অভিযোগকারিণীর দাবি, তাঁর ও দয়ালের সম্পর্ক পাঁচ বছর ধরে ছিল। এ সময় তিনি তাঁকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন।

যশ দয়াল
শেষ আপডেট: 29 June 2025 14:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৩ আইপিএলে কেকেআরের রিঙ্কু সিং গুজরাত টাইটান্সের বোলার যশ দয়ালকে (Yash Dayal) পরপর পাঁচটি ছক্কা মেরে তাঁর কেরিয়ারই প্রায় শেষ করে দিয়েছিলেন। এরপর অবশ্য ২৭ বছরের উত্তরপ্রদেশের এই পেসার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন। গুজরাত থেকে বেঙ্গালুরু যাওয়ার পর যশ নিজেকে একজন ম্যাচ উইনার হিসাবে প্রমাণ করেছেন।
ইতিমধ্যে ভারতীয় ‘এ’ দলের জার্সি গায়ে উঠেছে যশের। শেষ মরশুমে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন আরসিবি (RCB)। সেই দলেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন দয়াল। এর আগে বেঙ্গালুরুর ক্যাবিনেটে আইপিএল ট্রফি ছিল না। দলের প্রথম আইপিএল জয়ের আনন্দে সমর্থক ও ক্রিকেটাররা এখনও বুঁদ হয়ে রয়েছেন। কিন্তু যশ দয়াল জড়িয়ে পড়েছেন বিতর্কে।
এক মহিলা আরসিবির এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেছেন যশ দয়াল তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক নিপীড়ন করেছেন (Accused Of 'Exploitation' On Pretext Of Marriage)। ওই মহিলা উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের বাসিন্দা। তিনি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর অনলাইন অভিযোগ পোর্টালের (IGRS) মাধ্যমে অভিযোগটি দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারিণীর দাবি, তাঁর ও দয়ালের সম্পর্ক পাঁচ বছর ধরে ছিল। এ সময় তিনি তাঁকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন।
জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দফতর গাজিয়াবাদের ইন্দিরাপুরম সার্কেল অফিসারের কাছ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন চেয়েছে। পাশাপাশি পুলিশকে আইজিআরএসে দায়ের করা অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ২১ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ করা মহিলা ১৪ জুন মহিলা হেল্পলাইনে একটি অভিযোগও দায়ের করেছিলেন।
ওই মহিলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, “পাঁচ বছর ধরে এক ক্রিকেটারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল। তিনি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানসিক, শারীরিক এবং আর্থিকভাবে আমাকে ব্যবহার করেছেন। এমনকি আমাকে নিজের পরিবারে স্ত্রী হিসাবে পরিচয়ও করিয়ে দিয়েছিলে, যার ফলে আমি তাঁকে সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করি।”
ওই মহিলার আরও অভিযোগ, সম্পর্ক ছেদের কারণ জিজ্ঞেস করা হলে দয়াল তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন ও মানসিকভাবে হেনস্তা করেন। সম্পর্ক চলাকালীন তাঁর কাছ থেকে দয়াল টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন গাজিয়াবাদের ওই মহিলা। পাশাপাশি অভিযোগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, দয়ালের সঙ্গে আরও বেশ কিছু মহিলার এই ধরনের সম্পর্ক আছে। ওই মহিলা জানিয়েছেন, তাঁর কাছে প্রমাণ হিসাবে চ্যাট, স্ক্রিনশট, ভিডিও কল এবং ছবি আছে, এবং এ সব কিছুই তিনি অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগকারিণী জানান, ১৪ জুন নারী সহায়তা হেল্পলাইনে ফোন করেছিলেন তিনি। তবে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়নি পুলিশ। আর্থিক ও সামাজিক অসহায়তার কারণে এরপর তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের শরণাপন্ন হন।