Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
পদ খোয়ানোর পর এবার নিরাপত্তা! রাঘব চাড্ডার Z+ সুরক্ষা তুলে নিল পাঞ্জাব সরকার, তুঙ্গে জল্পনাফাঁকা স্টেডিয়ামে পিএসএলের আড়ালে ভারতের জ্বালানি সঙ্কট! নকভির ‘যুক্তি’তে হতভম্ব সাংবাদিকভোটের রেজাল্টে পর ফের ডিএ মামলার শুনানি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট! ৬০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, জানাল রাজ্যহরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের দাপট! মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ফিরল বিদেশী ট্যাঙ্কারTCS Case: প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর টাকার টোপ! টিসিএসের অফিসে কীভাবে টার্গেট করা হত কর্মীদের‘ফোর্স ৩’ শুটিং জোরকদমে, পুরনো চরিত্রে ফিরছেন জন— নতুন চমক কারা?'মমতা চান না গোর্খারা শান্তিতে থাকুন, অধিকার ফিরে পান', দার্জিলিঙে ভিডিওবার্তা অমিত শাহেরগ্রাহকের পকেট বাঁচাতে ভারি খেসারত দিচ্ছে তেল কোম্পানিগুলি! প্রতিদিন লোকসান ১,৬০০ কোটিরইচ্ছেশক্তির বারুদে আগুন ধরাল ধোনির পেপ টক! নাইটদের বিঁধে দুরন্ত কামব্যাক নুর আহমেদেরময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসকে হত্যার প্রধান আসামিকে ১ বছরের অন্তর্বর্তী জামিন, কাঠগড়ায় বিচারপতি

International Womens Day 2023: শাশুড়ি-বৌমার দ্বন্দ্ব নয়, তাঁদের সমপ্রেমে স্নান করিয়েছিলেন অপর্ণা সেন

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় আর্ট ফিল্ম বানিয়ে কি মাসের পর মাস হাউসফুল হিট দেওয়া যায়? এমন ভাবনা অলীক স্বপ্ন বলেই মনে হবে। আর্ট ফিল্মে দর্শকদের মনের পুষ্টি, প্রাণের আনন্দ হতে পারে। কিন্তু তা দিয়ে তো সিনে ইন্ডাস্ট্রি বাঁচে না। কিন্তু অপর্ণা সেন (Apa

International Womens Day 2023: শাশুড়ি-বৌমার দ্বন্দ্ব নয়, তাঁদের সমপ্রেমে স্নান করিয়েছিলেন অপর্ণা সেন

শেষ আপডেট: 8 March 2023 06:27

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

আর্ট ফিল্ম বানিয়ে কি মাসের পর মাস হাউসফুল হিট দেওয়া যায়? এমন ভাবনা অলীক স্বপ্ন বলেই মনে হবে। আর্ট ফিল্মে দর্শকদের মনের পুষ্টি, প্রাণের আনন্দ হতে পারে। কিন্তু তা দিয়ে তো সিনে ইন্ডাস্ট্রি বাঁচে না। কিন্তু অপর্ণা সেন (Aparna sen) পেরেছিলেন বাঁচাতে। '১৯শে এপ্রিল'-এর পরে বাংলা চলচ্চিত্রের বাঁক বদল ছবি ছিল অপর্ণা সেনের 'পারমিতার একদিন'। বাংলা ছবির মন্দার বাজারেও যে ছবি দেখতে সিনেমাহলে ছুটে গেছিলেন হাজার হাজার দর্শক। নারীমহলে তো বটেই, পুরুষমহলেও সমান আলোচিত ছিল এই ছবি।

'পারমিতার একদিন' করার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন অপর্ণা (Aparna)

'পারমিতার একদিন' বানানোর জন্য পরিচালক অপর্ণা সেনকে বহু প্রযোজকের কাছে ছুটতে হয়েছিল এবং নিরাশ হয়ে ফিরে আসতে হয়েছিল। চিত্রনাট্য শুনে প্রযোজকরা ভরসা পাননি এই অন্যরকম বিষয় নিয়ে ছবি বানানোর। সেই ছবি হলে চলবে না, সেটাই তাঁরা ধরে নিয়েছিলেন। আজ ভাবতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি, যে প্রযোজক না পেয়ে 'পারমিতার একদিন' ছবি করার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন অপর্ণা সেন।অথচ তখন কিন্তু অপর্ণা প্রথম সারির পরিচালক। মানসিক প্রতিবন্ধী এবং স্পেশাল চাইল্ড যে ছবি করার বিষয় হতে পারে তখনও টালিগঞ্জ পাড়া ভাবতে পারত না। শেষ অবধি প্রযোজক রাজেশ আগরওয়াল ও সুমিত আগরওয়াল রাজি হলেন ছবি করতে, তবে তাঁরা অপর্ণা সেনকে এক শর্ত দিলেন! যদি অপর্ণা সেন নিজে ছবিতে শাশুড়ি সনকার চরিত্রে অভিনয় করেন, তাহলেই তাঁরা অপর্ণার এই গল্পে ছবি করতে রাজি। অপর্ণা সেন ততদিনে অভিনয় করা অনেক কমিয়ে দিয়েছেন এবং তিনি নিজেকে ভেবে সনকা লেখেনওনি। অন্য কোনও অভিনেত্রীকে সনকার চরিত্রে নিতেন। কিন্তু প্রযোজকরা চাইল বক্সঅফিসে হিটমেশিন অপর্ণা সেনের ফেসভ্যালু ব্যবহার করতে। ছবিটা হওয়ার তাগিদে শেষ অবধি রাজি হন অপর্ণা সেন, সনকার ভূমিকায় অভিনয় করতে। [caption id="attachment_2384788" align="aligncenter" width="170"] সনকা সাজে ক্যামেরায় চোখ।[/caption] তার পর তো ইতিহাস! যে মোহময়ী গ্ল্যামারাস অপর্ণা সেনকে দেখতে দর্শক অভ্যস্ত ছিল, তাঁর একেবারে ভিন্ন চেহারায় অপর্ণা নিজেকে গড়লেন সনকা রূপে। উত্তর কলকাতার মধ্যবিত্ত বনেদী বাড়ির মধ্যবয়স্কা বউ। নিজের ঠোঁটের উপর জুড়লেন একটা আঁচিল আর সেই সঙ্গে একটা বিধস্ত লুক। যে সংসারে ক্লান্ত, পূর্ণবয়স্কা পাগল মেয়ের দায়িত্বে শ্রান্ত। যেন অনেক ঘরবন্দি গৃহবধূদের নিরুচ্চার না পাওয়া উঠে এল সনকার চরিত্রে।'পারমিতার একদিন'-এ বারাসতের এক আত্মীয়ার চরিত্রে অপর্ণা কাস্ট করেন সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়কে। অনবদ্য করেছিলেন ছোট্ট রোলে সুমিত্রা। সত্তর আশির দশকে তো সুমিত্রা-অপর্ণা ছিল অমিতাভ বচ্চন-শশী কাপুর জুটির মতো হিট জুটি। প্রচুর সুপারহিট ছবি দু'জনের একসাথে। শোনা যায়, সুমিত্রা মুখোপাধ্যায় 'পারমিতার একদিন' করার পর বলেছিলেন, "আমার খুব ইচ্ছে ছিল সনকার চরিত্রটা করার, যদি রিনা দিত আমাকে!"

অপর্ণার ঋতুমা

অন্যদিকে ছবির নামভূমিকায় যিনি সেই ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত কিন্তু সে সময়ে একদম অন্য ঘরানার 'শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ' জাতীয় কর্মাশিয়াল ছবিতে কাজ করতেন। কত বড় মাপের অভিনেত্রী হলে দুই ধারার ছবি একসঙ্গে সামলানো যায় এবং দুটো ছবিই বক্সঅফিসে ইতিহাস সৃষ্টি করে। ঋতুপর্ণা সম্বন্ধে একটা বহুল প্রচলিত ধারণা আছে টলিউডে, তিনি নাকি সময়ের বহু পরে সেটে আসেন। নিজের স্টারডম দেখান তিনি। তাঁর বিভিন্ন কাজের ব্যস্ততাও এর কারণ।WN - paromitar ek dinতবে পারমিতার সময়ে তা হল না। ঋতুপর্ণা ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে কলটাইমে যদি না পৌঁছন, তাই অপর্ণা সেন নিজেই সোজা গাড়ি নিয়ে চলে আসতেন ঋতুপর্ণার বাড়ি। 'ঋতুমা' বলে ঋতুপর্ণাকে ডেকে একদম গাড়িতে তুলে নিয়ে স্টুডিওতে পৌঁছতেন অপর্ণা। ঋতুপর্ণার পারমিতা চরিত্রে লুকও একদম বদলে দিয়েছিলেন অপর্ণা সেন। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিবাহ করার পর যখন পারমিতা প্রথম শ্বশুরবাড়ি সনকার পারলৌকিক কাজে আসবে তখন উল্টে চুল আঁচড়ে খোঁপা, কার্বন ফ্রেমের চশমা আর বড় টিপে এক স্থিতধা ঋতুপর্ণাকে যেন আবিষ্কার করালেন অপর্ণা।

সনকার দক্ষিণের জানলা মণিদা

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় অপর্ণা সেনকে অভিমান সুরে বলতেন "তোমার ছবিতে তো আমায় পার্ট দাও না কখনও!" অপর্ণা আক্ষেপ করে বলতেন "সৌমিত্র, তোমার মতো বড় মাপের অভিনেতাকে কী করে অকিঞ্চিৎকর চরিত্রে কাস্ট করি বল তো!"বয়স হলেই কি প্রেমে ভাটা? বাংলা সিনেমা তা বলছে না, হাস্যরসে হোক বা নির্ভরতায় প্রবীণ প্রেমেরা চিরনবীন | TheWall'পারমিতার একদিন' লেখার সময় সনকার বাল্যবন্ধু কিশোরীবেলার প্রেমিক মণিদার চরিত্রে সৌমিত্রর কথাই প্রথম মনে আসে অপর্ণার। মণিদার লাঠির ঠুকঠুক শব্দ যেন সনকার দমবন্ধ সংসারজীবনে এক মুঠো খোলা জানলা। সনকার ছেলে যাকে বলে 'ওই শ্যামের বাঁশি বেজে গেছে'। সনকা-মণিদার ভালবাসা বাল্যপ্রেম, যা বিবাহের পরিণতি পায়নি। কিন্তু সনকার শ্বশুরবাড়িতে মণিদার যাতায়াত আছে। না, সে অর্থে আর কোনও প্রেম বা পরকীয়া নেই, কিন্তু বন্ধুত্ব, ভাললাগার রেশটুকু রয়ে গেছে। আর রয়ে গেছে অনেক না পাওয়ার জ্বালা। তাই সনকা বলে ওঠে, "তোমার সঙ্কোচের জন্য দু-দুটো জীবন নষ্ট হয়েছে মণিদা! ভুলে গেছো সে কথা?"দুলাল লাহিড়ি তখন চলচ্চিত্র-সিরিয়ালে ভিলেন রূপে বড় নাম। কিন্তু তাঁর পরিচালিত একটি নাটক দেখতে এসেই অপর্ণা সেন সনকার স্বামীর চরিত্রে দুলালকে নেন।

এক ঝাঁক নবাগত অপর্ণার হাত ধরে পেলেন স্টারডম

'পারমিতার একদিন' দিয়ে বহু অভিনেতারও জয়যাত্রা শুরু হয়। তাঁরা পরিচিতি পান শুধুমাত্র টলিপাড়াতেই নয়, সর্বভারতীয় স্তরেও। প্রথম নাম রাজেশ শর্মা। একসময় রাজেশ শর্মা কলকাতা শহরে ট্যাক্সি চালাতেন, সেই সঙ্গে নাট্যদলে অভিনয় করতেন। সেই অনামী এক অবাঙালি ছেলেকে বাংলা ছবির স্টার বানিয়ে দিলেন অপর্ণা সেন, পারমিতার দ্বিতীয় ভালবাসার চরিত্রে নির্বাচন করে। যদিও পরবর্তীকালে হরনাথ চক্রবর্তীর ছবিতে পরপর ভিলেন অভিনয় করেন রাজেশ শর্মা। কিন্তু নায়ক চরিত্র আর পেলেন না। Paromitar Ek Din (2000) | MUBIরজতাভ দত্ত পারমিতার প্রথম স্বামীর চরিত্রে অনবদ্য, যাঁর ইন্ডাস্ট্রিতে আসা এই ছবি দিয়েই। সোহিনী সেনগুপ্ত অর্থাৎ 'খুকু', মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়ের রোলে জিতে নেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার। সে বছর 'বাড়িওয়ালি'র জন্য সুদীপ্তা চক্রবর্তী এবং 'পারমিতার একদিন'-এর জন্য সোহিনী সেনগুপ্ত একসঙ্গে শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার বিজয়িনী হন। বলিউডের বাঙালি অভিনেত্রী রিমি সেনের প্রথম বাংলা ছবিতে হাতেখড়ি 'পারমিতার একদিন'। এমনকি 'দক্ষিণী'র অনামী গায়ক 'পারমিতার একদিন'-এ গান করেই রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যান। তিনি হলেন শিল্পী প্রবুদ্ধ রাহা। আর গানটা হল 'বিপুল তরঙ্গ রে'। এই ছবিটা যেন এই স্বল্পশ্রুত রবীন্দ্রসঙ্গীতকে রাতারাতি আইকনিক করে তুলল। অপর্ণা সেনের মেয়েবেলার বান্ধবী জয়শ্রী দাশগুপ্ত সেরা গায়িকার জাতীয় পুরস্কার পান খুকুর লিপে 'হৃদয় আমার প্রকাশ হল' গেয়ে। সেরা বাংলা ছবির জাতীয় পুরস্কারও পান অপর্ণা।

অপর্ণার দিকে অভিমানের তির

এ ছবি ঘিরে অপর্ণাকে নিয়ে অভিযোগের তালিকা স্বল্প নয়। অভিনেত্রী ইন্দ্রাণী হালদার অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর বৌমণি অপর্ণা (শ্বেত পাথরের থালা) তাঁকে বড় রোল দেবে বলে কাজ করিয়ে নিয়ে এডিট করে রোলটি কেটে ছোট্ট অতিথি চরিত্রে করে দেন এই ছবিতে।সনকার বড় মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রত্না সরকার। রত্নার অজান্তেই অপর্ণা তাঁর কণ্ঠ ডাব করান পাপিয়া সেনকে দিয়ে। ছবি দেখার পর নিজের কষ্টের কথা ফোন করে রত্না জানিয়েছিলেন অপর্ণাকে। অপর্ণা বলেছিলেন, রত্নার কণ্ঠ অনেক বেশি সফিস্টিকেটেড, একটু ঘরোয়া কণ্ঠ দরকার ছিল, তাই রত্নার নিজের গলার স্বর ছবিতে তিনি রাখেননি।

বলিউড ব্লকব্লাস্টারকে হার মানাল অপর্ণা-ঋতুপর্ণা

২০০০ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছিল অপর্ণা সেনের 'পারমিতার একদিন'। নন্দনে বিশাল হোর্ডিং পড়েছিল 'পারমিতার একদিন'-এর দুপাশে সনকা-পারমিতার মুখ। প্রথম থেকেই হাউসফুল।ঠিক তার গায়ে-গায়ে পরের সপ্তাহে মুক্তি পেল বলিউডের সেই আইকনিক ছবি, হৃতিক রোশন-আমিশা প্যাটেলের ডেবিউ ফিল্ম 'কহো না প্যায়ার হ্যায়'। কিন্তু বক্সঅফিস তোলপাড় করা সেই হিন্দি ছবির পাশেও স্তিমিত হল না 'পারমিতার একদিন'-এর ভিড়। বরং আরও বেশি হাউসফুল হতে লাগল এই বাংলা ছবি। আজকাল শোনা যায় হিন্দি ছবির দাপটে বাংলা ছবি হল পায় না। কিন্তু তখন একটা পারিবারিক আর্টছবিই কলকাতা-সহ মফস্বলের সমস্ত সিঙ্গেল স্ক্রিনে রমরম করে চলেছিল হিন্দি ছবির পাশেই। রিপিট শোয়েরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কোথায় গেল সেসব দিন! শুধু তাই নয়, সে বছর এপ্রিল মাসে 'ইটিভি বাংলা' চ্যানেলের পথ চলাও শুরু হয়েছিল 'পারমিতার একদিন' ছবি দিয়েই। প্রথম দিন নববর্ষের দুপুরে 'পারমিতার একদিন' প্রিমিয়ার শো দেখিয়ে চ্যানেল শুরু হয়। তখনও ছবিটা হলে চলছে। যদিও ইটিভি বাংলা আজ লুপ্ত, কিন্তু তার শুরুর ইতিহাসে চিরকাল থেকে যাবে এই ছবি।

'আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস, আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস'

'পারমিতার একদিন' দুই অসমবয়সি নারীর আত্মিক মিলনেরও গল্প। যাঁরা দু'জনেই ভরা সংসারে থেকেও একা। এদের দু'জনের পছন্দের খুব মিল, দু'জনেই কবিতা লিখতে ভালবাসে, দু'জনের একই নন্দনবোধ অথচ সনকার সেসব চাপা পড়ে গেছিল সংসারের জাঁতাকলে। তাই শাশুড়ি-পুত্রবধূর দ্বন্দ্বের থেকেও বড় হয়ে দাঁড়ায় দুজনের সখ্য।এই সখ্য বন্ধুত্ব পার করে একসময় সমপ্রেম ভালবাসারও জন্ম দেয়। চিরাচরিত শাশুড়ি-বৌমা কলহ যেন ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায় যখন একই স্নানঘরে এক সাথে স্নান করে সনকা-পারমিতা। সেই স্নাত দুই নারী তখন আর শাশুড়ি-বৌমা নয়, দুজন দুজনের সমব্যথী।

৭৫টি বসন্ত পেরোনো অপর্ণা সেন আজও বাঙালির আপন রূপশাস্ত্রের নায়িকা

আরও একটা জায়গা, যেখানে সনকা অসুস্থ মরণাপন্ন, কারও কাছে প্রস্রাব করতে চাইছেন না, এমনকি নার্সের কাছেও নয়, তখন সেই ডিভোর্স হয়ে যাওয়া পুত্রবধূ পারমিতা ফিরে আসছে শাশুড়ির সেবা করতে। সনকা পারমিতার কাছেই অনেক বেশি নিজেকে ছেড়ে দিতে পারছে। বিধবা সনকাকে ফিশ ফিঙ্গার খাওয়ার স্বাধীনতা দিচ্ছে পুত্রবধূ পারমিতাই।

সত্যি কি এই স্নানদৃশ্যে সমপ্রেম দেখাতে চেয়েছিলেন অপর্ণা সেন?

২০০০ সালে দাঁড়িয়ে সমপ্রেম দেখানো মুখের কথা ছিল না। ততদিনে অবশ্য দীপা মেহতা লেসবিয়ান প্রেমের গল্প বলে ফেলেছেন 'ফায়ার' ছবিতে। তবু বাঙালি দর্শক তো শাশুড়ি-বৌমার মধ্যে এই সম্পর্ক দেখার জন্য প্রস্তুত ছিল না! চাপা চর্চা হলেও সনকা-পারমিতার স্নানদৃশ্য দর্শক স্বাভাবিক ভাবেই গ্রহণ করেছিল।অপর্ণা সেন পরে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, "স্নানঘরের দৃশ্য অনেকটা বেশি ছিল ছবিতে। সনকা যে চরিত্রটা, আমি করেছিলাম, তাঁর জীবনে প্রেম চরিতার্থ হল না। না স্বামীর কাছে না মণিময়ের কাছে। স্বামীকে সনকা কোনওদিনই ভালবাসতে পারেনি। আর মণিদা, সেও ছিল কাপুরুষ। সনকা বলেছিল, 'মণিদা একবার যদি বলত আমি স্বামী সংসার ফেলে চলে যেতাম। একবারও পিছু ফিরে তাকাতাম না।'যে মহিলা এতটা সাহসি, যে মহিলা কবিতা একবার শুনে মুখস্থ বলতে পারতেন, তাঁর সেইসব রোম্যান্টিক দিকগুলো কোনওভাবেই পূর্ণতা পায়নি। তারপর তাঁর ছেলের বউ এল পারমিতা, যে তাকে বুঝল। এদের মিল এদের দুজনের সন্তানই মানসিক ভাবে চ্যালেঞ্জড। সনকার মেয়ে স্কিৎজোফ্রেনিক আর পারমিতার ছেলের সেরিব্রাল পালসি। ফলে দুজন দুজনের দুঃখের ভাগীদার হল। https://youtu.be/NH2esyM1c-Y আমি সমপ্রেম দেখাব বলে আলাদা করে ভাবিনি, কিন্তু লেসিবিয়ানিজমের বর্ডার লাইন ভেবেই স্নানদৃশ্যটা দেখাই। সমকামিতার স্পর্শ কিছুটা হলেও ছিল, অস্বীকার করার জায়গা নেই। সেটা সনকার দিক থেকে মনে হয়েছিল খুব স্বাভাবিক। কিন্তু পারমিতার দিক থেকে সে অর্থে সেটা ছিল না পরের দিকে। পারমিতা দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে সুস্থ জীবন পেয়েছিল। সনকা-পারমিতার স্নানদৃশ্য আরেকটু দীর্ঘ ছিল ছবিতে। কিন্তু পরে এডিটিংয়ে সেটা আমি কেটে দিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল সেটার প্রয়োজন নেই।"

সনকার মৃত্যু যেন অনন্তের সূচনা

ছবির নামের সঙ্গে মিল রেখেই মূল কাহিনি একদিনের, কয়েক ঘন্টার। সেদিন সনকার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান। সকাল থেকে বিকেল রইল পারমিতা। আর তার স্মৃতিতে ক্ষণে ক্ষণে অতীত-বর্তমানের দৃশ্যের মেলবন্ধন। শেষ দৃশ্যে পারমিতা আর মণিমামা যখন ওই বাড়ির গেট পেরিয়ে এল, তখন মনে হয় এ দু'জনের কখনও আর এ বাড়ি আসা হবে না। সনকা বিলীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের দুজনেরও এ বাড়ির সঙ্গে সম্পর্কের টান ছিঁড়ে গেল। https://youtu.be/szxgqLK8GBE কিন্তু জীবন কাহিনির কি সমাপ্তি হয়? তাই ‘বিপুল তরঙ্গ রে...’ গানের মতো করেই পারমিতা ও বাকি মানুষগুলো হয়তো নতুনভাবে আশ্রয় খুঁজে পেল অন্য কোথাও। যে বার্তা দিল পারমিতার আসন্ন সন্তান। দুঃখের মধ্যেও আগামীর আনন্দধারা বহিল ভুবনে।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'


```