প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই অস্ত্র কারখানা ও মজুত কেন্দ্রগুলির তদারকির দায়িত্বে থাকা তিন জন সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গত বছর আলাদা আলাদা সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 February 2026 19:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছত্তীসগড়ের গরিয়াবন্দ জেলায় মাওবাদীদের (Chhattisgarh Naxals) সংগঠিত শক্তির ওপর বড়সড় আঘাত হানল নিরাপত্তাবাহিনী। ওড়িশা সীমান্তঘেঁষা (Odisha Border) পাহাড়ি এলাকায় টানা ৩৬ ঘণ্টার তল্লাশি অভিযানে ছ’টি পৃথক স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, এই সব জায়গা দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদীদের অস্ত্র মজুত ও নির্মাণের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
গরিয়াবন্দ জেলার মইপুর থানার অন্তর্গত ভালুডিগ্গি ও মেতাল পাহাড়ি এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। জেলা পুলিশের স্পেশ্যাল ই-৩০ ইউনিট, ডিস্ট্রিক্ট রিজ়ার্ভ গার্ড (ডিআরজি) এবং স্থানীয় পুলিশের যৌথ বাহিনী শুক্রবার অভিযান শুরু করে, যা শনিবার পর্যন্ত চলে। পাহাড়ি জঙ্গল ও দুর্গম এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে মাওবাদীদের একাধিক গোপন ডেরা চিহ্নিত করা হয়।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে দুটি ইনসাস রাইফেল, একটি .৩০৩ রাইফেল, একটি দেশি পিস্তল, একটি ‘সুরকা’ বা দেশি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার, দুটি ১২ বোর বন্দুক, দুটি সিঙ্গল শট আগ্নেয়াস্ত্র, ১২৭টি জীবিত কার্তুজ, আটটি ম্যাগাজ়িন এবং ২২টি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার শেল। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক তার, বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ এবং অস্ত্র মেরামতের নানা সরঞ্জামও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এগুলি মাওবাদীদের টেকনিক্যাল টিমের অস্ত্রশালায় ব্যবহার করা হত।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই অস্ত্র কারখানা ও মজুত কেন্দ্রগুলির তদারকির দায়িত্বে থাকা তিন জন সিপিআই (Maoists)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গত বছর আলাদা আলাদা সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। তাঁদের নেতৃত্বেই এই এলাকায় আইইডি তৈরি, দেশি অস্ত্র নির্মাণ এবং স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র মেরামতের কাজ চলত।
এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে গত দেড় বছর ধরে চলা ‘অপারেশন বিরাট’-এর (Operation Virat)। পুলিশ সূত্রে দাবি, ধামতরি–গরিয়াবন্দ–নুয়াপাড়া ডিভিশনে সক্রিয় থাকা প্রায় সমস্ত মাওবাদী হয় আত্মসমর্পণ করেছে, নয়তো ২৬ জানুয়ারির আগেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। ফলে এই অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের পর এলাকায় নতুন করে মাওবাদী হিংসা ছড়ানোর সম্ভাবনা কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমেছে বলে পুলিশের দাবি।
এদিকে, একই দিনে ছত্তীসগড়ের বস্তার ডিভিশনে আত্মসমর্পণের নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। বিজাপুর ও সুকমা জেলায় মোট ৫১ জন মাওবাদী একযোগে আত্মসমর্পণ করেন, যাঁদের মধ্যে ৩৪ জন মহিলা। তাঁদের মাথার উপর ঘোষিত মোট পুরস্কারের অঙ্ক ছিল ১ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা। বস্তার রেঞ্জের আইজি সুন্দররাজ পত্তিলিঙ্গম জানান, রাজ্য সরকারের ‘পুনা মার্গম’ পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় তাঁদের সমাজের মূল স্রোতে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গরিয়াবন্দ জেলায় মাওবাদীদের কাছ থেকে ২৮টি স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র-সহ মোট ৫৭টি অস্ত্র, শতাধিক মিটার কর্ডেক্স তার, ২৪০টি বৈদ্যুতিক ডিটোনেটর, ১৭টি নন-ইলেকট্রিক ডিটোনেটর এবং সাতটি আইইডি উদ্ধার হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত সময়সীমার আগে মাওবাদ দমনে এক দিকে যেমন ধারাবাহিক অভিযান চলছে, তেমনই আত্মসমর্পণের এই প্রবণতাও প্রশাসনের কাছে বড় সাফল্য বলেই মনে করা হচ্ছে।