মেয়েকে শেষ পর্যন্ত খুঁজে পেয়েছেন মোহাম্মদ শাহাবুল, মা মিসেস মিম। তবে মর্গে। দেহের বেশিরভাগ অংশই পুড়ে গিয়েছে।

মর্গে পড়ে থাকা দেহটি কি রাইসা মণির?
শেষ আপডেট: 24 July 2025 12:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়েকে শেষ পর্যন্ত খুঁজে পেয়েছেন মোহাম্মদ শাহাবুল, মা মিসেস মিম। তবে মর্গে। দেহের বেশিরভাগ অংশই পুড়ে গিয়েছে। খানিকটা অক্ষত মুখমণ্ডল। পুড়ে যাওয়া স্কুল ইউনিফর্ম দেখেও মনে হচ্ছে দেহটি তঁদের মেয়ে রাইসা মণির।
কিন্তু আরও এক বাবা-মা দেহটি তাঁদের নিখোঁজ কন্যার বলে দাবি করেছেন। অগত্যা ডিএনএ টেস্টের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। দুই দম্পতিরই রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু টেস্টের রিপোর্ট কবে মিলবে সে ব্যাপারে কোনও আশ্বাস দেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে দুই পরিবারেরই অধীর অপেক্ষায় দিন কাটছে। তাঁরা জনে জনে দোয়া চাইছেন, দেহটি যেন তাঁদের আদরের কন্যার হয়।
কারণ তাঁদের নিখোঁজ মেয়ে বেঁচে নেই, নিশ্চিত দুই দম্পতি। চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে তাদের সন্ধান মেলেনি। বরং মিল আছে আধপোড়া দেহটির সঙ্গে। যে দেহগুলি হস্তান্তর করে কবর দেওয়া হয়েছে, সেগুলির ছবিও দেখেছেন তাঁরা। অগত্যা ডিএনএ টেস্টে ফয়সালা হবে জেনেও দুই বাবা-মা'ই দেহটি তাঁদের সন্তানের দাবি করে নানা প্রমাণ তুলে ধরছেন। মর্গের লোকজনকে দেখাচ্ছেন। যাতে মেয়ের অন্তেষ্টি করার সুযোগ পান।
ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট এলে এক দম্পতির হাতে দেহটি হস্তান্তর করা হবে। প্রশ্ন উঠেছে অপর দম্পতির কী হবে? কারণ মর্গে আর কোনও শিশুর দেহ পড়ে নেই।
শুধু ওই শিশু কন্যাটিই নয়, ঢাকার বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের ছয়জনের দেহ এখনও সনাক্ত করা যায়নি। গত সোমবার ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের ছাদে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান৷ তাতে এখনও পর্যন্ত ৩২ জন মারা গিয়েছেন। তাঁদের বেশিরভাগই স্কুল পড়ুয়া। একজন বিমানটির পাইলট মহম্মদ তৌকির ইসলাম। রাজশাহীতে সামরিক মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে। বহু পড়ুয়াকে রক্ষা করে শেষে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান স্কুলটির শিক্ষিকা মাহরীন চৌধুরী। বাংলাদেশ সরকার এই দুর্ঘটনায় নিহতদের কবরের জন্য ঢাকার একটি কবরস্থানে আলাদা জায়গা বরাদ্দ করেছে।
বিমানটি সেদিন মুখ থুবড়ে পড়ার পর আগুন ধরে যায়। তাতেই স্কুল ও কলেজ বাড়িটির অংশ আগুনে ঝলসে যায়।
এখনও পর্যন্ত সনাক্ত না হওয়া দেহগুলির জন্যও ডিএনএ টেস্ট করা হবে। তবে নিখোঁজের সংখ্যার তুলনায় বেশি মানুষের দেহ সনাক্ত না হওয়া অবস্থায় পড়ে আছে বিভিন্ন মর্গে। মনে করা হচ্ছে অজ্ঞাত পরিচিত কেউ স্কুল ও কলেজ চত্ত্বরে ছিলেন।