
নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 14 June 2024 14:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের প্রচারে ৪০০ পারের দাবি তুলেছিল বিজেপি। কিন্তু ভোটের ফলে দেখা গেছে, ২৫০ আসনও পায়নি তারা। অন্যদিকে, বারাণসীতে নরেন্দ্র মোদীর জয়ের ব্যবধানও বিরাটভাবে কমে গেছে। কেন এমন হল? এক আরএসএস নেতা স্পষ্ট বলে দিলেন, অহংকারী হয়ে পড়লে এমনটাই হয়।
তৃতীয়বারের জন্য নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, এনডিএ জোট সরকার গঠন করেছে। সবই ঠিক। কিন্তু এই নির্বাচনে বিজেপি বা তাদের জোট যে ফল করেছে তাতে সামগ্রিকভাবে গেরুয়া শিবিরের ভিত যে নড়ে গেছে তা মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ। সঙ্ঘের মোহন ভাগবতও কারও নাম না করে বলেছিলেন, ''দুটি পক্ষ থাকে। বিরোধীরা থাকেন। তাঁরা শত্রু নন। তাঁরা প্রতিপক্ষ। তারা একটি মত জানাচ্ছেন। সেটাও সকলের জানা উচিত। ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মর্যাদাটা হারিয়ে যাওয়া উচিত নয়।'' এমনকী ভোটের প্রচারে যে পরপর মিথ্যাচার করা হয়েছে, সেই নিয়েও পরোক্ষভাবে সরব হয়েছে আরএসএস।
বিজেপির এই ফল নিয়ে তাঁদের খোঁচা দিতে ছাড়েননি আরএসএস নেতা ইন্দ্রেস কুমার। তাঁর বক্তব্য, ''যারা রামের ভক্ত তারা অহংকারী হয়ে উঠেছিল। তাই এই ফল হয়েছে। অহংকারের জন্যই সবথেকে বড় ঘোষিত হওয়া দল ২৪১-এই আটকে গেছে!'' এবারের নির্বাচনে অপ্রত্যাশিতভাবে অযোধ্যায় হেরে গেছে বিজেপি। সেখানেই গত জানুয়ারি মাসে ঘটা করে রাম মন্দির উদ্বোধন করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। এই হার স্পষ্টত বিজেপি শিবিরকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, অযোধ্যা তো বটেই গোটা উত্তরপ্রদেশেই হেরেছে বিজেপি।
বিরোধী শিবির তাহলে ২৩৪ আসন পেল কীভাবে? এই প্রসঙ্গে আরএসএস নেতার দাবি, ''তারা তো রাম বিরোধী। তাই কোনও ভাবেই বিরোধী জোট জিততে পারত না। তাই ওরা ২৩৪ আসনে আটকে গেছে।'' ইন্দ্রেস বলছেন, অহংকার না চলে এলে অনায়াসে এই লোকসভা ভোটের ফলও হত গেরুয়া।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এবার লোকসভা ভোটের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেরকম হিন্দু-মুসলমান করে গেছেন, তা বেনজির। স্বাধীনোত্তর সময়ে কোনও প্রধানমন্ত্রী তা করেননি। শুধু তা নয়, অভিযোগ হল, তা করতে গিয়ে লাগাতার মিথ্যে কথা বলে গিয়েছেন মোদী। যা প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে অনভিপ্রেত এবং অশোভন।