.webp)
শেষ আপডেট: 4 March 2024 16:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নরেন্দ্র মোদীর কথায়, দুর্নীতি আর পরিবারতন্ত্র দেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় বিপদ। এই দুই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রতিবারই নিশানা করেন লালুপ্রসাদ যাদবকে। শনিবার বিহারের ঔরঙ্গাবাদ এবং বেগুসরাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা তার ব্যতিক্রম ছিল না। মোদীর সেই আক্রমণের কড়া জবাব লালুপ্রসাদ দিয়েছেন পাটনার গান্ধী ময়দানের সভা থেকে।
বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আরজেডি সুপ্রিমো লালু প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু পরিচয় নিয়েই প্রশ্ন তোলেন গোড়ায়। বলেন, আপনি কেমন হিন্দু। আপনার মা মারা গেলেন। অথচ আপনি চুল দাড়ি কাটলেন না। এটা তো হিন্দুদের ন্যূনতম রীতি। বাবা-মা, পরিবারের কেউ মারা গেলে শোকে চুল দাড়ি কেটে ফেলতে হয়।
এর পরই আরজেডি সুপ্রিমো সরব হন পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, 'ইদানীং আপনি কথায় কথায়, পরিবারবাদী, পরিবারবাদী বলে চিৎকার করছেন। বিশেষ করে যে নেতাদের অনেকগুলি করে সন্তান আছে।' লালুর সাফ কথা, 'রাজনৈতিক পরিবারের ছেলেমেয়েরা রাজনীতিতে আসবে, এটাই তো স্বাভাবিক। আপনার কোনও সন্তান নেই। তাতে আমরা কি করতে পারি!'
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী মোদী বিবাহিত হলেও কোনও দিনই তিনি সংসার করেননি। স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নেই। বস্তুত, তিনি যে বিবাহিত, ২০১৪- র লোকসভা ভোটের আগে পর্যন্ত সরকারিভাবে তা জানাননি নরেন্দ্র মোদী। সেবার ভোটের হলফনামায় তিনি বিয়ের কথা উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, লালুপ্রসাদের নয় সন্তান। সরকারের জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিধি উপেক্ষা করার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন নানা সময়ে। বলেছেন, জরুরি অবস্থার সময় ইন্দিরা গান্ধী, সঞ্জয় গান্ধীর জবরদস্তি নাশবন্দি করিয়ে পুরুষদের সন্তানের জন্ম দেওয়ার সুযোগ কেড়ে নিয়েছিলেন। ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নয় সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন।
বলে রাখা ভাল, জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে লালুপ্রসাদের আন্দোলনে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এবং বিজেপি নেতা সুশীল মোদী। নীতীশ এক সন্তানের পিতা। তাঁর পুত্র রাজনীতির ধারেকাছে নেই। তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবেও পুরোপুরি সুস্থ নন। অন্যদিকে, নরেন্দ্র মোদীর মতো বিহারের সুশীল মোদীও নিঃসন্তান। তবে বিহারের মোদী পুরোদস্তুর সংসারী মানুষ। তাঁর স্ত্রী খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। পেশায় ছিলেন নার্স।