
শেষ আপডেট: 17 November 2023 10:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারে ধর্মীয় শোভাযাত্রায় কোনও ধরনের অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র বহন করা যাবে না। নীতীশ কুমারের সরকার আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ধর্মীয় শোভাযাত্রাগুলির জন্য উদ্যোক্তাদের তরফে কম করে পঁচিশজনকে আবেদনপত্রের সঙ্গে হলফনামা দিয়ে ঘোষণা করতে হবে কেউ অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র বহন করবে না। সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত শব্দমাত্রা মেনে মাইক ব্যবহার করা হবে এবং অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ, ঘৃণা ছড়ানো হবে না।
বিহার সরকার সব জেলা পুলিশকে জানিয়েছে, এই শর্ত লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। শোভাযাত্রায় অস্ত্র একমাত্র শিখ ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে শর্ত সাপেক্ষে ছাড় থাকবে।
ছট পুজোর শুরুর আগের দিন জারি করা এই নির্দেশ ঘিরে রাজ্যে শোরগোল শুরু হয়েছে। সরকারি সূত্রে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, চলতি বছরে রাজ্যে বেশ কিছু সাম্প্রদায়িক অশান্তির ঘটনা ঘটে। সেগুলির সূত্রপাত হয় বিভিন্ন ধর্মীয় শোভাযাত্রা ঘিরে। কখনও রাম নবমী তো কখনও মহরমের মিছিল ঘিরে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত মাইক্রোফোন শব্দ যন্ত্রণার কারণ হচ্ছে। সেগুলি থেকেই ধর্মীয় ঘৃণা, বিদ্বেষ ছড়ানোর ঘটনাও ঘটেছে।
আগামী দু’দিন ধরে রাজ্যে ছট পুজো চলবে। ছটের শোভাযাত্রা ঘিরেও অশাম্তির একাধিক ঘটনা ইতিপূর্বে ঘটেছে। এছাড়া ডিজের শব্দ তাণ্ডব তো আছেই।
বিহার সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরের বিশেষ সচিব কেএস অনুপম জেলা প্রশাসনকে লেখা চিঠিতে বলেছেন, সরকারের নজরে এসেছে যে ধর্মীয় শোভাযাত্রাগুলি থেকে তারস্বরে মাইক বাজানো এবং অস্ত্র প্রদর্শনের ফলে সাম্প্রদায়িক উত্তজনা তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় তা থেকে বড় ধরনের অশান্তি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, রাজ্য পুলিশের জঙ্গি দমন শাখা ধর্মীয় মিছিলে অস্ত্র নিষিদ্ধ করে নির্দেশিকা জারির জন্য সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছিল। সেই মতো নতুন নির্দেশ জারি হয়েছে। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, পুলিশ যে সব মিছিলের অনুমতি দেবে সেগুলির ভিডিও করা হবে। যাতে গোলমাল, উস্কানির ঘটনায় তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।