পুলিশ জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে ক্যাম্পাসের বাইরে কোনও বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ছাত্রদের ক্যাম্পাসের মধ্যেই বিক্ষোভ সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়। তবুও প্রায় ৪০০-৫০০ ছাত্র জড়ো হয়ে বিকেল ৩টা ২০ নাগাদ মূল গেট দিয়ে বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করে।

শেষ আপডেট: 27 February 2026 09:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (Jawaharlal Nehru University)-তে ছাত্র সংগঠনের ডাকা ‘লং মার্চ’ (JNUSU long march) ঘিরে বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় (JNU protest clash)। মিছিলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে উভয় পক্ষেরই একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে পাল্টা অভিযোগের পালা। পুলিশ বলছে, বিক্ষোভকারীরা হামলা চালিয়েছে, অন্যদিকে ছাত্রদের দাবি, পুলিশের তরফেই অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা লাঠি, ব্যানার, এমনকি জুতো ছুড়ে মারে এবং শারীরিকভাবে আক্রমণ করে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন। ধস্তাধস্তির সময় কিছু পুলিশকর্মীকে “কামড়ে দেওয়া” হয়েছে বলেও দাবি পুলিশের (JNU violence)।
অন্যদিকে, ছাত্রদের অভিযোগ, পুলিশ অযথা বলপ্রয়োগ করেছে, যার ফলে বহু ছাত্র আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠনও দাবি করেছে, কিছু ছাত্রকে “অজ্ঞাত স্থানে” নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কেন এই মিছিল?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেএনইউ ছাত্র সংসদ একটি ‘লং মার্চ’-এর ডাক দিয়েছিল, যা ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষা মন্ত্রকের দফতর পর্যন্ত যাওয়ার কথা ছিল।
এই বিক্ষোভের মূল কারণ উপাচার্য শান্তিশ্রী ধুলিপুদি পণ্ডিতের সাম্প্রতিক এক পডকাস্টে করা মন্তব্য, ইউজিসি-র নিয়ম প্রয়োগ, ছাত্র সংসদের পদাধিকারীদের বহিষ্কার এবং প্রস্তাবিত ‘রোহিত অ্যাক্ট’ নিয়ে ক্ষোভ।
গেটেই বাধা, শুরু সংঘর্ষ
পুলিশ জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে ক্যাম্পাসের বাইরে কোনও বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ছাত্রদের ক্যাম্পাসের মধ্যেই বিক্ষোভ সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়।
তবুও প্রায় ৪০০-৫০০ ছাত্র জড়ো হয়ে বিকেল ৩টা ২০ নাগাদ মূল গেট দিয়ে বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করে। সেখানেই পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষ বাধে।
পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করে এবং আক্রমণাত্মক আচরণ করে। এরপর পুলিশ তাদের উত্তর গেটের কাছে থামিয়ে ধীরে ধীরে ক্যাম্পাসের ভিতরে ঠেলে দেয়।
ছাত্রনেতা আটক, পাল্টা ক্ষোভ
এই ঘটনায় জেএনইউ ছাত্র সংসদের সভাপতি আদিতি মিশ্র, প্রাক্তন সভাপতি নীতীশ কুমার-সহ একাধিক ছাত্রকে আটক করা হয়েছে।
ছাত্র সংগঠনের অভিযোগ, পুলিশের অভিযানে বি.আর. আম্বেদকরের প্রতিকৃতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ালেও তার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষক সংগঠনের ক্ষোভ
জেএনইউ শিক্ষক অ্যাসোসিয়েশন বা জেএনইউটিএ (JNU Teachers Association) পুলিশের “নির্মম বলপ্রয়োগ”-এর তীব্র নিন্দা করেছে। তাদের দাবি, বহু ছাত্র-ছাত্রী, বিশেষ করে মহিলারা আহত হয়েছেন।
তারা আরও অভিযোগ করেছে, এই পুলিশি পদক্ষেপ ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে। আটক ছাত্রদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিও জানিয়েছে তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাল্টা বক্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ছাত্র সংসদ ইউজিসি-র যে নিয়মগুলি কার্যকর করার দাবি তুলছে, তা সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশের বিরোধী।
তাদের বক্তব্য, উপাচার্য বা রেজিস্ট্রারের এ বিষয়ে কোনও ক্ষমতা নেই। পাশাপাশি, ক্যাম্পাসে “হিংসা ও ভাঙচুর”-এর অভিযোগে যেসব ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে, সেই মূল বিষয় থেকে নজর ঘোরাতেই এই বিক্ষোভ হচ্ছে বলে দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তদন্তের পরই অভিযুক্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় আরও জানায়, “জেএনইউ একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। তাই সরকার, সংসদ এবং করদাতাদের কাছে দায়বদ্ধ। এক জন মহিলা ওবিসি উপাচার্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে আসল ইস্যু থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা দুর্ভাগ্যজনক।”