Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
৭ শতাংশ ফ্যাট, ৫০ শতাংশ পেশি! যে ডায়েট মেনে চলার কারণে রোনাল্ডোর এখনও যন্ত্রের মতো সচলগুগল এখন অতীত, AI দেখে ওষুধ খাচ্ছেন মানুষ! বেশিরভাগ রোগ চিনতে না পেরে জটিলতা বাড়াচ্ছে চ্যাটবট 'ডাহা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে রাজ্য', সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছতেই ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষBasic Life Support: চলন্ত ট্রেনে ত্রাতা সহযাত্রীই! সিপিআরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন মহিলামহিলা বিল পেশ হলে রাজ্য অচলের ডাক স্ট্যালিনের, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কেন ষড়যন্ত্র বলছে ডিএমকে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ! উদ্দীপ্ত এমিরেটসের কতটা ফায়দা নিতে পারবে আর্সেনাল? দ্রুত রোগা হওয়ার ইনজেকশন শেষ করে দিচ্ছে লিভার-কিডনি? ভুয়ো ওষুধ নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসকরাপ্রথম দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামছে ৪০ হাজার রাজ্য পুলিশ, কোন জেলায় কত‘ভয় নেই, আমিও কারও বাবা...’ সব পুরুষ সমান নয় - বার্তা নিয়ে মুম্বইয়ের রাস্তায় ছুটে চলেছে এই অটোহরর নয়, এক ব্যক্তিগত ক্ষতের গল্প—‘দ্য মামি’ নিয়ে মুখ খুললেন পরিচালক

‘ডার্ক বয়ের জন্য ডার্ক চকোলেট!’ সতীর্থদের বিদ্রূপ ভেঙে চুরমার করে দেয়, অকপট শিবরামকৃষ্ণন

এক প্রতিভার হারিয়ে যাওয়ার গল্প শুধু ক্রিকেটীয় ব্যর্থতার নয়… এ এক কিশোরের বিধ্বস্ত আত্মবিশ্বাসের কাহিনিও বটে। যার মর্মান্তিক সমাপ্তি পেরিয়ে যায় পরিসংখ্যানের কিস্যা।

‘ডার্ক বয়ের জন্য ডার্ক চকোলেট!’ সতীর্থদের বিদ্রূপ ভেঙে চুরমার করে দেয়, অকপট শিবরামকৃষ্ণন

লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণন

রূপক মিশ্র

শেষ আপডেট: 25 March 2026 14:32

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সময় তাঁকে ভারতের (India Cricket) প্রতিভাবান লেগস্পিনারদের অন্যতম মনে করা হত। ১৯ বছরেই দুরন্ত সাফল্য। তারপর আচমকা ছন্দপতন। সবাই জানত—ফর্ম হারান, নিয়ন্ত্রণ খুইয়ে ফেলেন, আর এর জেরেই হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া। কিন্তু এতদিন পরে সামনে এল অন্য গল্প। যেটা আরও অস্বস্তিকর, আরও কষ্টের।

প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণন (Laxman Sivaramakrishnan) নিজেই মেলে ধরলেন, তাঁর কেরিয়ার ভেঙে পড়ার পেছনে বড় কারণ বর্ণবিদ্বেষ (racism)। সতীর্থদের আচরণ, মাঠের মন্তব্য—সব মিলিয়ে অল্প বয়সে আত্মবিশ্বাস তছনছ।

নিশানায় কোন মন্তব্য?

মাত্র ১৭ বছর বয়সে পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন শিবরামকৃষ্ণন। দলনায়ক সুনীল গাভাসকর (Sunil Gavaskar)। জন্মদিনে কেক কাটার আয়োজন করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আনন্দের মুহূর্তে অপ্রত্যাশিত আঘাত। আসে এক সতীর্থের থেকে। যিনি বলে বসেন, ‘সানি, একদম ঠিক রঙের কেক এনেছ—ডার্ক বয়ের জন্য ডার্ক চকোলেট!’ কথাটা শুনে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি কিশোর ‘শিবা’।

এই ছিল শুরু। এরপর গ্যালারি থেকে ‘কালিয়া’ বলে ডাক, মাঠে নিরন্তর বিদ্রূপ—সবই সহ্য করতে হয়েছে। মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার সূত্রপাত যদিও অনেক আগে থেকে। ১৪ বছর বয়সে চেন্নাইয়ে (Chepauk) নেট প্র্যাকটিসের সময় এক সিনিয়র ক্রিকেটার তাঁকে গ্রাউন্ড স্টাফ ভেবে জুতো পরিষ্কার করতে বলেছিলেন! দাবি লক্ষ্মণের।

ধীরে ধীরে উবে যায় আত্মবিশ্বাস

১৯৮৩-তে মাত্র ১৭ বছর বয়সে টেস্ট অভিষেক। ১৯৮৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে (World Championship of Cricket 1985) ভারতের সাফল্যে বড় ভূমিকা নেন। ১০ উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন। তখন অনেকের চোখেই, ভবিষ্যতে ৫০০ উইকেট শিকারী ছিলেন লক্ষ্মণ।

কিন্তু বাস্তব অন্য কথা বলল। মাত্র ২১ বছর বয়সেই লাল বলের ক্রিকেট থেকে ধাপে ধাপে মুছে গেলেন। আকস্মিক উত্থানের পর অদ্ভুত পতন! ঝুলিতে উইকেট—মাত্র ২৬। শিবরামকৃষ্ণনের কথায়, ‘চামড়ার রঙের জন্য বারবার হেয় করা হত। এতে আত্মবিশ্বাস উবে যায়। যা অল্প বয়সে সেটা সামলানো কঠিন।’একজন ক্রিকেটারের সবচেয়ে বড় শক্তি নিজের উপর আস্থা। কিন্তু কিশোর বয়সেই সেটা হারিয়ে ফেলেন তিনি। পাশাপাশি জানান, একমাত্র ক্যারিবিয়ানে (West Indies) খেলতে গিয়েই প্রথমবার স্বস্তি পেয়েছিলেন। গায়ের রং নিয়ে কেউ বিচার করেনি।

‘অ্যালকোহলিক’ তকমার আড়ালে চাপা গল্প

পরবর্তীতে পতনের কারণ হিসেবে দেগে দেওয়া হয় মাদকাসক্তিকে। কিন্তু সেই ট্যাগের আড়ালে চাপা পড়ে থাকে মানসিক লড়াইয়ের গল্প। বছরের পর বছর অপমান, অবহেলা—সব মিলিয়ে ভেতর থেকে খানখান হয়ে পড়েন লক্ষ্মণ। সম্প্রতি ধারাভাষ্য (cricket commentary) থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন। তুলেছেন একই অভিযোগ তুলেছেন… সেই বর্ণবিদ্বেষ! যার জেরে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা হত।

সব মিলিয়ে, এক প্রতিভার হারিয়ে যাওয়ার গল্প শুধু ক্রিকেটীয় ব্যর্থতার নয়… এ এক কিশোরের বিধ্বস্ত আত্মবিশ্বাসের কাহিনিও বটে। যার মর্মান্তিক সমাপ্তি পেরিয়ে যায় পরিসংখ্যানের কিস্যা।


```