
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 16 February 2025 08:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়াদিল্লি রেল স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে মৃত ১৮ জন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সঞ্জয়ের ছোট বোনও। পরিবারসহ মহাকুম্ভে যাওয়ার পরিকল্পনা করলেও ভয়াবহ ভিড়ের চাপে প্রাণ হারান তিনি। সঞ্জয় জানান, দুর্ঘটনার সময় কোনও পুলিশ বা নিরাপত্তাকর্মী ছিল না। এমনকি স্টেশনের বাইরে বোনের দেহ নিয়ে আসতে তাঁকে রেললাইন পার হতে হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সঞ্জয়ের আবেদন— 'আমাদের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা যেন আর কারও সঙ্গে না হয়।'
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় বলেন, 'আমরা ১২ জন মিলে প্রয়াগরাজে যাচ্ছিলাম। আমাদের ট্রেন ছিল রাত ১০টা ১০ মিনিটে— প্রয়াগ এক্সপ্রেস। কিন্তু প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত পৌঁছতেই পারলাম না। যখন ওভারব্রিজ থেকে নামছিলাম, তখনই পেছন থেকে প্রবল ভিড় ধাক্কা দেয়। সামনের কয়েকজন পড়ে যান, এরপর শুরু হয় চরম বিশৃঙ্খলা। আমার বোনসহ অনেকেই সেই ভিড়ে আটকে পড়ে। প্রায় আধঘণ্টা পর আমি ওকে খুঁজে পাই, কিন্তু তখন সব শেষ।'
#WATCH | Stampede at New Delhi railway station | At LNJP hospital, the brother of one of the victims, Sanjay says, "We were 12 people going to Maha Kumbh. We hadn't even reached the platform but were at the stairs... My family, including my sister were stuck in the crowd. We… pic.twitter.com/YzcnurcmdO
— ANI (@ANI) February 16, 2025
সঞ্জয় আরও বলেন, 'আমি সিঁড়ি দিয়ে আগে নেমেছিলাম, কিন্তু আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও মেয়েরা ওপরে আটকে পড়ে। আমি তাদের কোনওরকমে বের করে আনতে পারি। কিন্তু আমার বোনকে যখন খুঁজে পেলাম, তখন সে প্রাণ হারিয়েছে। আমরা সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করি, ওর স্বামী মাউথ-টু-মাউথ রিসাসিটেশনও করেছিল। প্রায় এক ঘণ্টা আমরা চেষ্টা চালাই, কিন্তু কেউ আসেনি সাহায্য করতে। অবশেষে রেললাইন পেরিয়ে স্টেশন থেকে বের হতে হয়। তখনও কোনও পুলিশ বা প্রশাসনের লোক ছিল না।'
ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সঞ্জয় বলেন, 'আহতদের এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে বলে শুনেছি, কিন্তু মৃতদের পরিবারের জন্য কী ঘোষণা করা হয়েছে, তা এখনও জানি না। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে।'