
কুম্ভমেলা
শেষ আপডেট: 13 January 2025 13:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রয়াগরাজে শুরু হয়েছে কুম্ভমেলা। শুধু ভারত নয়, সারা বিশ্ব থেকে লাখো ভক্ত, পুণ্যার্থী, সাধুসন্ত এবং পর্যটকেরা পাড়ি জমাচ্ছেন এই মেলায়। পৃথবীর অন্যতম বড় আয়োজন, বড় সমাবেশ মহাকুম্ভ। বারো বছর পরপর যা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পৌষ পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে শাহী স্নান সারতে ঘাটে ঘাটে উপচে পড়ছে ভিড়। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, আজ (সোমবার) মেলার প্রথম দিন সকাল আটটায় ত্রিবেণি সঙ্গমে জলে ডুব দিয়েছেন প্রায় ৬০ লাখ পূণ্যার্থী!
কিন্তু ভক্তদের ভক্তি প্রদর্শনের এই অবাধ উৎসার, এর পেছনের কারণ কি শুধুমাত্র পূণ্যার্জন? নাকি নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে প্রাচীন ভারতের বিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিদ্যার কোনও অজানা কাহিনি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়াগের এই ত্রিবেণি সঙ্গম আসলে শুধুমাত্র গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতীর মিলনক্ষেত্র নয়। এর মধ্যে ভারতের জ্যোতির্বিদা ও মানব শরীরের নিগূঢ় সম্পর্কও বিম্বিত হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বৃহস্পতি-শনি-মঙ্গলের পারস্পরিক বিন্যাস পৃথিবীর তড়িৎচুম্বকীয় ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে। আর এই প্রভাবেই মানবশরীরের বিভিন্ন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়। বাইরে সৃষ্টি হওয়া ‘ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডে’র উদ্দেশে স্নানে আসা পুণ্যার্থীদের তড়িৎচুম্বকীয় শক্তি বিকিরিত হয়। এই বিকিরণ সমাগত ভক্তের শরীর ও মনকে হাল্কা করে। তাই সঙ্গমস্নান সেরে পুণ্যার্থীরা যে অনেক বেশি ‘প্রশান্তি’ ও ‘স্বস্তি’ অনুভব করেন বলে বিশ্বাস করা হয়, তা নিছক ‘মানসিক’ নয়, ‘বৈজ্ঞানিক’-ও বটে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতি গ্রহ এই মেলার দিনক্ষণ নির্ণয়ে বড় ভূমিকা নেয়। চাঁদ ও সূর্যের সঙ্গে বৃহস্পতির অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ। এরা একসারিতে এলে, মনে করা হয়, পৃথিবীর তড়িৎচুম্বকীয় ক্ষেত্রের প্রাবল্য বাড়ে। আগের বছর, ৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতি উল্টো দিকে চলে এসেছিল। তারপর থেকে শুক্র, শনি ও মঙ্গলের পাশাপাশি এই গ্রহটিকেও উজ্জ্বল আভায় আকাশে জ্বলতে দেখা যাচ্ছে।
চলতি মাস জুড়ে চার গ্রহের এই আশ্চর্য ঔজ্জ্বল্য দেখা যাবে বলে মত জ্যোতির্বিদদের। কুম্ভমেলার এই ‘কসমিক প্রভাব’ নিয়ে প্রাচীন ভারতে বরাবর চর্চা হয়ে এসেছে। শুধুমাত্র বছরের এই মাহেন্দ্রক্ষণ কিংবা গ্রহযোগ নয়, স্থানমাহাত্ম্যকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতীর এই মিলনভূমিতেই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূচুম্বকীয় শক্তিক্ষেত্র জন্মায়। যার ফলে ধর্মীয় ভাব-অনুভাব জোরালোভাবে বিকিরিত হয়। মহাকুম্ভের এই বিকিরণ গায়ে মাখতে তাই আজ থেকে ভক্তের ঢল নেমেছে।