প্রতিযোগিতায় এখনও পর্যন্ত ১২টি ক্যাচ ছেড়েছেন ভারতীয় ফিল্ডাররা। যা কখনওই টিম ইন্ডিয়ার নামের সঙ্গে মানানসই নয়।

ক্যাচ ছাড়ছেন সঞ্জু স্যামসন
শেষ আপডেট: 25 September 2025 19:25
দ্য ওয়ালা ব্যুরো: শুক্রবার এশিয়া কাপের (Asia Cup 2025) সুপার ফোর পর্বের শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে ভারত। এই ম্যাচে টিম ইন্ডিয়ার প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা (India vs Srilanka)। মুরলীধরন, জয়সূর্যদের দেশ ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে, আর ভারত সুপার ফোরের মগডালে থেকে জায়গা করে নিয়েছে এশিয়া কাপের ফাইনালে।
এবারের এশিয়া কাপে টিম ইন্ডিয়াই এখনও পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত দল। সূর্যকুমার যাদব ব্রিগেড সব ম্যাচ জিতলেও বেশ কিছু দুর্বলতা কিন্তু সামনে এসেছে। বিশেষত ফিল্ডিং ও মিডল অর্ডার ব্যাটিং (Team India’s middle order batting and fielding)। প্রতিযোগিতায় এখনও পর্যন্ত ১২টি ক্যাচ ছেড়েছেন ভারতীয় ফিল্ডাররা। যা কখনওই টিম ইন্ডিয়ার নামের সঙ্গে মানানসই নয়। যার ফলে চাপ বাড়ছে ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপের উপর। পাশাপাশি রানের সরণিতে নেই অধিনায়ক সূর্যও।
ভারত এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে টানা পাঁচটি ম্যাচ জিতেছে। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে শুক্রবারের নিয়মরক্ষার ম্যাচের পর রবিবার ভারত খেতাবের লড়াইয়ে নামবে পাকিস্তান-বাংলাদেশ ম্যাচের বিজয়ীর সঙ্গে। তবে তার আগে টিম ইন্ডিয়ার কাছে বেঞ্চ স্ট্রেংথ পরীক্ষা করার সুযোগ থাকবে।
ওমানের বিরুদ্ধে ছাড়া বাকি সব ম্যাচেই ভারতের প্রথম একাদশে কোনও পরিবর্তন দেখা যায়নি। সেই ম্যাচে ভারত জসপ্রীত বুমরাহ এবং বরুণ চক্রবর্তীকে বিশ্রাম দিয়ে অর্শদীপ সিং এবং হর্ষিত রানাকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ওমানের বিরুদ্ধে ম্যাচ ছাড়া, ভারত এখনও পর্যন্ত তিনজন স্পিনার এবং একজন বিশেষজ্ঞ ফাস্ট বোলারকে নিয়ে খেলেছে।
টিম ইন্ডিয়া হয়তো সহজেই এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে, কিন্তু টুর্নামেন্টে তাদের খেলোয়াড়রা যেভাবে ক্যাচ ফেলেছে তা দলের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। ভারত পাকিস্তানের বিপক্ষে সুপার ফোরের ম্যাচে বেশ কিছু ক্যাচ ফেলেছিল, অন্যদিকে বাংলাদেশের বিপক্ষেও ভারতীয় খেলোয়াড়দের ফিল্ডিং পারফরম্যান্স হতাশাজনক ছিল। ফাইনালের আগে, ভারতীয় খেলোয়াড়দের তাঁদের ফিল্ডিং উন্নত করতে হবে কারণ যেকোনও দিন এই ভুল দলের জন্য ব্যয়বহুল প্রমাণিত হতে পারে। টিম ইন্ডিয়া এখনও পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে ১২টি ক্যাচ ফেলেছে, যেখানে হংকং এই বিষয়ে তাদের থেকে পিছিয়ে। হংকং মোট ১১টি ক্যাচ ফেলেছে।
ভারতের মিডল-অর্ডার ব্যাটারদের দীর্ঘক্ষণ ক্রিজে থাকতে না পারাটাও একটা উদ্বেগের বিষয়। অভিষেক শর্মা এবং শুভমান গিল দলকে শক্তিশালী শুরু এনে দিচ্ছেন, কিন্তু তাঁদের জুটি ভেঙে যাওয়ার পর, বিশেষ করে অভিষেকের আউটের পর, ভারতীয় ব্যাটাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাচ্ছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে শুভমন ও অভিষেক যে শুরুটা এনে দিয়েছিলেন, তাতে মনে হচ্ছিল, স্কোর সহজেই ২০০ পেরিয়ে যাবে। কিন্তু শেষপর্যন্ত উঠল ১৮৮ রান।
এদিকে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ব্যাট নীরব ছিল। ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি বাকি ব্যাটাররাও। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে সূর্যকুমার কোথায় ব্যাট করেন, তা দেখাও আকর্ষণীয় হবে, কারণ ওমানের বিপক্ষে তিনি শেষ পর্যন্ত ব্যাট করেননি।
ফাইনালের কথা মাথায় রেখে শ্রীলঙ্কা ম্যাচে টিম ইন্ডিয়া থিঙ্ক ট্যাঙ্ক উইনিং কম্বিনেশনে খুব বেশি পরিবর্তন আনবে না বলেই জানা গিয়েছে। তবে জিতেশ শর্মাকে ফিনিশার হিসাবে পরীক্ষা করার জন্য এটি ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের শেষ সুযোগ, যিনি পুরো টুর্নামেন্টে একটিও ম্যাচ খেলেননি। সঞ্জু স্যামসন ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারে ফিট বলে মনে হচ্ছে না। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচে স্যামসনকে শীর্ষ সাতেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আর এর ফলে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, যদি সঞ্জু অক্ষর প্যাটেলের আগে আসার যোগ্য না হন তবে তিনি দলে কী করছেন।