হেডকোচ চেয়েছিলেন ‘স্পেশাল’ উইকেট, সেটা পেলেনও। কিন্তু তিন দিনে সেই বাইশ গজেই ডুবে গেল ভারত—এবার সিরিজে ফিরে আসাই আসল পরীক্ষা।

গৌতম গম্ভীর
শেষ আপডেট: 16 November 2025 15:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এমনিতে কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়কে (Sujan Mukherjee) টলানো রীতিমতো কঠিন। আইপিএলে কেকেআর শিবির যখন পছন্দের উইকেট না পাওয়ায় প্রথমে কাঁদুনি গেয়ে পরে তোপ দেগেছিল, তখনও টলানো যায়নি ইডেনের (Eden Gardens) পিচ প্রস্তুতকারককে। একাধারে অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে (Ajinkya Rahane) সুদ্ধ বিশেষজ্ঞ-ধারাভাষ্যকার হর্ষ ভোগলেকে (Harsha Bhogle) পর্যন্ত একহাত নেন!
কিন্তু আইপিএল এক বস্তু৷ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আলাদা। হয়তো সে কারণেই এবার জোরাজুরি খাটাতে চেয়েও অসফল সুজন। পুরো রাশ ছেড়ে দিতে হয়েছে টিম ইন্ডিয়ার হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের (Gautam Gambhir) হাতে। স্পোর্টিং উইকেট হবে বলে বুক ঠুকে দাবি করেছিলেন ঠিকই৷ কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল ইচ্ছেমাফিক ঘূর্ণি পিচই পেয়েছে টিম ইন্ডিয়া। বল ঘুরেছে। চরকির মতো৷ লাট্টুর মতো৷ আর তাতে ভারত প্রোটিয়াদের (South Africa) এক প্রস্থ ফাঁদে ফেলার পর দ্বিতীয় লপ্তে নিজেরাই চোরাবালির চোরাটানে তলিয়ে গেল। পাকিস্তানকে ঘোল খাইয়ে আসা সাইমন হার্মারই (Simon Harmer) বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠলেন। ভাঙলেন একের পর এক পার্টনারশিপ৷ তুললেন ৪ খানা গুরুত্বপূর্ণ উইকেটও। অস্যার্থ: চাওয়ামাফিক উইকেটেই তলিয়ে গেল গম্ভীর ব্রিগেড। সিরিজে পিছিয়ে পড়ল ভারত।
ইডেনে লজ্জাজনক হার হজম করার পর যখন গম্ভীর প্রেস কনফারেন্সে এলেন, তখন সাংবাদিকদের টার্গেটে ছিল পিচ। সব দায় ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলবেন? নাকি উলটো, নিজেই গিলোটিনের সামনে মাথা পেতে নেবেন? কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল, দ্বিতীয় পথ বেছে নিলেন গম্ভীর। কাটকাট জবাবে পরিষ্কার—কোনও দায় কিউরেটরের ঘাড়ে চাপাচ্ছেন না তিনি। সোজাসাপটা বললেন—‘এই পিচটাই আমরা চেয়েছিলাম। ঠিক যেমনটা আমরা ভেবেছিলাম, তেমনই হয়েছে!’
হেডকোচের কথায়, ‘বেশিরভাগ উইকেট সিমারদেরই পকেটে গেছে। বল টার্ন করেছে ঠিকই, কিন্তু এই ধরনের পিচে ব্যাট করতে হলে মাথা নিচু করে থাকতে হয়, ডিফেন্সে ভরসা রাখতে হয়। তাহলে রান আসবে!’
গম্ভীরের মতে, ভারত হেরেছে পিচের জন্য নয়, ব্যাটারদের অ্যাপ্লিকেশন না থাকার জন্য। বলেন, ‘১২৪ রানের টার্গেট এই উইকেটেও তাড়া করা যেত। জুটি গড়া দরকার ছিল। ৩০ থেকে ৬০ রানে পৌঁছোলে ম্যাচ অন্যদিকে যেতে পারত!’
রবিবারের দমচাপা সেশন নিয়ে গম্ভীর জানালেন—যখন ধ্রুব জুরেল (Dhruv Jurel)–ওয়াশিংটন সুন্দর (Washington Sundar) কিংবা সুন্দর–রবীন্দ্র জাদেজা (Ravindra Jadeja) ব্যাট করছিলেন, তখনও ভারত ম্যাচে ছিল। কিন্তু ছোট জুটি বড় হয়ে ওঠেনি। আর সেখানেই খেই হারায় দল।
শুভমান গিলের (Shubman Gill) অনুপস্থিতি কতটা গুরুতর? এই নিয়েও সরাসরি জবাব দিলেন কোচ। বললেন—‘এক ব্যাটার কম নিয়ে নামাটা অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে ঠিকই, কিন্তু তাও টার্গেট তাড়া করা অসম্ভব ছিল না!’
ইডেনের (Eden Gardens) পিচ দ্বৈত চরিত্র নিয়ে ফেলেছে—এমন স্বীকারোক্তিও এসেছিল ভারতীয় বোলিং কোচ মর্নে মর্কেলের (Morne Morkel) মুখে! তবু গম্ভীর একটুও বিচলিত নন। শেষ পর্যন্ত পুরো দায়ই খেলোয়াড়দের প্রয়োগ ও ধৈর্যের উপর চাপালেন ভারতীয় কোচ। আর সেই ব্যর্থ প্রয়োগের ফল—স্পষ্ট স্কোরবোর্ডে। হেডকোচ চেয়েছিলেন ‘স্পেশাল’ উইকেট, সেটা পেলেনও। কিন্তু তিন দিনে সেই বাইশ গজেই ডুবে গেল ভারত—এবার সিরিজে ফিরে আসাই আসল পরীক্ষা।