২০০৫ সালের সেই চিঠিতে লারমার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ভাবে একাধিক যৌন নিগ্রহের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, ২০০৪ সালে নিজের সরকারি বাসভবনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে এক পিয়নের স্ত্রীকে হেনস্থা করেছিলেন লারমা।

অপসারণের দাবিতে ডেপুটেশন
শেষ আপডেট: 8 March 2026 17:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক নারী দিবসে (International Women's Day) পার্বত্য চট্টগ্রাম (Bangladesh) আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনল হিল উইমেন ফেডারেশন। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা লারমার বিরুদ্ধে নিজের পদ ও প্রতিপত্তি ব্যবহার করে একাধিক জনজাতির নারীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে সরব হলেন সংগঠনের নেত্রীরা। খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার (Tarique Rahman) কাছে পাঠানো স্মারকলিপিতে লারমার অবিলম্বে অপসারণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
স্ত্রীর চিঠিতেই ‘কেঁচো খুঁড়তে কেউটে’
এই আন্দোলনের সবথেকে বড় অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে সন্তু লারমার স্ত্রী শিপ্রা দেওয়ানের লেখা একটি পুরনো চিঠি। ২০০৫ সালের সেই চিঠিতে লারমার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ভাবে একাধিক যৌন নিগ্রহের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, ২০০৪ সালে নিজের সরকারি বাসভবনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে এক পিয়নের স্ত্রীকে হেনস্থা করেছিলেন লারমা।
বনানীর আঞ্চলিক পরিষদের রেস্ট হাউসে ওয়াচিংপু মারমা, ইনু চাকমা এবং কুশি আক্তার নামে একাধিক মহিলাকে বারবার প্রলোভন দেখিয়ে বা জোরপূর্বক যৌন হেনস্থা করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
আরও গুরুতর অভিযোগ হল, চাকরির টোপ, কাজের চুক্তি (কন্ট্রাক্ট) পাইয়ে দেওয়া এবং অলঙ্কার বা বৃত্তির বিনিময়ে তিনি ডজন ডজন আদিবাসী নারীকে লালসার শিকার বানিয়েছেন। এইচডাব্লিউএফ-এর দাবি, লারমা তাঁর স্ত্রীকে ‘মুখ বন্ধ রাখতে’ জোর করে ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। লারমার ভয়ে দীর্ঘকাল কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি।
অরক্ষিত পাহাড়
স্মারকলিপিতে কেবল লারমা নন, পার্বত্য চট্টগ্রামে জনজাতি মহিলাদের ওপর বাড়তে থাকা হিংসার খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে খাগড়াছড়িতে ১২ বছরের এক বালিকাকে গণধর্ষণ এবং তার বিচার চাইতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে তিন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া স্কুল প্রাঙ্গণে জনজাতির ছাত্রীদের ওপর লালসার থাবা বসানো শিক্ষক সোহেল রানার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে, “জনজাতির মেয়েরা আজ কোথাও নিরাপদ নয়। না রাস্তায়, না স্কুলে, এমনকি আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের বাসভবনেও নয়।”
জাইমা-তারেকের কাছে ন্যায়বিচারের আর্জি
প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া এবং তাঁর কন্যা জাইমা রহমান যেভাবে নারী অধিকার ও ন্যাবিচারের কথা বলছেন, তাতে উৎসাহিত হয়েই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে হিল উইমেন ফেডারেশন। তাঁদের দাবি
সন্তু লারমার মতো এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে নারী দিবসে এমন রণংদেহি মেজাজ খাগড়াছড়ির রাজনীতিতে নতুন তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।