
সদগুরু জাগ্গি বাসুদেব। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 1 October 2024 18:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বঘোষিত 'দেবপুরুষ' সদগুরু জাগ্গি বাসুদেবের আশ্রম ইশা ফাউন্ডেশনে পুলিশ তল্লাশি শুরু করল মঙ্গলবার বিকেলে। মাদ্রাজ হাইকোর্ট সদগুরুর আশ্রমের বিরুদ্ধে যাবতীয় ফৌজদারি অভিযোগের উপর রিপোর্ট চাওয়ার পরই তৎপর তামিলনাড়ু পুলিশ। কোয়েম্বাতুরের তোন্ডামুতুরে বিরাট জমি-জায়গার উপর রয়েছে ইশা ফাউন্ডেশন। এদিন কোয়েম্বাতুর থেকে প্রায় ১৫০ পুলিশ কর্মীর এক বাহিনী এডিএসপি পদমর্যাদার অফিসারের নেতৃত্বে ঢুকে পড়ে আশ্রমে। তারপর সেখানে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়।
তিন ডিএসপি পদমর্যাদার পুলিশ কর্তা সহ বাহিনী আশ্রমের সব ঘরে তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং আশ্রমে বসবাসকারীদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছে। পুলিশি তৎপরতা নিয়ে ইশা যোগ সেন্টারের তরফে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশে পুলিশ সুপার সহ পুলিশ কর্মীরা রুটিন তদন্তে এসেছিলেন। তাঁরা আশ্রমিক এবং স্বেচ্ছাসেবকদের বিষয়ে খোঁজ নেন। এখানে কীভাবে যোগসাধনা ও জীবনাচরণ করা হয়, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাঁরা এখানে কীভাবে এলেন, কীভাবে থাকেন তাও জানতে চায় পুলিশ।
উল্লেখ্য, এক অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডঃ এস কামরাজের এক অভিযোগের ভিত্তিতে কোয়েম্বাতুর গ্রামীণ পুলিশকে মাদ্রাজ হাইকোর্ট সোমবার তদন্তের নির্দেশ দেয়। ওই প্রাক্তন অধ্যাপকের দাবি, তাঁর দুই মেয়ে গীতা কামরাজ, বয়স ৪২ এবং লতা কামরাজ, বয়স ৩৯। তাদের এই আশ্রমে জোর করে রেখে দেওয়া হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, এই আশ্রম কর্তৃপক্ষ মেয়েদের মাথা মুড়িয়ে খায় এবং সন্ন্যাসিনী হতে বাধ্য করে। এমনকী তাদের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে দেওয়া হয় না।
মাদ্রাজ হাইকোর্ট প্রশ্ন তুলে বলেছে, ইশা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদগুরু জাগ্গি বাসুদেবের জীবনাচারণে এরকম বৈপরীত্য কেন। বিচারপতি এস এম সুব্রহ্মণ্যম এবং ভি শিবজ্ঞানম জানতে চান, সদগুরু বা জাগ্গ নামে খ্যাত এই ব্যক্তির নিজের মেয়ে আছে। যার বিয়ে হয়ে গিয়েছে এবং সুপ্রতিষ্ঠিত আছেন। সেই লোক কী করে অন্য মেয়েদের মুণ্ডিত মস্তক করে যোগ সেন্টারে সন্ন্যাসিনী করে রাখেন!
অভিযোগকারী বাবা তাঁর মেয়েদের আশ্রমে জোর করে আটকে রাখার দাবি করলেও আদালতে উপস্থিত দুই মেয়েই স্বেচ্ছায় আশ্রমবাসী হওয়ার কথা জানান। বাবা আদালতে জানান, তাঁর বড় মেয়ে ব্রিটেনের একটি নামজাদা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকাট্রনিক্সে স্নাতকোত্তর করেছেন। বিশাল টাকা বেতন পেতেন। বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকে তিনি এই আশ্রমে যোগ অধ্যয়নে যোগ দেন। তাঁর ছোট মেয়ে সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। সেও তার দিদির পথে পা বাড়ায়। বাবার আরও অভিযোগ, এই আশ্রম থেকে খাবার ও ওষুধে এমন কিছু মিশিয়ে দেওয়া হয় যাতে কারও চিন্তাশক্তি হারিয়ে যায়।