সুস্থ হয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কেরলের বাসিন্দা অ্যালেন
শেষ আপডেট: 22 November 2024 16:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স বেশি না হলেও সমস্যা ছিল লিভারে। ধীরে ধীরে সেই সমস্যা যে এত বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে কে জানত? ধীরে ধীরে মৃত্যুর পথে এগিয়ে যাচ্ছিল কেরলের বাসিন্দা ওই যুবক। জন্ডিসের জেরেই তাঁর এমন পরিণতি হয়। একমাত্র লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া আর কোনও রাস্তাই ছিল না চিকিৎসকদের হাতে।
কিন্তু প্রতিস্থাপন করব বললেই তো হয়ে ওঠে না। তার জন্য প্রথমেই যেমন একজন ঠিকঠাক দাতাকে খুঁজে বের করতে হবে তেমনই দরকার অনেক টাকার। কিন্তু সেই টাকা কোথায়? কেই বা দেবে লিভার? সব আশা যখন প্রায় শেষের পথে ছেলেকে মৃত্যুমুখ থেকে বাঁচিয়ে নবজীবন দিলেন মা। নিজের লিভারের অংশ ছেলের জন্য দান করলেন তিনি।
পুরো অপারেশনের খরচও নিতান্তই কম ছিল না। কিন্তু সে সময় ভগবানের মতো তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ান পুরো গ্রামের লোকজন। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপারেশনের পুরো টাকা জোগাড় করে ফেলে তাঁরা।
সুত্রের খবর কোচির মুণ্ডকায়াম চিত্তাদির বাসিন্দা অ্যালেন সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোচির রাজাগিরি হাসপাতালে ভর্তি হয়। হাসপাতালের চার সদস্যের একটি চিকিৎসক দল সবরকম পরীক্ষার পর জানিয়ে দেন লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া আর কোনওভাবেই বাঁচবে না যুবক। কিন্তু সঠিক ডাটা খুঁজে পাওয়াও অনেক সময়সাপেক্ষ। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁর মায়ের শরীরের লিভারের অংশ নিয়ে প্রাণ বাঁচায় ছেলের।
বিপদের সময় তাঁদের পাশে দাঁড়ায় ছেলেটির গ্রামের বেশ কয়েকজন পরিবার, তাঁর স্কুল ও মালানাদ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি নামে একটি সেবামূলক সংস্থা। মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার মতো সবকিছু করে অ্যালেনকে সুস্থ করা একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল বলেই জানিয়েছন চিকিৎসকরা। বর্তমানে সে বাড়িও ফিরে গেছে বলে খবর।
চিকিৎসক বিজু চন্দ্রন জানান, ‘এখনও এমন মানুষ দেখতে পাওয়া যায়। যারা বিপদের সময় পাশে এসে দাঁড়ান। সবাই সময়মতো এগিয়ে না আসলে কিছতেই সবটা সম্ভব হত না। এটা সবার মিলিত ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। যেখানে জাতি, ধর্ম সরিয়ে জয় হয়েছে মানবতার।’