
শেষ আপডেট: 9 November 2023 19:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র দু' সপ্তাহ আগে সন্তানের জন্ম দিয়েছে স্ত্রী। কিন্তু স্বামীর সন্দেহ সেই সন্তান তার নয়। তার বদ্ধমূল ধারণা, স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কারও সম্পর্ক রয়েছে। সেই নিয়েই কথা কাটাকাটি। আর তারপরেই শ্বশুরবাড়িতে ঢুকে গিয়ে শ্বাসরোধ করে স্ত্রীকে খুন করল পুলিশকর্মী স্বামী।
ঘটনাটি কর্নাটকের বেঙ্গালুরুর। অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর নাম ডি কিশোর। ৩২ বছর বয়সি কিশোর চামরাজানগরের বাসিন্দা। গত বছরের নভেম্বর মাসে তার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল কোলার জেলার বীরাপুরা এলাকার বাসিন্দা প্রতিভা নামে ২২ বছরের তরুণীর।
সপ্তাহ দুয়েক আগে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন প্রতিভা। তারপর থেকে বাপের বাড়িতেই থাকছিলেন তিনি। তাঁর বাড়ির লোক জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে প্রতিভার উপর নির্যাতন করত কিশোর। সন্দেহ করত, স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কারও সম্পর্ক রয়েছে। ছেলে হওয়ার পর সেই সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়েছিল তার।
প্রতিভার বাবা জানিয়েছেন, গত সোমবার কিশোরের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন তাঁর মেয়ে। তখন দুজনের মধ্যে এক প্রস্থ কথা কাটাকাটি হয়। অবস্থা এমনই হয় যে কাঁদতে কাঁদতে ফোন কেটে দেন প্রতিভা। সদ্যোজাত সন্তানের উপর এর প্রভাব পড়তে পারে অনুমান করে তাঁর মা উপদেশ দেন আপাতত কয়েকদিন কিশোরের ফোন না ধরার জন্য।
পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রতিভা ফোন হাতে নিয়েই দেখেন, কিশোরের নম্বর থেকে ১৫০টি মিসড কল। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্বশুরবাড়িতে এসে স্ত্রীর উপর চড়াও হয় ওই পুলিশকর্মী। প্রতিভার মা তখন ছাদে ছিলেন। একরত্তি ছেলেকে নিয়ে ঘরে একাই ছিলেন তরুণী। তখন জোর করে তাঁকে টানতে টানতে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে বন্ধ করে দেয় কিশোর। তারপর শ্বাসরোধ করে খুন করে। পালানোর আগে সে শাশুড়িকে বলে যায়, 'আমি ওকে মেরে ফেলেছি!'
ঘটনার পর কান্নায় ভেঙে পড়েছে প্রতিভার পরিবার। তাঁর বাবা জানিয়েছেন, মেয়ে ভাল থাকবে ভেবে পুলিশকর্মী যুবকের সঙ্গে সম্বন্ধ করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই প্রতিভার উপর নির্যাতন চলত। যদিও অবস্থা এমনই হবে যে মেয়েকে চিরতরে হারাতে হবে সে কথা স্বপ্নেও কল্পনা করেননি কেউ।
ঘটনায় ইতিমধ্যেই থানায় কিশোরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁরা। অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ৩ জনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।