Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
পদ খোয়ানোর পর এবার নিরাপত্তা! রাঘব চাড্ডার Z+ সুরক্ষা তুলে নিল পাঞ্জাব সরকার, তুঙ্গে জল্পনাফাঁকা স্টেডিয়ামে পিএসএলের আড়ালে ভারতের জ্বালানি সঙ্কট! নকভির ‘যুক্তি’তে হতভম্ব সাংবাদিকভোটের রেজাল্টে পর ফের ডিএ মামলার শুনানি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট! ৬০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, জানাল রাজ্যহরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের দাপট! মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ফিরল বিদেশী ট্যাঙ্কারTCS Case: প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর টাকার টোপ! টিসিএসের অফিসে কীভাবে টার্গেট করা হত কর্মীদের‘ফোর্স ৩’ শুটিং জোরকদমে, পুরনো চরিত্রে ফিরছেন জন— নতুন চমক কারা?'মমতা চান না গোর্খারা শান্তিতে থাকুন, অধিকার ফিরে পান', দার্জিলিঙে ভিডিওবার্তা অমিত শাহেরগ্রাহকের পকেট বাঁচাতে ভারি খেসারত দিচ্ছে তেল কোম্পানিগুলি! প্রতিদিন লোকসান ১,৬০০ কোটিরইচ্ছেশক্তির বারুদে আগুন ধরাল ধোনির পেপ টক! নাইটদের বিঁধে দুরন্ত কামব্যাক নুর আহমেদেরময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসকে হত্যার প্রধান আসামিকে ১ বছরের অন্তর্বর্তী জামিন, কাঠগড়ায় বিচারপতি

মোদীকে ঠেকাতে 'দক্ষিণী জোট!' দিল্লিতে ধর্নায় কেরল কর্ণাটক, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীরা

উত্তর  ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ক তুলে ধরতেও মরিয়া প্রধানমন্ত্রী।

মোদীকে ঠেকাতে 'দক্ষিণী জোট!' দিল্লিতে ধর্নায় কেরল কর্ণাটক, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীরা

শেষ আপডেট: 5 February 2024 10:36

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অযোধ্যার রাম মন্দিরকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা ভোটে দক্ষিণ ভারত বিজয়ের পরিকল্পনা এখন আর গোপন নেই। এজন্য উত্তর  ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ক তুলে ধরতেও মরিয়া প্রধানমন্ত্রী। ঘন ঘন দক্ষিণ ভারত সফর করেছেন তিনি। 

অন্যদিকে কর্ণাটকের একমাত্র কংগ্রেস সাংসদ ডিকে সুরেশের পৃথক দক্ষিণ ভারত রাষ্ট্রের দাবি ঘিরে রাজনীতি সরগরম। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদকে উস্কাসি দেওয়ার অভিযোগে পথে নেমেছে কর্ণাটক বিজেপি। দক্ষিণের বাকি রাজ্যগুলিতেও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এই ইস্যুতে পথে নামতে চলেছে গেরুয়া শিবির। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনের পুত্র দয়ানিধির সনাতন ধর্ম বিরোধী মন্তব্য নিয়ে পদ্ম শিবির গোটা দক্ষিণ ভারত জুড়ে হিন্দু ধর্ম বিপন্ন বলে প্রচার চালাচ্ছে। এবার কর্ণাটকের কংগ্রেস বিধায়কের বক্তব্য তাদের  হাতে নয়া অস্ত্র তুলে দিয়েছে, মনে করছে গেরুয়া শিবির। 

কাকতালীয়ভাবে এই সময়ই দিল্লিতে রাজ্যের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ নিয়ে ধর্নায় বসতে চলেছেন দক্ষিণের তিন অবিজেপি মুখ্যমন্ত্রী। আগামী বুধবার ধর্নায় বসবেন কেরলের সিপিএম মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। তাঁর সঙ্গী হচ্ছেন গোটা মন্ত্রিসভা এবং এলডিএফ বিধায়ক দল। পরদিন বৃহস্পতিবার ধর্নায় বসবেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং তেলেঙ্গানার রেবন্ত রেড্ডি। 

এই সুযোগে দক্ষিণের রাজ্যগুলিকে নিয়ে অর্থনীতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা। এই ব্যাপারে পূর্ব ভারতে পশ্চিমবঙ্গের মতো দক্ষিণে কর্ণাটকের আন্দোলনের অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলায় জ্যোতি বসুর মতো কর্ণাটকে এই ব্যাপারে সক্রিয় ছিলেন রামকৃষ হেগরে, এস আর বোম্মাইরা। যদিও তাঁদের লড়াই ছিল কেন্দ্রের তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে। মোদী জমানায় সেই কাজে এগিয়ে এসেছেন কংগ্রেস নেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া।

মুখ্যমন্ত্রীর আর্থিক উপদেষ্টা বাসবরাজ রায়ারেডি দক্ষিণের রাজ্যগুলির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। চলতি সপ্তাহেই মুখ্যমন্ত্রীদের আর্থিক উপদেষ্টাদের বৈঠকের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। 

২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনের আগের দিন তামিলনাড়ুর এক মন্দিরে নরেন্দ্র মোদী।


কংগ্রেস সূত্রে খবর, দলের সাংসদ সুরেশ কোন পরিস্থিতিতে পৃথক দক্ষিণ রাষ্ট্রের কথা বলেছেন, তথ্য পরিসংখ্যান দিয়ে তা তুলে ধরা হবে। দক্ষিণ ভারত থেকে কেন্দ্রীয় সরকার যে বিপুল রাজস্ব আদায় করে তার সামান্যই রাজ্যগুলি ফেরত পায়। রাজস্ব ভাগ বাটোয়ারার কাজ করে থাকে অর্থ কমিশন। অথচ কমিশনের বিচার্য ঠিক করার সময় রাজ্যগুলির মতামত নেওয়া হয় না। এই সমস্ত বিষয়ে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির দাবিদাওয়া একত্রে দিল্লির দরবারে তুলে ধরাই জোট গঠনের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন কর্ণাটকের উপ মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডিকে শিবকুমার। 

দক্ষিণের রাজ্যগুলিকে নিয়ে অর্থনীতিক জোট গঠনের প্রস্তাব উদ্যোগ একেবারে নতুন নয়। ২০১৮ তে এই ব্যাপারে যৌথভাবে অগ্রসর হয়েছিলেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং কর্ণাটকের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। সে বছর কর্ণাটকে কংগ্রেস ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আলোচনা আর এগোয়নি। এখন নরেন্দ্র মোদী লোকসভা ভোটে দক্ষিণ বিজয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ায় কংগ্রেস পাল্টা বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের সময়ে দক্ষিণ ভারতের প্রতি বঞ্চনা নিয়ে সরব হতে চাইছে। 

শিবকুমার জানান, দক্ষিণের রাজ্যগুলির অর্থনীতিক জোটে তাঁরা বিজেপি এবং জেডিইউ-কেও আমন্ত্রণ জানাবেন। দক্ষিণের বাকি রাজ্যগুলিতেও সব দলকে শামিল করতে বলা হয়েছে। কারণ, এই জোট রাজ্যগুলির আর্থিক স্বার্থ নিয়ে লড়াই করবে। এটা কোনও নির্বাচনী জোট নয়।

কংগ্রেস সূত্রে খবর, বুধ-বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এই বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করতে পারেন তিন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া, বিজয়ন এবং রেবন্ত রেড্ডি। তিন মুখ্যমন্ত্রীই রাজ্যের দাবি নিয়ে দিল্লি অভিযানে যাচ্ছেন। বাংলার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো তাঁদেরও অভিযোগ, দিল্লি প্রাপ্য অর্থ দিচ্ছে না। ফলে রাজ্য সরকারগুলি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যথ হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে সরকারকে বিপাকে ফেলতে চাইছে। যেমন, কর্ণাটক সরকার অন্নভোগ প্রকল্পে নিখরচায় মাসে দশ কেজি করে চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতেই কেন্দ্রের সংস্থা এফসিআই চালের কোটা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে রাজ্য সরকার নগদ টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছে।


```