অনেকেই মনে করছেন এইভাবে বেসরকারি ব্যক্তিদের হাতে অস্ত্র দেওয়ার ফলে নিরাপত্তার ঝুঁকি আরো বেড়ে যাবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

নেতা, প্রার্থীরাও সঙ্গে অস্ত্র রাখতে পারবেন!
শেষ আপডেট: 16 December 2025 08:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান এমন ব্যক্তিরা সঙ্গে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে পারবেন। এজন্য তাঁদের দ্রুত লাইসেন্স প্রদান করা হবে (leaders and candidates are allowed to carry weapons)
'রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে লাইসেন্স ও রিটেনার নিয়োগ নীতিমালা ২০২৫' শিরোনামে সোমবার বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এরপরই প্রশ্ন উঠেছে যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা বেহাল। রাজনৈতিক দলগুলি একান্তে জানাচ্ছে এই নীতিমালার প্রধান বক্তব্য খুব স্পষ্ট তা হল সরকার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা ও নির্বাচনে পদপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। তাই তাদের নিজেদেরকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুযোগ করে দিচ্ছে (leaders and candidates are allowed to carry weapons)।
তাৎপর্যপূর্ণ হলো মহম্মদ ইউনুসের সরকার এই সিদ্ধান্তটি এমন সময় নিয়েছে যখন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র তথা ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্রপ্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সে দেশের নেতাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। হাদির শারীরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়ে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য।
ওই খুনের চেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন তোলপাড় চলছে। হত্যার মূল চেষ্টাকারীকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি বাংলাদেশ পুলিশ। অপরাধীরা ভারতের পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারে বলে বাংলাদেশ সরকার আভাস দিচ্ছে। যদিও এই ব্যাপারে কোন স্পষ্ট প্রমাণ তারা হাজির করতে পারছে না। এই ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকার দেশে প্রবল চাপের মুখে পড়েছে। কট্টরপন্থী ব্যক্তিত্ব হাদি গণঅভ্যুত্থানের সময় হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। সরকার পতনের পর আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধেও তাঁর জিহাদ চলছিল। হত্যার চেষ্টাকারী হিসেবে নিষিদ্ধ ছাত্র লিগের এক নেতাকেই পুলিশ চিহ্নিত করেছে।
বাংলাদেশ সরকারের সোমবারের জারি করা নীতিমালায় বলা হয়েছে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করুন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং নির্বাচনকালীন সহিংসতা প্রতিরোধে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেনার নিয়োগের লক্ষ্যে এই নীতি প্রয়োগ করা হলো। বলা হয়েছে রিটেন আর বলতে বোঝাবে রাজনৈতিক ব্যক্তি ও পদপ্রার্থীদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সশস্ত্র বেসরকারি ব্যক্তি।
অনেকেই মনে করছেন এইভাবে বেসরকারি ব্যক্তিদের হাতে অস্ত্র দেওয়ার ফলে নিরাপত্তার ঝুঁকি আরো বেড়ে যাবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।