
শেষ আপডেট: 9 April 2024 09:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জামিন পাবেন কি না, মঙ্গলবার দুপুরে জানাবে দিল্লি হাই কোর্ট। বেলা আড়াইটা নাগাদ দিল্লি হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা রায় শোনাবেন। গত দু সপ্তাহে তিনদিন এই মামলার শুনানি হয়েছে। মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট মদকাণ্ডে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকেই প্রধান ষড়যন্ত্রী বলে উল্লেখ করেছে।
গ্রেফতার করা ছাড়াও কেজরিওয়াল তাঁকে গোড়ায় ইডি হেফাজতে রাখার সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করেছেন আদালতে। বলেছেন, হেফাজতে নেওয়ার কোনও প্রয়োজন ছিল না।
আদালতের রায়ে ১ এপ্রিল থেকে তিনি জেলে আছেন। সেখানে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর থাকার কথা। ভারতে এই প্রথম কোনও কর্মরত মুখ্যমন্ত্রী জেল খাটছেন। মদকাণ্ডে গত ২১ মার্চ ইডি গ্রেফতার করে কেজরিওয়ালকে।
এদিকে, আদালতের রায় সংক্রান্ত বিষয়ে রাজনৈতিকমহলে তুমুল কৌতুহল তৈরি হয়েছে। আপ সুপ্রিমোকে হাই কোর্ট মঙ্গলবার জামিন দিলে ভোটের ময়দানে তা আম আদমি পার্টির জন্য বড় ধরনের অ্যাডভান্টেজ হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিভিন্ন মহলের চাপের মুখেও কেজরিওয়াল মুখ্যমন্ত্রিত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি। জামিন পেয়ে ফের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে গিয়ে বসলে সেটাও হবে নজিরবিহীন ঘটনা। তিনিই হবেন প্রথম জামিনে মুক্ত মুখ্যমন্ত্রী। সে ক্ষেত্রে জামিনের শর্ত কী হতে পারে তা নিয়েও জল্পনা আছে।
গত সপ্তাহে আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং মদকাণ্ডে জামিন পেয়েছেন। তাঁর ক্ষেত্রে নিম্ন আদালত শর্ত দিয়েছে তিনি রাজধানী এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। আপ সুপ্রিমোর ক্ষেত্রেও আদালত তেমন শর্ত জুড়ে দিলে দিল্লির বাইরে প্রচারে যেতে পারবেন না কেজরিওয়াল।
তবে সব কিছুই নির্ভর করছে মঙ্গলবার আদালত কী রায় দেয় তার উপর। জামিন মঞ্জুর হলে বিজেপির বক্তব্য তৈরিই আছে। সঞ্জয় জামিন পেতেই দিল্লি বিজেপির সভাপতি দেবেন্দ্র সচদেবা বলেছিলেন আপ সাংসদ জামিন পাওয়াতে প্রমাণিত হল কেন্দ্রীয় সরকার ইডি-সিবিআইকে নিয়ন্ত্রণ করে না। আদালত মনে করছে, তাই জামিন পেয়েছেন সঞ্জয়।
কিন্তু কেজরিওয়াল জামিন না পেলে কী হবে? আপাতত তাঁর ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত জেলে থাকার কথা। তারপর নিম্ন আদালত তাঁর জামিনের আবেদন শুনবে। প্রশ্ন হল, ১৫ তারিখের পরও জামিন না পেলে কী করবেন আপ সুপ্রিমো? কতদিন জেল থেকে সরকার চালাবেন?
আপের একটি মহলের বক্তব্য, নির্বাচন চলাকালে সরকারি কাজে মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের ভূমিকা কার্যত জিরো। এই সময় সিদ্ধান্ত যা নেওয়ার অফিসারেরা নেবেন। ফলে জেলে থেকেও খাতায়কলমে মুখ্যমন্ত্রী থাকতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে হেফাজতে থাকতে হবে তখন কী হবে? আপ সূত্রের খবর, তখন অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা। তবে কেজরিওয়াল পদত্যাগ করলে মুখ্যমন্ত্রী হবেন স্ত্রী সুনীতা, এই ব্যাপারে এখন আর তেমন সংশয় নেই।