
নরেন্দ্র মোদী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 2 April 2024 16:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেফতারি নিয়ে এখনও সরাসরি মন্তব্য করেননি কেন্দ্রের কোনও মন্ত্রী। তবে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিক সভায় দুর্নীতিবাজদের জেলে পাঠানোর পক্ষে সরব হয়েছেন।
ভিন্ন ভিন্ন সভায় এক সুরে মোদী ও শাহ জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ভ্রষ্টাচারীদের জেল হওয়া উচিত কী উচিত নয়? বলাই বাহুল্য বিজেপি সমর্থকেরা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলে গর্জন করেছেন প্রতিটি সভায়। সেই গর্জন শুনে দু’জনেই বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই হল দেশের মানুষের রায়।’
উত্তরাখণ্ড এবং রাজ্যস্থান মিলিয়ে মঙ্গলবার চারটি সভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সভা করেন মধ্যপ্রদেশে। দিল্লি ফেরার আগে উত্তরাখণ্ডের শেষ সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার তৃতীয়বারের সরকার এখন মাত্র মাস দুইয়ের অপেক্ষা। তৃতীয়বার দায়িত্ব নিয়েই ভ্রষ্টাচারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেব।’
মোদী জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘দুর্নীতির অবসান হওয়া উচিত, কী উচিত নয়? দেশকে দুর্নীতি মুক্ত করা উচিত, কী উচিত নয়? দুর্নীতিবাজদের জেলে পাঠানো উচিত, কী উচিত নয়?’ জনতা হ্যাঁ বলতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীরা যতই আমার মুণ্ডপাত করুক না কেন, আমি দমে যাব না। ব্যবস্থা নেবই। এটা মোদীর গ্যারান্টি।’
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার নাম না করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেফতারির সপক্ষে জনমত তৈরি করতে নেমেছেন। লক্ষণীয়, প্রধানমন্ত্রী এই ব্যাপারে রবিবার থেকে সুর চড়াতে শুরু করেছেন। ওইদিন দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিশাল জনসভা করে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। কেজরিওয়ালের গ্রেফতারির প্রতিবাদ ছিল ওই সমাবেশের অন্যতম ইস্যু। মোদী সেদিন উত্তরপ্রদেশের মিরাটের সভায় জবাবদিহির সুরে বলেন, ‘ইডি, সিবিআইকে আমি নিয়ন্ত্রণ করি না। এজেন্সি পুরোপুরি স্বাধীন। আদালতের নির্দেশে ইডি-সিবিআই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে।’
পরদিন সোমবারই ইডির আর্জি মেনে দিল্লির আদালত মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালকে তিহাড় জেলে পাঠিয়েছে। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত জেলে থাকবেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। ১৬ এপ্রিল তাঁর মামলার ফের শুনানি হবে।
মঙ্গলবার মোদী ও শাহ দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্তদের জেলে পাঠানোর সপক্ষে ভিন্ন ভিন্ন সভা থেকে সরব হন। শাহ বিরোধীদের রবিবারের সভা নিয়ে বিদ্রুপের সুরে বলেন, বিরোধীরা বলছে, লোকতন্ত্র বিপন্ন। কিন্তু কীভাবে বিপন্ন বলছে? দেশে তো নির্বাচন হচ্ছে।’ শাহ যোগ করেন, ‘আসলে বিরোধীরা জানেন, শূন্যের সঙ্গে শূন্য জুড়লে শূন্যই হবে।’ শাহের দাবি, ‘মোদীই ফের প্রধানমন্ত্রী হবেন, জনতা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে।’