অ্যাশেজের আগে ইংল্যান্ড ভয় পাচ্ছে। ভারতের দুই ব্যাটার তাদের মুখের উপর ‘না’ বলার ক্ষমতা দেখিয়েছে। তাতে ইংল্যান্ড আরও ভয় পেয়ে গিয়েছে।

ইংল্যান্ড বনাম ভারত
শেষ আপডেট: 28 July 2025 19:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ক্রিকেটের অতি পরম ভক্তও হয়তো ভাবেননি ইংল্যান্ড-ভারত চলতি টেস্ট সিরিজের (England vs India Test Series) চতুর্থটি অমিমাংসিত ভাবে শেষ করেই মাঠ ছাড়বে গিল ব্রিগেড। কিন্তু ম্যাঞ্চেস্টারে সবাইকে অবাক করে দিয়ে সেটাই হয়েছে। মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে পাঁচ সেশন ধরে ব্যাট করে নজির গড়ে হার বাঁচিয়েছে টিম ইন্ডিয়া।
কেএল রাহুল এবং শুভমান গিল ৭০ ওভারের জুটি বেঁধেছিলেন, এরপর রবীন্দ্র জাদেজা এবং ওয়াশিংটন সুন্দরের মধ্যে আরও ৫৫.২ ওভারের বিশাল জুটি তৈরি হয়।
ম্যাঞ্চেস্টারে জাদেজা ও সুন্দর যখন শতরানের দ্বারপ্রান্তে, তখন করমর্দন করতে এসে ড্র করার প্রস্তাব দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস। সেই আবেদনে অবশ্য সাড়া দেননি জাদেজা ও সুন্দর। বরং তাঁরা দু’জনই সেঞ্চুরি করে যোগ্য জবাব দেন ইংল্যান্ডকে।
বেন স্টোকসের এই আচরণ নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে ক্রিকেট-বিশ্বে। এমনকি ইংল্যান্ডের অনেক প্রাক্তন ক্রিকেটারও স্টোকসের ড্র-এর প্রস্তাব মানতে পারছেন না। তবে সব থেকে চটেছে অজি মিডিয়া (Australian Media)। তারা স্টোকস ব্রিগডকে তুলোধনা করে ছেড়েছে।
আসলে সামনেই রয়েছে অ্যাশেজ সিরিজ। চার মাস পরেই শুরু হবে ক্যাঙারুর দেশে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজ। অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়া এবার ইংল্যান্ডের এই আচরণ নিয়ে মনস্তাত্বিক যুদ্ধ শুরু করে দিল।
চতুর্থ দিন পর্যন্ত ভারতের হার অবধারিত ছিল ম্যাঞ্চেস্টারে। কিন্তু পঞ্চম দিন প্রথমে রাহুল-গিল জুটি ও পরে জাদেজা-সুন্দরের দাপটে ম্যাচে ফেরে ভারত। ইংল্যান্ডের কোনও বোলারই ভারতের দুই অলরাউন্ডারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারছিলেন না। ম্যাচের যে কোনও ফলাফল হবে না সেটা টি-এর পরই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। পঞ্চম দিনে শেষ এক ঘণ্টায় তখন বাকি ছিল ১৫ ওভার। বাইশ গজকে ততক্ষণে ঘর-বাড়ি বানিয়ে ফেলেছেন জাডেজা ও ওয়াশিংটন। ভারতের লিড তখন ৭৫ রান। ইংল্যান্ড অধিনায়ক বুঝে গিয়েছিলেন, ভারতের বাকি ছয় উইকেট ফেলে আর এই ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়। তাই তিনি ড্রয়ের প্রস্তাব দিতে যান। কিন্তু তাঁর প্রস্তাবে সাফ না বলে দেন ভারতের দুই ব্যাটার। কারণ, ততক্ষণে তাঁরা শতরানের দোরগোড়ায়। পরের তিন ওভারের মধ্যেই শতক হাঁকান তাঁরা।
ম্যাচ শেষে স্টোকস বলেছেন, তাঁদের কাছে ব্যক্তিগত মাইলফলক দলের থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ভারতের দুই ব্যাটারের শতরানের আগে খেলা বন্ধ করতে চেয়ে ক্রিকেটের গায়ে কালি লাগিয়েছেন স্টোকস।
“ভণ্ড ইংল্যান্ড (England are moral hypocrites) মনে করে শতরান ক্রিকেটের পরিপন্থী”, এই শিরোনামে খবর করেছে ‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান’। এদিকে, স্টোকসকে সমর্থন করেছেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার জোনাথন ট্রট। তাঁর মতে, ভারত ব্যক্তিগত মাইলফলকের কথা ভেবেছে। এতে ক্রিকেটের উপর কালি লেগেছে। ট্রটের এই মন্তব্য নিয়েই খোঁচা মেরেছে ‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান।’ তারা লিখেছে, “অ্যাশেজের আগে ইংল্যান্ড ভয় পাচ্ছে। ভারতের দুই ব্যাটার তাদের মুখের উপর ‘না’ বলার ক্ষমতা দেখিয়েছে। তাতে ইংল্যান্ড আরও ভয় পেয়ে গিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগে ইংল্যান্ড চাপে থাকবে।”
এদিকে, ‘দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’ তাদের প্রতিবেদনের শিরোনামে লিখেছে, “ঘ্যানঘ্যানে ইংল্যান্ড, আমাদের ক্ষমা করো, তোমাদের ঔদ্ধত্যই একমাত্র লজ্জার বিষয়।” সেখানে ড্যানিয়েল ব্রেটিগ লিখেছেন, “যখন খেলা ইংল্যান্ডের পক্ষে থাকে তখন তারা খুব আনন্দে থাকে। কিন্তু উল্টোটা হয়, তখনই তারা বাচ্চাদের মতো করে। আবার কখনও ঔদ্ধত্য দেখায়। অ্যাশেজে কিন্তু এ সব করে ইংল্যান্ড পার পাবে না।”
‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’ আবার শিরোনাম করেছে, “টেস্টের একটি ক্লাসিক ম্যাচে কালি লাগিয়ে দিল ইংল্যান্ড।” পিটার জেনকিন্স লিখেছেন, “ইংল্যান্ডের অহঙ্কার ও অক্রিকেটীয় মানসিকতা একটা ক্লাসিক টেস্ট ম্যাচে কালি লাগিয়ে দিল। এতে অ্যাশেজের আগে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল। নিজেদের ঘরের মাঠেই যদি ইংল্যান্ডের এই হাল হয় তা হলে অস্ট্রেলিয়ায় এসে ওরা কী করবে?”