
সঞ্জুদের সামনে আজ ট্র্যাভিষেক ঝড় আটকানোর লড়াই।
শেষ আপডেট: 24 May 2024 13:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এটাই তো ফাইনাল হতে পারত! হতে পারত দুই স্বপ্নের দলের লড়াই! হতে পারত এক স্থিতধী মহাকবি ও এক ছটফটে প্রতিবাদী নিয়ম ভাঙতে চাওয়া কবির দ্বন্দ্ব? অন্তত গ্রুপ স্তরের শেষ কয়েকটা ম্যাচ বাদ দিলে, রাজস্থান রয়্যালস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের রেকর্ড দেখলে, এমনটা মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয় কিন্তু। একদিকে ব্যালেন্সড, ধারাবাহিক ছন্দে থাকা, সূচারু ছক মেনে খেলা সঞ্জু স্যামসন, জস বাটলার, যশস্বী জয়সওয়াল, রিয়ান পরাগ। সঙ্গে সন্দীপ শর্মা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, যুজবেন্দ্র চহাল, ট্রেন্ট বোল্ট। অন্যদিকে সব ব্যাকরণ তছনছ করে দেওয়া ট্র্যাভিস হেড, অভিষেক শর্মাদের ঝোড়ো ওপেনিং, পরে হাইনরিখ ক্লাসেন, নীতিশ রেড্ডিদের মারকুটে ব্যাট! অথচ ওই শেষ পাঁচটা ম্যাচেই সব এলোমেলো হয়ে গেল রাজস্থানের। যে দলটাকে এক নম্বর ভাবা হচ্ছিল, টানা নয় ম্যাচের আটটায় জিতে নজির গড়েছিল, তাঁদের আজ দুরু-দুরু অবস্থা! জিতলে ফাইনালে বিধ্বংসী কলকাতা নাইট রাইডার্সের সামনে পড়তে হবে। হারলে... হে বন্ধু, বিদায়!
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কথাটা ধরা যাক। ২০২৪ মরসুমের আগে, আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ২৬৩ রান। ২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল চিন্নাস্বামীতে পুণে ওয়ারিয়র্সের বিরুদ্ধে রেকর্ড গড়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ভুল হল। আরসিবি নয়। ক্রিকেট দলগত খেলা হলেও, ওই ম্যাচটাকে ঠিক দলগত খেলার ব্যাকরণ দিয়ে ধরা যাবে না। সেদিন ছিল কার্যত ওয়ান ম্যান শো। দ্য ইউনিভার্স বস, ক্রিস গেইল। আলেকজান্ডার, নেপোলিয়ন, সমুদ্রগুপ্ত বা দ্বিতীয় পুলকেশীদের মত, যদি আরসিবির ইতিহাস লেখা হয়, ওই সময়টাকে বলা হবে, 'তখন আরসিবিতে গেইল যুগ চলছে'। ৬৬ বলে ১৭৫ নট আউটের সেই ক্যারিবিয়ান হারিকেন যখন থামল, চিন্নাস্বামীর প্রেসবক্সের পোড়খাওয়া সাংবাদিকরাও তখন মাথা চুলকোচ্ছে, শেষবার এ'জিনিস কোথায় কবে দেখেছেন? অথচ, এবারের আইপিএলে ওই স্কোর একটা দল তিন-তিনবার ভেঙেছে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ! সৌজন্যে, 'ট্র্যাভিষেক'! স্রেফ পাওয়ার প্লে-তে একশো পার করার রেকর্ড হায়দরাবাদ পার করেছে দু'বার। ১৬৬ টার্গেট কোনও উইকেট না হারিয়ে ১০ ওভারেরও আগে তুলে দেওয়া... কেউ ভেবেছিল?
কিন্তু এসব এখন অতীত! ট্র্যাভিস হেডের অপরাজেয় লৌহবাসরে কীভাবে ছিদ্র করা যায়, দেখিয়ে দিয়েছেন আরশদীপ সিং ও মিচেল স্টার্ক। শার্প টার্ন করে স্টাম্পে ঢুকে আসা বল খেলতে বেশ বেসামাল হেড। এদিকে হেড-অভিষেক না থাকলে আর টানার কেউ নেই। ওদিকে রাজস্থানেরও পর পর হারে জস বাটলারের অভাবটা টের পাওয়া যাচ্ছে। যশস্বী জয়সওয়াল ছন্দে নেই। সঞ্জু ব্যর্থ হলে রিয়ান পরাগ ছাড়া আর কেউ টানতে পারছেন না। আরসিবির বিরুদ্ধে জিতেছে বটে, কিন্তু সেটাকেও বিরাট কিছু বলা যায় না।
তার ওপর ভাবাচ্ছে চেন্নাইয়ের উইকেট। একে তো শহরের বিশেষ হেলদোল নেই। মহেন্দ্র সিংহ ধোনিরা ছিটকে যাওয়ার পরে চিপকে হলুদ জার্সিকে ঘিরে যে উন্মাদনা দেখা যায়, তার ছিটেফোঁটাও আর নেই। তার ওপর চিপকের স্লো টার্নারে অতীতে দুই দলের কারোরই হাল ভাল থাকেনি। ২৮ এপ্রিল চেন্নাইয়ের ২১২ তাড়া করতে নেমে হায়দরাবাদ মাত্র ১৩৪ রানে গুটিয়ে যায়। তার দু'সপ্তাহ পরে রাজস্থান চিপকে মেরেকেটে মাত্র ১৪১ তুলেছিল। শেষ অবধি ৫ উইকেটে হারতে হয়। শেষ অবধি আজ কি তাহলে আবারও একটা কম স্কোরের ম্যাচ হতে চলেছে? তাহলে কিন্তু একটা আকর্ষক লড়াই দেখা যাবে হায়দরাবাদের টি নটরাজন ও রাজস্থানের সন্দীপ শর্মার মধ্যে। এমনিতে রানের ফোয়ারা ওড়ানো আইপিএলের শেষ লগ্নে এসে বোলারদের ক্ষমতার পরীক্ষা হলে নেহাত মন্দ লাগবে না।