
প্রিয়ঙ্কা দিল্লিকে 'গ্যাস চেম্বার' বলে ক্ষোভপ্রকাশ করেন।
শেষ আপডেট: 14 November 2024 14:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়ানাড় লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে শতাংশের হারে অনেক কম ভোট পড়ায় প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরার রাগ হয়েছে? নইলে বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শান্তিবনে দাদাঠাকুর জওহরলাল নেহরুর ১৩৫-তম জন্মদিন বা শিশুদিবসে তাঁকে শ্রদ্ধা নিবেদনের সঙ্গেই দিল্লি দূষণ নিয়ে আচমকা খড়্গহস্ত হবেন কেন কংগ্রেস নেত্রী?
এদিন এক এক্সবার্তায় প্রিয়ঙ্কা দিল্লিকে 'গ্যাস চেম্বার' বলে ক্ষোভপ্রকাশ করেন। কেরলের ওয়ানাড়ের বিশুদ্ধ অক্সিজেন সেবন করে সদ্য ফিরে আসা লোকসভা সদস্য হওয়ার প্রত্যাশী প্রিয়ঙ্কা লিখেছেন, ওয়ানাড় থেকে মনে হল গ্যাস চেম্বারে এসে ঢুকলাম। ওয়ানাড়ে বাতাসে দূষণের পরিমাণ মাত্র ৩৫। সুন্দর মনোরম স্বাস্থ্যকর পরিবেশ-আবহাওয়া। ধোঁয়াশার এই চাদর দেখে ভয় ধরে যাচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের পক্ষে এই দূষণের এই তীব্র মাত্রায় যথেষ্ট উদ্বিগ্ন নেত্রী।
তিনি আরও লিখেছেন, প্রতিবছর দিল্লির দূষণ খারাপের দিকে গড়াচ্ছে। আমাদের সকলের উচিত এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা। এর থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে বের করা উচিত। আমাদের সকলে মিলে এখনই কিছু একটা করা উচিত, লিখেছেন প্রিয়ঙ্কা।
প্রিয়ঙ্কার এহেন চড়া সুরে পরিবেশ নিয়ে সওয়াল নিয়ে অনেকেই কিছুটা অবাক হয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, ওয়ানাড় লোকসভা উপনির্বাচনে ভোটের হার কমে যাওয়ায় খানিকটা বিব্রত ও রাগ হয়েছে কংগ্রেসের 'লাডলি'র। বুধবারের উপনির্বাচনে ওয়ানাড়ে ভোট পড়েছে মাত্র ৬৫ শতাংশের কাছাকাছি। গত লোকসভা ভোটে রাহুল গান্ধী প্রার্থী থাকার সময়েও ভোট পড়েছিল ৭৪ শতাংশ।
ফলে অনেকেরই অনুমান, জিতলে অভিষেক-ম্যাচেই প্রিয়ঙ্কার প্রাপ্ত ভোট আগের থেকে কমতে পারে। যদিও ১০ জনপথ অনুগত নেতাদের ধারণা বিপরীত। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল বৃহস্পতিবার দাবি করেন, ভোট শতাংশ কমায় প্রিয়ঙ্কার জেতার মার্জিনে কোনও প্রভাব পড়বে না। এনিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বেণুগোপাল বলেন, আমাদের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী প্রদত্ত ভোটের হার কমায় প্রিয়ঙ্কাজির মার্জিনের কোনও হেরফের হবে না।
বেণুগোপাল এও বলেন যে, মার্জিনে সমস্যা না হলেও কেন এত কম ভোট পড়ল তা পঞ্চায়েতস্তরে খতিয়ে দেখবে পার্টি। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ভিডি সতীশনের মতে, সিপিএম নেতৃত্বাধীন বাম মোর্চার প্রভাবিত এলাকায় ভোটের প্রতি উৎসাহ কমে আসায় কম সংখ্যায় মানুষ বুথমুখী হয়েছেন। এখন দেখার, ফলাফলের মার্জিনে বোন দাদার তুলনায় আদৌ এগিয়ে যেতে পারেন কিনা। নাকি পিছিয়ে পড়েন! লোকসভার আসন্ন শীত অধিবেশনে দাদা-বোনের জোড়া ফলার সামনে পড়ার আগে পরিবারতন্ত্রের জনপ্রিয়তা ওজন করে দেখে নিতে চাইছে বিজেপিও।