নীল জলরাশি, ভেজা চুল, হাওয়ার ছোঁয়া আর দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া দু’টি চোখ…
সমুদ্রের ঢেউয়ের মতোই শান্ত, আবার বুনো ঝড়ের মতোই দামাল

নীলাম্বরী মিমি
শেষ আপডেট: 23 July 2025 15:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো:
নীল জলরাশি, ভেজা চুল, হাওয়ার ছোঁয়া আর দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া দু’টি চোখ…
সমুদ্রের ঢেউয়ের মতোই শান্ত, আবার বুনো ঝড়ের মতোই দামাল
সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে একরাশ নীল জলকে চোখে মিলিয়ে দিচ্ছেন মিমি চক্রবর্তী। ভেজা শরীরে, গায়ে নীল বিকিনি, হাতে নীল স্কার্ফ—চোখে অন্য জগৎ। পা ছুঁয়ে যাওয়া ঢেউগুলো তাঁর পায়ের ছাপ মুছে ফেলছে, কিন্তু দর্শকদের মনে রেখে যাচ্ছে এক অমোচনীয় ছাপ।
যে মিমি পর্দায় লিপ কিস করতে অস্বীকার করেছিলেন, তিনিই এবার বিকিনি লুকে ঝড় তুললেন রূপোলি পর্দায়। ‘রক্তবীজ ২’—এই পুজোর অন্যতম চর্চিত ছবি। সংযুক্তা মিত্রের চরিত্রে পুলিশ অফিসারের কঠিন চেহারা ছাপিয়ে এবার বেরিয়ে এলো এক নতুন মিমি। যেন তার সমস্ত সীমা ভেঙে এক নতুন সংজ্ঞা লিখলেন তিনি।
এই প্রথমবার কোনও বাংলা সিনেমায় পর্দায় বিকিনিতে ধরা দিলেন মিমি। এতদিন অফস্ক্রিনে, ট্রাভেল ডায়েরিতে দেখা যেত তাঁকে এই লুক, কিন্তু এবার সিলভার স্ক্রিনে ধরা দিল ফটোকপি। সমুদ্রের নোনা হাওয়া তার গায়ের চুলে খেলছে, গায়ে হালকা মেকআপ, হাতে সোনালি ব্যান্ড। ক্যামেরার ফ্রেমে যখন তিনি হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে, তখন যেন এক জীবন্ত কবিতা হয়ে উঠেছেন তিনি। এতটুকু স্ক্রিন স্পেসেই তিনি বলে দিলেন—নারী মানেই কেবল সংবেদন নয়, নারী মানেই স্বাধীনতা আর নিজের শরীর ও চরিত্র নিয়ে আত্মবিশ্বাস।
![]() | ![]() |
নেটপাড়ায় ইতিমধ্যেই ঝড় উঠেছে মিমির এই ছবিকে ঘিরে। কেউ লিখছেন, “আগুন আগুন!”, কেউ আবার বলছেন, “চোখ সরানো যাচ্ছে না।” অথচ, এই বিকিনি লুকের আড়ালে লুকিয়ে এক ত্যাগী শিল্পী—যিনি নিজের স্টান্ট নিজেই করেছেন, শুটিংয়ে আহত হয়েছেন, তবু থেমে থাকেননি। ‘রক্তবীজ ২’-এর প্রতিটি অভিনীত দৃশ্য এক অদম্য সাহসের প্রমাণ।
মিমি আজ শুধু একজন অভিনেত্রী নন, তিনি এক প্রতীক—যিনি দেখিয়ে দিলেন, নায়িকা মানে শুধু প্রেমের দৃশ্যে হাসি আর চোখের জল নয়। নায়িকা মানে নিজস্ব বিশ্বাসে অনড় থেকে নিজের সীমানা নিজেই ছাপিয়ে যাওয়া। পুজোর আলোয় যখন শহর রঙিন হবে, তখন বড় পর্দায় সংযুক্তা মিত্রের চোখে দেখা যাবে এক নির্ভীক সৈনিককে। আর সেই সৈনিকের রূপ বদলের এক দুর্দান্ত সাক্ষী হয়ে রইল এই নীল বিকিনি—যা শুধু এক পোশাক নয়, এক বিপ্লব।