শাহিদের অভিযোগ, তাঁকে জোর করে “জয় শ্রীরাম” বলতে বাধ্য করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। প্রাণ বাঁচানোর জন্যই বাধ্য হয়ে তিনি সেই স্লোগান দেন বলে দাবি তাঁর। তিনি আরও জানান, তিনি আগেই অসুস্থ ছিলেন।

ঘটনার সময়ের ছবি
শেষ আপডেট: 25 February 2026 17:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দোষের মধ্যে এটাই যে, তিনি মন্দিরের কাছে একটি ফাঁকা জায়গায় নমাজ পড়ছিলেন, তার জেরেই মারধরের শিকার হতে হল এক মুসলিম ব্যক্তিকে (Muslim man assaulted near temple India), এমন এক অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ঘটনাটি উত্তরাখণ্ডের উধম সিং নগর জেলার রুদ্রপুর শহরে ঘটেছে (Uttarakhand Rudrapur namaz assault case)।
উত্তরাখণ্ড পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের (Uttarakhand police FIR assault) হয়েছে যাদের মধ্যে একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং বাকিরা সকল অভিযুক্তই অজ্ঞাতপরিচয়। অভিযোগ, মন্দিরের কাছে একটি খালি জমিতে নমাজ পড়ার সময় ওই ব্যক্তিকে আক্রমণ করা হয় (religious violence investigation)।
ভাইরাল ভিডিওতে হামলার অভিযোগ
মঙ্গলবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নমাজ পড়ার সময় এক ব্যক্তি এগিয়ে এসে মুসলিম ধর্মাবলম্বী ব্যক্তির গলা চেপে ধরে এবং মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর তাঁকে এলোপাথারি লাথি ও চড় মারার পাশাপাশি গালিগালাজ করা হয় এবং “জয় শ্রীরাম” স্লোগান (forced Jai Shri Ram video) দিতে বাধ্য করা হয়।
ভিডিওতে অভিযুক্তকে প্রশ্ন করতে শোনা যায় - মন্দিরের কাছে নমাজ পড়ছেন কেন ওই ব্যক্তি। “জয় শ্রীরাম” উচ্চারণ করার পরেই ভুক্তভোগীকে সেখান থেকে যেতে দেওয়া হয়। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঠিক কী ঘটেছিল?
আক্রান্ত ব্যক্তির নাম মহম্মদ শাহিদ (৪৪), যিনি রেশম বাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তিনি প্রতিদিনের মতো দিনমজুরির কাজে গিয়েছিলেন জগতপুরা এলাকায়। ঘটনাটি ঘটে দুপুর প্রায় ২টো নাগাদ অত্রিয় মন্দিরের কাছে।
কী বলছে পুলিশ
পন্তনগর থানায় অরবিন্দ শর্মা ও অন্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে - স্বেচ্ছায় আঘাত করা, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে অপমানের অভিযোগে।
পুলিশের অপরাধ দমন শাখার সুপারিন্টেন্ডেন্ট জিতেন্দ্র চৌধুরী জানিয়েছেন, আক্রান্ত ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
আক্রান্ত ব্যক্তি শাহিদের দাবি, হামলায় তিনি আহত হয়েছেন। তাঁর কথায়, কয়েকদিন ধরেই তিনি ওই এলাকায় কাজ করতে যাচ্ছিলেন। রমজান মাস হওয়ায় তিনি রোজা রাখছিলেন এবং দুপুরে কাছেই নমাজ পড়তেন। ঘটনার দিন ছিল সেখানে তাঁর নমাজ পড়ার চতুর্থ দিন। তিনি এও জানান, কয়েকজন ব্যক্তি এসে ভিডিও রেকর্ড করতে করতে তাঁর উপর হামলা চালায়। শুধু ভিডিওতে যা দেখা গেছে তা-ই নয়, ভিডিও রেকর্ডিংয়ের পরও লাঠি দিয়ে মারধর চলতে থাকে।
শাহিদের অভিযোগ, তাঁকে জোর করে “জয় শ্রী রাম” বলতে বাধ্য করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। প্রাণ বাঁচানোর জন্যই বাধ্য হয়ে তিনি সেই স্লোগান দেন বলে দাবি তাঁর। তিনি আরও জানান, তিনি আগেই অসুস্থ ছিলেন।
জমির মালিকানা নিয়েও তদন্ত
পুলিশ জানিয়েছে, শুধু হামলার অভিযোগ নয়, যে জমিতে নমাজ পড়া হচ্ছিল, তার মালিকানা সম্পর্কেও তদন্ত করা হবে। এসপি চৌধুরীর কথায়, ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির উপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।