোককে ছাপিয়ে গেছে। অসুখে ভুগে যে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী হয়ে এসেছে, তার সঙ্গে এই আচমকা আত্মহননের তুলনা হয় না! এ বছরটাকেই তাই অসহনীয় বলে দেগে দিচ্ছেন অনেকে।