.webp)
রামদেব ও বালকৃষ্ণ। ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 23 April 2024 14:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যোগগুরু রামদেব এবং পতঞ্জলি আয়ুর্বেদের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আচার্য বালকৃষ্ণকে ফের একদফা ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার আদালত অবমাননা মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ বলেছে, ক্ষমা চেয়ে খবরের কাগজে যে বয়ান ছাপা হয়েছে, সেটা কি বিভ্রান্তিমূলক বিজ্ঞাপনের মতোই পুরো পাতা জুড়ে ছাপা হয়েছে?
পতঞ্জলির পক্ষে আইনজীবী মুকুল রোহতগি বলেন, তাঁরা আদালতের কাছে আরও একটি নতুন ক্ষমাভিক্ষাপত্র জমা দিয়েছেন। বেঞ্চ তখন জানতে চায়, মাত্র গতকালই কেন ক্ষমাভিক্ষা চাওয়া হয়েছে? এ তো অনেক আগেই করা উচিত ছিল। বিচারপতি হিমা কোহলি এবং এ আমানুল্লার বেঞ্চকে রোহতগি জানান, তাঁর মক্কেলরা গত ২২ এপ্রিল দেশের ৬৭টি সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। এরজন্য খরচ পড়েছে ১০ লক্ষ টাকা।
তখন বিচারপতি হিমা কোহলি বলেন, বিজ্ঞাপনের মতোই ক্ষমাভিক্ষার কথাও কি ফলাও করে ছাপা হয়েছে? বিজ্ঞাপনের অক্ষর যত বড় ছিল এবং বিজ্ঞাপনগুলি যেমন পুরো পাতা জুড়ে ছিল, সেভাবেই কি ছাপা হয়েছে? কত খরচ হয়েছে, তাতে আমাদের কী?
আদালত আরও তুলোধনা করতে রামদেব এবং বালকৃষ্ণর সামনেই বলে, আমরা একটি আবেদন পেয়েছি। যাতে মূল মামলাকারী ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে ১০০০ কোটি টাকা জরিমানা চেয়ে আর্জি জানানো হয়েছে। এটা কি ভুয়ো আবেদন, আমাদের সন্দেহ আছে। জবাবে রোহতগি বলেন, এতে তাঁর মক্কেলদের কিছু করার নেই।
এ পর্যন্ত বলে আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আগামী ৩০ এপ্রিল। রামদেব বলেন, তিনি ফের ক্ষমা চেয়ে আরও বড় বিজ্ঞাপন দেবেন। বিচারপতি কোহলি বলেন, বিজ্ঞাপনটি কেটে এনে আমাদের দেখাবেন। কৃত্রিমভাবে বড় করে আনবেন না। আমরা প্রকৃত মাপের বিজ্ঞাপনটিই দেখতে চাই। আমাদের নির্দেশ হচ্ছে, বিজ্ঞাপন ছাপা হলেই তা নিয়ে আসবেন এবং আমাদের যেন মাইক্রোস্কোপ দিয়ে পড়তে না হয়।
প্রসঙ্গত, এর আগে ১৬ এপ্রিলের শুনানিতেও রামদেবের ব্যাপক ভর্ৎসনা করে সর্বোচ্চ আদালত। বলে, 'আপনি এমন কিছু ভোলাভালা নন যে, আদালতে কী ঘটছে সে সম্পর্কে কিছুই টের পাচ্ছেন না!' এরপর আদালত থেকে বেরিয়ে রামদেব সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমার যা বলার ছিল, বলেছি। বিচার ব্যবস্থার উপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে।
গত মঙ্গলবার এবং এদিনও রামদেব এবং পতঞ্জলির ম্যানেজিং ডিরেক্টর আচার্য বালকৃষ্ণকে সশরীরে হাজিরা দিতে হয়। কোভিড নিরাময় এবং অন্যান্য রোগব্যাধি সারাতে পতঞ্জলির আয়ুর্বেদ চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিশ্বস্ত ও পরিপূর্ণ নির্মূল করে বলে বিজ্ঞাপনে দাবি করেছিল এই সংস্থা। তা নিয়ে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের একটি আবদনে সাড়া দিয়ে আদালত দুজনকে একাধিকবার তলব করলেও তাঁরা হাজিরা দেননি। তখন আদালত অবমাননার মামলা হয় রামদেব এবং বালকৃষ্ণর বিরুদ্ধে।
আগের শুনানিতে বিচারপতি হিমা কোহলি এবং এ আমানুল্লার বেঞ্চ দুজনকে প্রথমে যোগসাধনায় অসামান্য অবদানের প্রশংসা করে। বেঞ্চ বলে, আপনারা যোগসাধনার জন্য যা করেছেন, তাকে আমরা শ্রদ্ধা করি। জবাবে রামদেব প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত বলে জানান। সুপ্রিম কোর্টের সম্মানকে অপমান করার কোনও ইচ্ছে তাঁদের ছিল না, নেইও।
আদালত তখন তাঁদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আয়ুর্বেদকে তুলে ধরতে অন্য চিকিৎসাকে কেন হেয় করা হয়েছে, তা জানতে চায়। বিচারপতি আমানুল্লা বলেন, সকলের জন্য আইন সমান। রামদেব উত্তর দেন, ভবিষ্যতে এরকম কাজ আর হবে না।
আদালতের বক্তব্য, আগে যা যা ঘটেছে তা তাঁরা বিচার করে দেখবেন। বেঞ্চের কথায়, আপনাকে ক্ষমা করা উচিত হবে কিনা তা এখনও আমরা ঠিক করিনি। আপনি তিনবার আমাদের নির্দেশ অমান্য করেছেন। আগের নির্দেশগুলি আমরা ফের খতিয়ে দেখব। তারপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।