প্রস্তুতি ম্যাচে নামার সুফলও পেয়েছেন টিম ইন্ডিয়ার ওপেনার। প্রথম ইনিংসে লুজ শট খেলে চল্লিশের কোঠায় আউট হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে পুষিয়ে দিয়েছেন। হাঁকিয়েছেন সেঞ্চুরি।

কে এল রাহুল
শেষ আপডেট: 27 June 2025 17:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সবার আগে দেশ। দেশের দায়িত্ব। যার জন্য সদ্যোজাত সন্তানের দেখভালের কর্তব্যকেও দূরে সরিয়ে রাখা যায়।
এমনটাই মনে করেন কেএল রাহুল। শুধু তাই নয়। কাজেও করে দেখান। আর তাই মার্চে সন্তানের জন্মের পর পিতৃত্বের দায়কে পিছনে ঠেলে ছুটে এসেছেন ইংল্যান্ড। স্রেফ টেস্ট খেলতে নয়। প্রস্তুতি ম্যাচেও অংশ নিয়েছেন। আইপিএল খতম হতেই ভারতীয় এ দলের হয়ে ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে নেমেছেন।
আর কেউ হলে ছাড় চাইতেন। সময় নিতেন। সোজাসুজি হেডিংলে টেস্টে নেমে পড়তেন। এমনটাই মত হেমঙ্গ বাদানির। প্রাক্তন ভারতীয় ব্যাটসম্যান। এখন দিল্লি ক্যাপিটালসের হেড কোচ। ইংল্যান্ড উড়ে যাওয়ার আগে যাঁর সঙ্গে কথা হয় রাহুলের। বলেন, ‘দেশ আগে হেমাঙ্গ ভাই। আমি দলের পরোয়া করি!’
প্রস্তুতি ম্যাচে নামার সুফলও পেয়েছেন টিম ইন্ডিয়ার ওপেনার। প্রথম ইনিংসে লুজ শট খেলে চল্লিশের কোঠায় আউট হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে পুষিয়ে দিয়েছেন। হাঁকিয়েছেন সেঞ্চুরি। ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ভাল পারফর্ম্যান্স বাড়িয়েছে আত্মবিশ্বাস। বেসরকারি টেস্টের চার ইনিংসে রান যথাক্রমে: ১১৬, ৫১, ৪২ ও ১৩৭।
এই প্রসঙ্গে রাহুলের সঙ্গে ব্যক্তিগত কথোপকথন শেয়ার করেছেন বাদানি। বলেন, ‘শুনে ভাল লেগেছিল যখন ও বলে, ‘আমি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে আগেভাগে ইংল্যান্ড যেতে চাই।’ সেঞ্চুরি ভুলে যান। সেটা তো পরে এসেছে। কিন্তু এই মানসিকতা, আগে আসার, তৈরি হওয়ার ও দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার ইচ্ছে ও মানসিকতাই গুরুত্বপূর্ণ। ভুলে যাবেন না, রাহুল সদ্য বাবা হয়েছে। ছেলেও সঙ্গে যায়নি। তাই ওর পক্ষে ‘সন্তানের আগে দেশ’ বলাটা বেশ বড় দাবি!’
বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার অবসরের পর অনভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইন আপে রাহুলই পোড়খাওয়া সদস্য। তাই ইংল্যান্ডের মতো কঠিন সফরে নিজের দায়িত্ব ভোলেননি। বাদানি ‘অনুগত’ রাহুলকে কুর্নিশ জানিয়ে আরও বলেন, ‘ও খুব সহজেই বলতে পারত ‘আমি ওয়ার্ম আপ ম্যাচ খেলতে চাই না, সরাসরি টেস্টে নামব’। কিন্তু সেটা বলেনি। আমি ওর চোখে ও কথায় একটা খিদে দেখতে পাই। বিরাট ও রোহিতের অনুপস্থিতিতে রাহুলই সবচাইতে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। আর এই কর্তব্য খুব ভালভাবে পালন করেছে।’
এই ঘটনায় অনেকের মনে পড়ছে মহেন্দ্র সিং ধোনির কথা। ২০১৫-র বিশ্বকাপের আগে তিনি বাবা হন। স্ত্রী সাক্ষীর কোল আলো করে ঘরে আসে জিভা। মাহির কাছের বন্ধু ও সতীর্থ সুরেশ রায়নাকে টেক্সট মেসেজে সন্তানের জন্মের কথা জানান সাক্ষী। সেই সময় ঘরে ফেরার কথা উঠতে সটান প্রস্তাব খারিজ করেন ধোনি। সাংবাদিকরা এই নিয়ে প্রশ্ন করলে অনেকটা রাহুলের সুরেই তিনি বলেছিলেন, ‘আমার মেয়ে হয়েছে। মা, মে দুজনেই ভাল আছে। কিন্তু আমি আপাতত দেশের দায়িত্বে। তাই আর সবকিছু অপেক্ষা করতে পারে। বিশ্বকাপ সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ।’