
শেষ আপডেট: 19 December 2023 22:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুদিন আগেই রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সম্পাদক চম্পত রাই জানিয়েছিলেন, বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি লালকৃষ্ণ আদবানি ও মুরুলি মনোহর যোশীকে অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে আসতে বারণ করা হয়েছে। রাই বিশ্বহিন্দু পরিষদের সহ সভাপতি।
কিন্তু মঙ্গলবার ওই সংগঠনেরই আন্তর্জাতিক শাখার কার্যনির্বাহী সভাপতি অলোক কুমার আমন্ত্রণ পত্র নিয়ে হাজির হলেন দুই প্রবীণ নেতার দিল্লির বাড়িতে। তাঁর দাবি তিনি দুজনকেই রাজি করিয়েছেন। ২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনের সময় হাজির থাকবেন বিজেপির দুই প্রাক্তন সভাপতি তথা রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের সাবেক প্রচারক।
চম্পত রাইয়ের দাবি তিনি দুই প্রবীণের বয়সের কথা বিবেচনায় রেখে তাঁদের মন্দির উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে না যেতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। আদবানির বয়স ৯৬। যোশী ৮৯।
সূত্রের খবর, চম্পত রাইয়ের বক্তব্য ঘিরে সঙ্ঘ পরিবার ও বিজেপির অন্দরে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করে। অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন।
আসলে ১৯৯০-এ আদবানিই গুজরাতের সোমনাথ মন্দির থেকে অযোধ্যা অভিমুখে রাম রথ ছুটিয়ে ছিলেন রামমন্দির গড়ার দাবিতে। সেই রথযাত্রাকে ঘিরে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা যেমন হয় তেমনই রাজনীতিতে মান্যতা পেয়ে যায় মন্দির রাজনীতি। দুবছরের মাথায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাতেও নাম জড়ায় আদবানি, যোশীদের।
বিজেপি ও সঙ্ঘের অনেকেই মনে করেন রাম মন্দিরের শিলান্যাস, উদ্বোধন আদবানিকে দিয়ে করানো উচিত ছিল। আসলে তাঁরই প্রধান কৃতিত্ব মন্দির আন্দোলন নির্মাণের।
ভিএইচপি নেতা অলোক কুমার মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া বিবৃতিতে রাম মন্দির নির্মাণের পিছনে আদবানির অবদানের কথা স্মরণ করেছেন। সেই সঙ্গে বলেছেন দুই নেতাই কথা দিয়েছেন ২২ জানুয়ারি অযোধ্যা যাবেন।
কিন্তু বিশ্বহিন্দু পরিষদের সহ সভাপতি তথা মন্দির ট্রাস্টের নেতা চম্পত রাই কেন আদবানি ও যোশীকে অযোধ্যায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তা নিয়ে চর্চা চলছে হিন্দুত্ববাদী শিবিরে। একটি মহলের বক্তব্য, মন্দির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উদ্বোধনের দিন অযোধ্যায় আদবানির উপস্থিতি প্রধানমন্ত্রীর প্রচারের আলোয় ভাগ বসাবে ধরে নিয়েই হয়তো তাঁকে স্বাস্থ্যের কারণে না যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এটাও ঠিক ৯৬ বছর বয়সে অযোধ্যার কনকনে ঠান্ডার পরিবেশে যাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ।