
প্রধানমন্ত্রী মোদী।
শেষ আপডেট: 22 August 2024 09:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’মাস আগে রাজ্যসভায় বিজেপির সদস্য সংখ্যা ১০০-র নিচে নেমে যায়। ফলে সংসদের উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় এনডিএ। বৃহস্পতিবার ফের রাজ্যসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে চলেছে তারা। বিজেপি সূত্রের খবর, রাজ্যসভার পরবর্তী অধিবেশনেই তারা এবার আটকে থাকা বিলগুলি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পাশ করিয়ে নেবে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, বিতর্কিত ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ আইন।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বৃহস্পতিবারের পর মোদী সরকার ফের সাহসের সঙ্গে এগনো শুরু করবে। সংসদের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এবার দ্রুত দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে অগ্রসর হবে তারা। তারমধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি অন্যতম। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ধর্মনিরপেক্ষ দেওয়ানি বিধির কথা বলেছেন। যার অর্থ দেওয়ানি বিধিকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের যে বিশেষ অধিকারের উল্লেখ রয়েছে তার অবসান ঘটানো হবে।
অনেকেই মনে করছেন, রাজ্যসভার অঙ্ক বদলের কথা বিবেচনায় রেখেই প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর মতে, চলতি দেওয়ানি বিধি তোষণের নীতি। প্রসঙ্গত, বিজেপি জন্মলগ্ন থেকেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর পক্ষে। তাদের বক্তব্য, সব ভারতবাসীর জন্য একটাই আইন বলবৎ হওয়া দরকার। চলতি ব্যবস্থায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও কিছু আদিবাসী সম্প্রদায় বিয়ে, বিবাহ বিচ্ছেদ ইত্যাদিতে সম্প্রদায়ের বিধি মেনে চলেন।
রাজ্যসভার ১২টি শূন্য আসনের ভোট নেওয়ার প্রক্রিয়া চালু আছে। ১২ আসনের মধ্যে একমাত্র তেলেঙ্গানার একটি আসন কংগ্রেস পাবে। দল সেখানে প্রার্থী করেছে আইনজীবী নেতা অভিষেক মনু সিঙ্ঘভিকে। বাকি ১১টি আসন পাওয়ার কথা এনডিএ-র। এরমধ্যে নয়টি পাবে বিজেপি। বাকি দুটির একটি মহারাষ্ট্রে অজিত পাওয়ারের এনসিপি এবং আর একটি রাষ্ট্রীয় লোকমঞ্চ পাবে। এই দুই দলই বিজেপির মিত্র।
১২ আসনে ১২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। অর্থাৎ ভোটাভুটি হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার মনোননয়পত্র পরীক্ষা করে দেখা হবে। কোনও ক্রটি-বিচ্যুতি না থাকলে বৃহস্পতিবারই প্রার্থীদের হাতে বিজয়ীর সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হবে।
রাজ্যসভার মোট আসন ২৪৫। বৃহস্পতিবার এনডিএ আরও ১১জন বিজয়ী সাংসদকে ধরলে তাদের সংখ্যা বেড়ে হবে ১২৫। এরপর অক্টোবরের শেষে হবে জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যসভার চারটি আসনের ভোট। বিজেপি সেখান থেকেও আসন প্রত্যাশা করছে। এছাড়া মনোনীত ১২জন সাংসদের চারজন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। বিজেপির পাশে আছেন দুই নির্দল সাংসদও।
অন্যদিকে, বিরোধী ইন্ডিয়া শিবিরের রাজ্যসভায় সাংসদ সংখ্যা এখন ৮৮। জোট শরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, ২৩জন সাংসদ আছে কংগ্রেসের। দ্বিতীয় স্থানে আছে তৃণমূল কংগ্রেস। ওই দলের সাংসদ সংখ্যা ১৩।