.webp)
আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কামব্যাকের সামনে দাঁড়িয়ে কোহলিরা।
শেষ আপডেট: 17 May 2024 15:24
অ্যাদ্দিন শুধু জেতা-হারা দিয়ে চলছিল। এবার যোগ হয়েছে বৃষ্টি। আমেদাবাদ হোক বা হায়দরাবাদ, পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারত জুড়ে চলা নিম্নচাপে একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে পর পর বাতিল হচ্ছে আইপিএলের ম্যাচ। তার ওপর শীর্ষে থাকা দলগুলো হেরে বসছে। যাতে জটিল থেকে ক্রমশ জটিলতর হচ্ছে শেষ চারের অঙ্ক।
অবস্থা এখন যা দাঁড়িয়েছে, তাতে কেশবচন্দ্র নাগ বা সৌমেন্দ্রনাথ দে-র শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া গতি নেই। গতকাল রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল গুজরাত টাইটান্সের। আবার একটা 'ট্র্যাভিষেক' ঝড় উঠবে কিনা, আশায় আশায় হাউসফুল ভিড় ছিল মাঠে। শুভমন গিল, সাই সুদর্শনরাও ফর্মে ছিলেন। কিন্তু তার আগেই প্রকৃতি ঠাকরুন আক্ষরিক অর্থেই জল ঢেলে দিলেন। একটিও বল না হয়ে বাতিল হয়ে গেল ম্যাচ! যার ফলে দুই দলেরই কপালে এক-এক করে পয়েন্ট জুটল। হায়দরাবাদ চলে গেল ১৫ পয়েন্টে, গুজরাত পেল ১২ পয়েন্ট।
আপাতত লিগ টেবিলের যা অবস্থা, তাতে হায়দরাবাদের প্লে-অফে উঠতে এক পয়েন্ট হলেই চলত। খেলা না হলেও তাই স্বস্তিতে ট্র্যাভিস হেড, অভিষেক শর্মা, প্যাট কামিন্সরা। ইতিমধ্যেই লিগ টেবলের এক নম্বরে থেকে শেষ চারে চলে গিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। দ্বিতীয় স্থানে রাজস্থান। যদিও গুয়াহাটিতে পাঞ্জাব কিংসের কাছে হেরে বসেছেন সঞ্জু স্যামসনরা। আইপিএলের পুরো মরসুম চুটিয়ে খেললেও শেষ লগ্নে এসে পর পর চার ম্যাচ হারলেন সঞ্জুরা। কিন্তু ১৬ পয়েন্ট থাকায় শেষ অবধি প্লে-অফ নিশ্চিত করে ফেলেছে রাজস্থান। অর্থাৎ যা দাঁড়াল, শেষ চারের তিনটি সিটে টিকিট নিশ্চিত করে ফেলল কলকাতা, রাজস্থান ও হায়দরাবাদ।
এইবার রীতিমত ধুন্ধুমার লড়াই বেঁধেছে শেষ সিট নিয়ে। পয়েন্ট টেবলের হিসেবে, লড়াইতে আছে চেন্নাই সুপার কিংস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও দিল্লি ক্যাপিটালস। তার মধ্যে চেন্নাই ও দিল্লির পয়েন্ট সমান। দুই দল আছে ১৪ পয়েন্টে, নেট রানরেটের বিচারে এগিয়ে চেন্নাই। কিন্তু দিল্লির আর ম্যাচ বাকি নেই। ১৪ ম্যাচ খেলা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বেঙ্গালুরুতে আগামীকাল কার্যত মহারণ! শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দাক্ষিণাত্যের দুই যুযুধান প্রতিপক্ষ চেন্নাই ও বেঙ্গালুরু। কার্যত এই ম্যাচেই বিরাট কোহলি ও মহেন্দ্র সিংহ ধোনির ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এই মুহূর্তে ১৩ ম্যাচ খেলে আছে ১২ পয়েন্টে। টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে প্রায় স্বপ্নের মতোই কামব্যাক করেছেন বিরাট কোহলিরা। নেট রানরেট তুঙ্গে। কিন্তু যেহেতু পয়েন্টের পার্থক্য দুই, ফলে এখানে নেট রানরেটের একটা জটিল অঙ্ক কাজ করছে। দিল্লি ক্যাপিটালসের নেট রানরেট অনেকটাই কম। চেন্নাই সেখানে অনেকটাই ভাল জায়গায়। ফলে নেট রানরেটের বিচারে আরসিবিকে শেষ চারে পৌঁছতে গেলে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরুকে হয় আগে ব্যাট করে ১৮ রানের ব্যবধানে হারাতে হবে। নয়ত পরে ব্যাট করে রান তাড়া করলে ১১ বল বাকি থাকতে জিততে হবে।
এরপর আবার হিসেবে আছে বৃষ্টি। বেঙ্গালুরুর সুবিধে, ঘরের মাঠে খেলতে পারবে। কিন্তু দক্ষিণ কর্নাটক জুড়েও নিম্নচাপে বজ্রগর্ভ মেঘের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। আজ শুক্রবার বিকেলে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। কালও বিক্ষিপ্ত ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। যদি শেষ অবধি বৃষ্টি নামে, তাতে উলটে কপাল পুড়তে পারে বেঙ্গালুরুর। বৃষ্টিতে যত খেলার দৈর্ঘ্য কমবে, নেট রানরেটের জাঁতাকল তত চেপে বসবে আরসিবির ঘাড়ে। শেষ অবধি ম্যাচ বাতিল হলে তো বিনা-প্রশ্নে শেষ চারে চলে যাবে চেন্নাই।
এইবারের মরসুমে সবচেয়ে নাটকীয়ভাবে খেলেছে বেঙ্গালুরু। শুরুতে একেবারে ধরাশায়ী অবস্থা ছিল তাদের। প্রথম আট ম্যাচের সাতটায় টানা হেরে লিগ টেবলের তলায় পড়ে ছিলেন ফ্যাফ দুপ্লেসিরা। বিরাট নিজে ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলেছেন, কমলা টুপি এখনও তাঁর মাথায়। কিন্তু দলের জয় আসেনি। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মত মহাতারকা ব্যর্থ হতে হতে একসময় প্রথম একাদশ থেকেই সরে দাঁড়িয়েছিলেন। সেখান থেকে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে আরসিবি। ইডেনে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে এক রানে হারার পর থেকেই টানা জয়ের জয়ধ্বনি তুলতে থাকেন কোহলিরা। এখন যা অবস্থা, তাতে সবটাই ভাগ্য। তবে শেষ অবধি যদি বরুণদেবের কৃপায় এবং রজত পতিদার, ম্যাক্সওয়েল, কোহলির শৌর্যে আরসিবি শেষ চারে যেতে পারে, সম্ভবত সেটা আইপিএল ইতিহাসের 'গ্রেটেস্ট কামব্যাক' হয়ে থেকে যাবে।