
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 22 March 2025 14:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি হাইকোর্টের (Delhi High Court) বিচারপতি যশবন্ত বর্মার বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা উদ্ধার হয় মঙ্গলবার। ঘর ভর্তি নোটের বান্ডিল মেলে। এই ঘটনায় দিল্লি হাইকোর্টের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির নির্দেশে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর শনিবার সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যাচ্ছে, সিবিআইয়ের নজরে ছিলেন বিচারপতি।
সূত্র বলছে, ২০১৮ সালে সিম্ভাউলি সুগার মিলসের বিরুদ্ধে এক ব্যাঙ্ক জালিয়াতির মামলায় সিবিআই একটি এফআইআর দায়ের করেছিল। তাতে নাম জড়িয়েছিল বিচারপতি বর্মার। আসলে তখন তিনি ওই সংস্থার নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ছিলেন। অভিযোগ, ওরিয়েন্টাল ব্যাঙ্ক অফ কমার্স (OBC)-এর ১৪৮.৫৯ কোটি টাকার কৃষি ঋণ প্রকল্পকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করে সংস্থাটি।
ব্যাঙ্কের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১২ সালে ৫,৭৬২ জন কৃষকের জন্য ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছিল, যা একটি এসক্রো অ্যাকাউন্ট হয়ে কৃষকদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে যাওয়ার কথা ছিল। সিম্ভাউলি সুগার মিলসের গ্যারেন্টার হিসেবে ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব নেয়, কিন্তু পরে ব্যাঙ্ককে প্রতারণা করে। ২০১৫ সালে OBC ব্যাঙ্ক এই ঋণকে জালিয়াতি বলে ঘোষণা করে, যার ফলে ৯৭.৮৫ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়ে ব্যাঙ্ক।
এই মামলায় আরেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলেন গুরপাল সিং, যিনি সংস্থার ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে ছিলেন। তৎকালীন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংয়ের জামাই তিনি। সিবিআই তদন্তের পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) জালিয়াতির মামলা রুজু করে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে, এলাহাবাদ হাইকোর্ট সাতটি ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, এই প্রতারণার ঘটনা বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট করেছে। তদন্তে উঠে আসে, সিম্ভাউলি সুগার মিলস মোট ৯০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল, যার মধ্যে শুধুমাত্র ওবিসি ব্যাঙ্কই ইডির কাছে অভিযোগ জানিয়েছিল।
কারা এই ঋণ অনুমোদন করেছিল? ব্যাঙ্কের কোন কর্তারা এই প্রতারণার কাজে জড়িত ছিলেন? কোন সদস্য বা পরিচালকমণ্ডলী এর সুবিধা নিয়েছিল। আদালত সিবিআইকে এই দিকগুলি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়।
সিবিআই নতুন করে ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ তদন্ত শুরু করে। মার্চে সুপ্রিম কোর্ট এলাহাবাদ হাইকোর্টের তদন্তের নির্দেশ স্থগিত রাখে। এর ঠিক পরে চলতি বছর বিচারপতি যশবন্ত বর্মার বাসভবনে আগুন লাগে, প্রায় ১৫ কোটি টারা উদ্ধারের অভিযোগ ওঠে। ঘটনা জানার পর, সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলির সিদ্ধান্ত নেয়।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের তরফে প্রতিবাদে জানানো হয়, এই হাইকোর্ট আঁস্তকুড় নয়। বিচারপতি বর্মাকে ফেরানো হবে না।
তবে কয়েকজন বিচারপতি আবার মনে করেন, শুধু বদলি যথেষ্ট নয়, নিজের সম্মান বজায় রাখতে বিচারপতি বর্মার পদত্যাগ করা উচিত। তাঁদের দাবি, যশবন্ত বর্মাকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে হবে। যদি তিনি ইস্তফা না দেন, তবে সংসদে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে।