২০১৩ সালের সেই ম্যাচটি আমার কাছে খুবই আবেগঘন ছিল। ততদিনে আমি বড় হয়ে গিয়েছি এবং এর অর্থ বুঝতে পেরেছি।

সারা ও শচিন তেন্ডুলকর
শেষ আপডেট: 21 August 2025 19:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাবা বিখ্যাত ক্রিকেটার হলে তাঁর সন্তানরাও যে সেই পদাঙ্কই অনুসরণ করবেন, এমনটা কোথাও লেখা নেই। যদিও ক্ষেত্র বিশেষে এর ব্যতিক্রম চোখে পড়েছে। যার অন্যতম উদাহরণ ভারতীয় ক্রিকেটের ঈশ্বর শচিন তেন্ডুলকরের (Sachin Tendulkar) পুত্র অর্জুন তেন্ডুলকর।
তবে মাস্টার-ব্লাস্টারের পুত্র ক্রিকেটকে (Cricket) বেছে নিলেও, সেই রাস্তার ধার-কাছ দিয়েও জাননি শচিনের কন্যা সারা তেন্ডুলকর (Sara Tendulkar)। এবার তিনি জানালেন কেন তিনি কেরিয়ার হিসাবে ক্রিকেটকে বেছে নেননি।
সম্প্রতি, 'ট্যুরিজম অস্ট্রেলিয়া'-এর 'কাম অ্যান্ড সে জি'ডে' প্রচারের জন্য সারাকে ভারতীয় দর্শকদের মুখ করা হয়েছে। এই প্রচারের অ্যানিমেটেড ক্যাঙ্গারু 'রুবি' ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এখন সারা এই প্রচারে যোগ দিয়ে তাঁর শৈশবের স্মৃতিগুলিকে তুলে ধরেছেন।
সারা তেন্ডুলকর ইন্ডিয়া টুডেকে বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া তাঁর জীবনের একটি অংশ। তাঁর বাবা (শচিন তেন্ডুলকর) ক্রিকেট খেলতে নিয়মিত সেখানে যেতেন। সারা প্রথম অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ করেছিলেন ১৯৯৯ সালে। সারা বলেন, “আমরা প্রতি চার বছর অন্তর সেখানে যেতাম। সেখানকার অনেক মধুর স্মৃতি আমার মনে আছে। সেই মুহূর্তগুলি আমার এবং আমার ভাইয়ের জন্য খুবই বিশেষ ছিল, কারণ আমরা আমাদের বাবার সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছিলাম।”
সারা বিশেষ করে সিডনিতে নববর্ষ উদযাপনের স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “পুরো দলের সঙ্গে নৌকোয় নববর্ষ উদযাপন করা আমার জন্য একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।” এর পাশাপাশি, তিনি মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড (এমসিজি) নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। সারা বলেন, যখন তিনি ছোট ছিলেন, তখন এই জায়গার (এমসিজি) তাৎপর্য বুঝতেন না। কিন্তু সম্প্রতি যখন তিনি বক্সিং ডে টেস্ট ম্যাচ দেখতে যান, তখন শৈশবের সেই সমস্ত স্মৃতি তাঁকে তাড়া করে ফিরে আসে।
সারার জীবনে ক্রিকেট সবসময়ই ছিল, কিন্তু তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি কখনও ক্রিকেটকে আঁকড়ে ধরে কেরিয়ার গড়ার কথা ভাবেননি। সারা বলেন, গলি ক্রিকেট খেলেছেন, কিন্তু কখনও ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার কথা ভাবেননি। তাঁর সাফ বক্তব্য, “এটা আমার ভাইয়ের মাঠ।”
বাবার অনেক স্মরণীয় মুহূর্তগুলির মধ্যে অবশ্য স্থান পায়নি শচিনের ২০১১ ওডিআই বিশ্বকাপ জয় বা ১০০তম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি। যদি সারার কাছে সবচেয়ে বিশেষ কিছু থাকে, তাহলে তা হল শচিন তেন্ডুলকরের অবসরের ম্যাচ (Retirement Match)। সারা বলেন, “২০১৩ সালের সেই ম্যাচটি আমার কাছে খুবই আবেগঘন ছিল। ততদিনে আমি বড় হয়ে গিয়েছি এবং এর অর্থ বুঝতে পেরেছি। ছোটবেলায়, আমি বাবার ম্যাচ দেখতে যেতাম, কিন্তু তার গুরুত্ব পুরোপুরি বুঝতে পারতাম না।”